সুন্নি আলেমের মন্তব্য: ইমাম খোমেনী মুসলিম উম্মাহর হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে এনেছেন
-
কেরমানশাহর সুন্নি জুমার ইমাম মামোস্তা মোল্লা আবদুর রহমান মোরাদি ।
পার্সটুডে– ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ শহরের সুন্নি জুমার ইমাম বলেছেন, ইমাম খোমেনি (রহ.) ছিলেন ইসলামী বিশ্বের পরিবর্তনে গভীর প্রভাব বিস্তারকারী এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচারী শাহ শাসনের পতন ঘটান এবং মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা, পরিচয় ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেন।
বার্তা সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, কেরমানশাহর সুন্নি জুমার ইমাম মামোস্তা মোল্লা আবদুর রহমান মোরাদি জুমার খুতবায় ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ইরান, অঞ্চল এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, যার প্রভাব আজও ইসলামী সমাজগুলোতে দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, জ্ঞান, ইজতিহাদ, দূরদর্শিতা, সংযম, তাকওয়া, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এসব গুণ ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে মিলিত হয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছিল এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।
মামোস্তা মোরাদি আরও বলেন, ইরানি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস নানা উত্থান-পতনে পরিপূর্ণ, আর সেই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক। তিনি শাহ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথে কারাবাস, নির্যাতন, নির্বাসন এবং স্বদেশ থেকে দূরে থাকার মতো কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করেছেন, কিন্তু কখনোই নিজের ঐশী দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি।
কেরমানশাহর এই সুন্নি ধর্মীয় নেতা বলেন, ১৫ খোরদাদের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় এবং পরবর্তী সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব পর্যন্ত ইমাম খোমেনী (রহ.) দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে গেছেন। তার স্মৃতি ও অবদান ইরান এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।