ফের শুরু হচ্ছে ভিয়েনা আলোচনা
কিঞ্চিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা স্রেফ ধোঁকাবাজি: বিশ্লেষক
-
ফাইল ফটো
ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে ভিয়েনায় শুরু হওয়া অষ্টম দফা আলোচনা কিছুদিন বিরতির পর আজ থেকে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে।
সরাসরি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো অর্থাৎ ইরান, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও বাইরে থেকে সংলাপে যুক্ত আমেরিকার প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি যে যার দেশে ফিরে যান। ভিয়েনায় ফের আজ থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার সম্ভাব্য ফিরে আসার উপায়, নতুন করে অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং এ থেকে সবার উপকৃত হবার বিষয়ে কথাবার্তা হবে।
ভিয়েনা সংলাপে যোগ দেয়া রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ নতুন করে আলোচনা শুরু করা প্রসঙ্গে বলেছেন, 'ধারণা করা হচ্ছে এটাই চূড়ান্ত পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে যেখানে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছা এবং ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য সবারই আন্তরিক প্রচেষ্টা জরুরি'।
এদিকে, ভিয়েনায় আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরমাণু ইস্যুতে ইরান বিরোধী কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের এ ঘোষণাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলে ধরে এটাকে চলমান আলোচনাকে গতিশীল করার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকার এ ঘোষণায় ইরানের অর্থনীতিতে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই সংলাপের ব্যাপারে আমেরিকা আন্তরিক সে কথা বলার সময় এখনো আসেনি। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সরকার কিঞ্চিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও ইরানের আসল দাবি অর্থাৎ অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায় এবং সত্যিই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো কিনা তা যাচাই করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
ইরানের সাবেক কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবুল ফজল যোহরেবান্দ কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার বিষয়ে আমেরিকার এ পদক্ষেপকে ইরানের আলোচক দলের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্বিক চাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, এটা আমেরিকার পক্ষ থেকে স্রেফ ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় এবং তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামান্য কিছু ছাড় দিয়ে পরমাণু আলোচনায় ফিরে আসা।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া এবং সত্যিই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো কিনা তা নিশ্চিত না হয়ে নতুন কোনো সমঝোতায় যাবে না ইরান। এরই ভিত্তিতে ইরানের আলোচক দল শুরু থেকেই বলিষ্ঠভাবে নিজের অবস্থানে অটল থেকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংলাপের সাফল্য নির্ভর করবে ইরানের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করা হলো তার ওপর। বলা যায় ইরানের পক্ষ থেকে আন্তরিক ও বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণেই সংলাপ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের আলী শামখানি বলেছেন, সংলাপ এগিয়ে গেলেও এবং অনেক আশার বাণী শোনা গেলেও এখনো প্রতিপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে বহু দূরে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোত্তম রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।