ফিলিস্তিনিদের ইরানের অভিনন্দন; 'অপরাধী নেতাদের শাস্তির জন্য বিশ্বকে প্রস্তুতি নিতে হবে'
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জনের জন্য প্রতিরোধকামী জনগণ এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ এবং এ অঞ্চল ও বিশ্বের সকল প্রতিরোধ শক্তির সমর্থক ও ভক্তদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। এই সফলতা মহান ফিলিস্তিনি জনগণের অতুলনীয় প্রতিরোধ,দৃঢ়তা সাহসিকতা এবং কঠিন পরিস্থিতির মুখে টিকে থাকার ধৈর্যের ফসল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করেছে। পার্সটুডে অনুসারে এই বিবৃতি নীচে দেয়া হল:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জনের জন্য প্রতিরোধীকামী জনগণ এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধক এবং এ অঞ্চল ও বিশ্বের সকল প্রতিরোধ শক্তির সমর্থক ও ভক্তদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। এই সফলতা মহান ফিলিস্তিনি জনগণের অতুলনীয় প্রতিরোধ,দৃঢ়তা, সাহসিকতা এবং কঠিন পরিস্থিতির মুখে টিকে থাকার ধৈর্যের ফসল। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে সম্মানজনক ও অবিচল প্রতিরোধকে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে দখলদার ও গণহত্যাকারী ইসরাইলি সরকার মৌলিক আন্তর্জাতিক নীতি ও নিয়ম,মানবাধিকার এবং মানবিক আইন পরিকল্পিতভাবে এবং ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করে আসছে। তারা সেখানে সবচেয়ে গুরুতর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করছে এবং এখনো হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আট দশক আগে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনি জনগণকে 'ঔপনিবেশিকভাবে ধ্বংসের' পরিকল্পনা যেটি ঔপনিবেশিক শক্তির সমর্থন বা তাদের নীরবতার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং এখনো তা নজিরবিহীন বর্বরতার সাথে অব্যাহত রয়েছে সমস্ত আইনি ও নৈতিক রেড লাইন অতিক্রম করে তা ইতিহাসে বর্বরতার এক নতুন স্তর লিপিবদ্ধ করেছে। মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস, হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস, শরণার্থী শিবির ও তাঁবুতে আক্রমণ এবং সাংবাদিক, ডাক্তার এবং নার্সদের লক্ষ্যবস্তু করা ছিল ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের পুনরাবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ড। গত ১৫ মাস ধরে সংঘটিত এই ঘটনার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলা এবং প্রতিরোধের চেতনা ভেঙে ফেলা।
এই ১৫ মাসে ফিলিস্তিনি গণহত্যা পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে ইহুদিবাদী সরকারকে যে বিষয়টি উৎসাহিত করেছিল তা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ব্যাপক এবং প্রত্যক্ষ সামরিক,আর্থিক এবং রাজনৈতিক সহায়তা। এছাড়া যারা ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের জন্য দায়মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করছে, দখলদার সরকারের অপরাধ বন্ধে জাতিসংঘের কার্যকর পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে নিঃসন্দেহে এই দেশগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধের অংশীদার হিসেবে তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।
আশা করা হচ্ছে যে নতুন উন্নয়নের আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এবং দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে আমরা গাজায় গণহত্যা এবং জাতিগত নিধন সম্পূর্ণ অবসানসহ সম্মত ব্যবস্থাগুলোর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করব। দখলদারদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার,গাজা উপত্যকায় তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক ত্রাণ এবং এই অঞ্চলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করা এবং গাজার স্থিতিশীল ও ধৈর্যশীল জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসবে বলে আমরা জোর আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
গাজায় গণহত্যা বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক আইন এবং মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আল-আকসার বিরুদ্ধে দখলদার শাসকগোষ্ঠীর ক্রমাগত আক্রমণের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ এবং সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারাধীন সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনের জন্য ইসরাইলি শাসনের অপরাধী নেতাদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং শাস্তির জন্য ভিত্তি প্রস্তুত করার প্রতিও তেহরান জোর দিচ্ছে।
ইহুদিবাদী সরকারের নিপীড়ন,আগ্রাসন,দখলদারিত্ব এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের গর্বিত শহীদদের প্রতি বিশেষ করে ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ, সাইয়্যেদ হাশেম সাফিউদ্দিন এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনি, লেবানিজ, ইরাকি শহীদদের প্রতি, ইয়েমেনি এবং ইরানি মুজাহিদরা যারা ফিলিস্তিনের পবিত্র লক্ষ্যের জন্য এবং ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদ, আইনহীনতা এবং অপরাধ থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন আমরা প্রতিরোধের এসব মহান পরিবারকে আমাদের শুভেচ্ছা এবং সমবেদনা জানাচ্ছি এবং জোর দিচ্ছি যে তাদের বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত পথের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।