শহীদ নেতার প্রতি শোক, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার ঢল: ইতিহাসে স্মরণীয় এক বিদায়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161052-শহীদ_নেতার_প্রতি_শোক_ভালোবাসা_আর_শ্রদ্ধার_ঢল_ইতিহাসে_স্মরণীয়_এক_বিদায়
তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মুসাল্লা আজ এক গভীর শোক ও শ্রদ্ধার পরিবেশে পরিণত হয়েছে। শহীদ বিপ্লবী নেতার বিদায় উপলক্ষে দ্বিতীয় দিনের জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ, পাশাপাশি উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারাও এই আয়োজনে অংশ নেন।
(last modified 2026-07-05T09:07:34+00:00 )
জুলাই ০৫, ২০২৬ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka
  • শোক, আবেগ আর জনসমাগমে ভরপুর তেহরানের বিদায়ী মুহূর্ত
    শোক, আবেগ আর জনসমাগমে ভরপুর তেহরানের বিদায়ী মুহূর্ত

তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মুসাল্লা আজ এক গভীর শোক ও শ্রদ্ধার পরিবেশে পরিণত হয়েছে। শহীদ বিপ্লবী নেতার বিদায় উপলক্ষে দ্বিতীয় দিনের জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ, পাশাপাশি উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারাও এই আয়োজনে অংশ নেন।

মুসাল্লা জনসমুদ্ধে পরিণত

শোক, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আবহে শহীদ নেতার পবিত্র দেহে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নেন এবং বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ বিপ্লবী নেতার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। জনসাধারণ ও কর্মকর্তাদের ব্যাপক উপস্থিতি জাতীয় ঐক্য, সংহতি এবং বিপ্লবী মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের এক দৃঢ় প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

শহীদ বিপ্লবী নেতার প্রতি ভালোবাসার মিলনস্থল

তেহরানের মুসাল্লার পুরো পরিবেশ যেন আধ্যাত্মিক আবেগ ও শোকের আবহে ভরে ওঠে। আহলে বাইতের (আ.) সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা হজরত আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর স্মরণে মাতম ও নওহা (শোক সঙ্গীত) পরিবেশন করেন, যা অনুষ্ঠানে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। কালো পোশাকে শোকাহত মানুষজন লাল পতাকা হাতে অংশ নেন, যা ন্যায় ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তারা বুক চাপড়ানো এবং “আমেরিকার মৃত্যু চাই” ও “প্রতিশোধ, প্রতিশোধ” স্লোগান দেন, যা বিপ্লব ও নেতৃত্বের আদর্শের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকারের প্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।

কান্নারত ইরানি নারীরা

উপস্থিত মানুষদের মধ্যে একদিকে ছিল গভীর দুঃখ, অন্যদিকে ছিল তাঁর আদর্শের প্রতি অটল আনুগত্যের প্রকাশ। পুরো পরিবেশ যেন ধর্মীয় আবেগ ও বিপ্লবী চেতনায় ভরে ওঠে।

জনসমাগমের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগানও শোনা যায়, যা উপস্থিত মানুষের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে তুলে ধরে। তীব্র গরমের মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বেড়েছে।

পতাকা হাতে মিছিল

আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের জন্য পানি ও শীতল পানীয়ের ব্যবস্থা করেন এবং বিশেষ কুলিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।

ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মুসাল্লা লোকে লোকারণ্য

অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে দেহ মুবারক মুসাল্লা থেকে নির্ধারিত পথে শেষ যাত্রার জন্য নেওয়া হবে। পরদিন চূড়ান্ত দাফন ও আনুষ্ঠানিক বিদায় সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, রাজধানীতে এই শোকযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটতে পারে।#