আন্তর্জাতিক সমাজের নীতি পরমাণু ক্ষেত্রে বর্ণবাদী আচরণের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i109094-আন্তর্জাতিক_সমাজের_নীতি_পরমাণু_ক্ষেত্রে_বর্ণবাদী_আচরণের_দৃষ্টান্ত_হয়ে_থাকবে
ইরান ও ইসরাইলের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি পরমাণু ক্ষেত্রে বর্ণবাদী আচরণের আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুন ১১, ২০২২ ১৩:২৩ Asia/Dhaka
  • আন্তর্জাতিক সমাজের নীতি পরমাণু ক্ষেত্রে বর্ণবাদী আচরণের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

ইরান ও ইসরাইলের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি পরমাণু ক্ষেত্রে বর্ণবাদী আচরণের আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানই প্রথম প্রস্তাব তুলে ধরেছিল এবং পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তির সদস্য হিসেবে ইরান আইএইএকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। এমনকি পরমাণু কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ সে বিষয়টি প্রমাণের জন্য ইরান এনপিটি চুক্তির বাইরেও অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও ইরানের ব্যাপারে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক খেল তামাশা চালিয়ে যাচ্ছে পাশ্চাত্যের দেশগুলো। পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে ইরান সদিচ্ছার প্রমাণ দিলেও পাশ্চাত্য ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার পাশাপাশি পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনে উল্টো ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করে আসছে।     

অন্যদিকে, দখলদার ইসরাইল বহু বছর ধরে গোপনে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা এনপিটি চুক্তিতেও সই করেনি এবং তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তদারকিরও অনুমতি দিচ্ছে না। তারপরও জাতিসংঘসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো এমনকি পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও ইসরাইলের ব্যাপারে কোনো কথাই বলছে না। এসব গণমাধ্যম উল্টো ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে এমনভাবে খবর প্রচার করছে যেন ইসরাইল সমস্ত চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি পালন করছে। এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অন্য দেশের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে ইসরাইল মতামত দেয়ার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। বলা যায়, ইসরাইল অনেকটা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পর্যবেক্ষক কমিটির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

প্রকৃতপক্ষে, আইএইএ ইসরাইলের গোপন পরমাণু কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি পরমাণু ক্ষেত্রে বর্ণবাদী আচরণের বিস্তার ঘটাতে সহযোগিতা করছে। আইএইএ ইরানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ব্যাপারে যে আচরণ করছে সেই একই আচরণ যদি তারা ইসরাইলের সাথেও করতো তাহলে আজ পশ্চিম এশিয়া জুড়ে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা দেখতে হতো না। আন্তর্জাতিক সমাজের নির্লিপ্ততার সুযোগে ইসরাইলের বেপরোয়া নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। 

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসরাইল পশ্চিম এশিয়ায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে তা পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। এর ফলে সাত দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ফিলিস্তিন সংকটের আজো কোনো সুরাহা হয়নি। এমনকি ইসরাইল ফিলিস্তিন সংকট মধ্যপ্রাচ্যের অন্যত্রও ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।  এভাবে ইসরাইল একের পর এক আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে গেলেও আন্তর্জাতিক সমাজ ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইসরাইলের বেআইনি পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। ফলে ইসরাইল দিনকে দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং ইরানের ব্যাপারে তারা নীতি ঠিক করে দিচ্ছে যা চরম ঔদ্ধত্যপনা। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।