“মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মূল্যহীন, আমেরিকা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়”
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161438-মার্কিন_প্রেসিডেন্টের_স্বাক্ষর_মূল্যহীন_আমেরিকা_কখনোই_বিশ্বাসযোগ্য_নয়
ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতি ওয়াশিংটনের বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং তা বিশ্বাসযোগ্যও নয়।
(last modified 2026-07-18T17:29:31+00:00 )
জুলাই ১৮, ২০২৬ ২৩:১১ Asia/Dhaka
  • আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী
    আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী

ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতি ওয়াশিংটনের বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং তা বিশ্বাসযোগ্যও নয়।

ইসলামী বিপ্লবের ‘শহীদ নেতা’ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে বিদায় জানানোর ঐতিহাসিক ও বিশাল সমাবেশের প্রেক্ষাপট এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি নিয়ে আজ (শনিবার) এক বিশেষ বার্তায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমেরিকার চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো আধিপত্যবাদ, জোরজবরদস্তি ও বর্বরতা। সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও তার প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে. আমেরিকা মিথ্যাবাদী, অযৌক্তিক এবং নির্ভরযোগ্য নয়।

মুজতাবা খামেনেয়ী সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আরও যুদ্ধ উসকে দিতে চায়, তাহলে ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ অক্ষ তাদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের যোদ্ধাদের সাহসিকতা এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দৃঢ় অবস্থান তারই প্রমাণ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তার পূর্ণ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও তাদের আসল চেহারা

ইরানের শহীদ নেতাকে বিদায় জানানোর এই মহিমান্বিত মুহূর্তের পাশাপাশি, ইরান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতি ‘বড় শয়তান’ (আমেরিকা)-এর বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আবারও সবার কাছে এই সত্যটি প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। সেই সাথে এটি স্পষ্ট করেছে যে—জোরজুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা মার্কিন নীতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আজ বড় শয়তান আবারও তার আসল ও মুখোশহীন চেহারা উন্মোচন করেছে, যাতে অপরাধ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের এই অন্ধকার অভিজ্ঞতা আমেরিকার মিথ্যাচার, অযৌক্তিকতা, অবিস্বস্ততা এবং দুষ্ট প্রকৃতির আরও একটি জোরালো দলিল হয়ে থাকে।

এখন মার্কিন শত্রু যেহেতু যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে আরও ভারী ক্ষয়ক্ষতি ও চরম অসম্মান বয়ে আনার পেছনে ছুটছে, তাই তাদের জেনে রাখা উচিত যে, ইরানের প্রিয় জনগণ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের কাছে তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা রয়েছে। ইসলামি যোদ্ধাদের সাহসিকতা এবং এই দিনগুলোতে দক্ষিণাঞ্চলের বীর জনতার আত্মমর্যাদাবোধ এরই মধ্যে তার বাস্তব নমুনা প্রদর্শন করেছে।

২. জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব ও বিভেদ পরিহারের আহ্বান

ইরানের অনুগত ও গর্বিত জনগণের উদ্দেশ্যে এটি বলা অত্যন্ত জরুরি যে, এই সময়ে সবচেয়ে মৌলিক কাজগুলোর একটি হলো- ইসলামি বিপ্লবের মহান আদর্শ বাস্তবায়ন এবং ইরানের সম্মান ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখা; বিশেষ করে অপরাধী ও প্রতারক আমেরিকার বিরুদ্ধে।

যেমনটি আগেও বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ঐক্য রক্ষা করা এবং সব ধরনের বিভেদ, রাজনৈতিক দ্বন্দ ও সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। আর এ ক্ষেত্রে দেশের সংহতি ও একতা বজায় রাখতে কর্মকর্তা এবং বিপ্লব ও শহীদ নেতার প্রতি অনুগত নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।

৩. কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা ও গঠনমূলক সমালোচনা

দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত সরকারের তিনটি বিভাগের (শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ) কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা বজায় রেখে ইরানের সচেতন জনগণ দেশের স্বার্থ রক্ষায় সবসময় মাঠে সক্রিয় থাকবে।

তবে এমনটি হতেই পারে যে, অনেকে সম্পূর্ণ আন্তরিকতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কোনো কোনো কর্মকর্তার কাজের সমালোচনা করতে পারেন। আমার দৃষ্টিতে, ব্যবস্থার প্রতি তাদের এই উদ্বেগ ও মনোযোগ একটি মূল্যবান সম্পদ এবং এটি ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু, যারা এই সমালোচনা করছেন (যাদের অনেকে দূরদর্শী ও সচেতন), তাদের দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে:

  • প্রথমত: এই সমালোচনার কারণে যেন কোনো নিরপরাধ মানুষের প্রতি অন্যায় করা না হয়, যা আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে।
  • দ্বিতীয়ত: এই সমালোচনা যেন সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট না করে। যদি এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখা হয়, তবে সমালোচনা দেশের কাজের গতি ও সমৃদ্ধি বাড়াবে।

শত্রুপক্ষ যেন আমাদের কাছ থেকে দুর্বলতার কোনো লক্ষণ না পায় (এমনকি এই অভ্যন্তরীণ সমালোচনার দুর্বলতাও যেন তারা দেখতে না পায়)। আমরা যদি এই সতর্কতাগুলো পুরোপুরি মেনে চলি, তবে শত্রু পিছু হটতে বাধ্য হবে।

৪. শহীদ নেতার ঐতিহাসিক বিদায় সমাবেশ

ইরানের মহান ও বিস্ময় সৃষ্টিকারী জাতি! আপনাদের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা। আপনারা ইরানের শহীদ নেতাকে বিদায় জানানোর অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশ নিয়ে ইসলামি ও ইরানি পরিচয়ের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আপনারা দেখিয়েছেন আপনাদের কৃতজ্ঞতা, অনুগত মনোভাব, দূরদর্শিতা এবং ইসলামি উম্মাহর শহীদ নেতার প্রতি আপনাদের গভীর ভালোবাসা।

কঠিন গরমের মধ্যেও ঢাকা, কোম, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামের কোটি কোটি মানুষের চোখের জল ও দৃঢ় সংকল্প বিশ্ববাসীকে এবং ইরানের বন্ধুদের মুগ্ধ করেছে; আর অহংকারী শত্রুদের ফেলেছে চরম বিস্ময়, ক্ষোভ ও আতঙ্কের মধ্যে।

৫. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

দেশের সর্বস্তরের মানুষ, যারা নিজেরাই এই শোকের মূল অংশীদার এবং নানা অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই ঐতিহাসিক বিদায় সমাবেশ সফল করেছেন, তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

পাশাপাশি সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় মারজা (শীর্ষ আলেমগণ), ওলামা, চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী এবং দেশের সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাসমূহকে তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রতিরোধ ফ্রন্টের সম্মানিত প্রতিনিধি ও প্রগতিশীল ইসলামি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আশা করি, এই ঐতিহাসিক সমাবেশে যারা যেকোনোভাবে অংশ নিয়েছেন বা সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তারা সবাই ইমাম মাহদী (আ.)-এর বিশেষ দোয়া ও অনুগ্রহ লাভ করবেন।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৮