সব চাপ সত্ত্বেও প্রতিরোধের অঙ্গিকারে অটল থাকবে ইরান: আরাকচি
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে-ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, সব রকমের চাপ সত্ত্বেও ইরান তার প্রতিরোধের অঙ্গিকারে অটল থাকবে।
ইরনা’র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, আজ (রোববার) ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে মহররম ও আশুরা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেন, আশুরার নথিপত্রের গভীরে ইরানের ‘সভ্যতাগত মর্যাদা ও আত্মমর্যাদার আকাঙ্ক্ষা’ এবং আধিপত্যবাদী ব্যবস্থা ও ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে তার সংঘাতের প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বলেন, এসব নথিতে ইরানের কূটনীতি কোনো শুষ্ক ও কঠোর সুযোগসন্ধানী কূটনীতি নয়; বরং এটি একটি ‘মানবকেন্দ্রিক কূটনীতি’।
আরাকচি বলেন, এ বছর ইরানে মহররম ও আশুরার আবহ অন্যরকম। ঐতিহাসিক ইরান অন্যায় ও নির্মমভাবে আইন অমান্যকারী এবং সত্যের বিরোধী দুই বিদ্রোহী শাসক-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের-আক্রমণের শিকার হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং ‘কালেমাতুল্লাহ’র দৃঢ়তা রক্ষার পথে ইরান বহু শহীদকে উৎসর্গ করেছে।
তিনি বলেন, ইরানের ‘হোসাইনি’ জনগণ নিজেদের চোখের সামনে ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা ও তাঁর পবিত্র সন্তানদের রক্ত ঝরতে দেখেছে-মিনাবের শাজারায়ে তাইয়্যেবা স্কুল থেকে শুরু করে ‘দেনা’ যুদ্ধজাহাজ এবং লামার্দের সন্তান ও বীর ইরানি সেনাদের রক্ত পর্যন্ত। কিন্তু এরপরও তারা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে, আশুরার বার্তাকে তারা নিজেদের প্রতিটি কোষে ধারণ করে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বহু জাতি সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের সামনে এসেছে ভাগ্য নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তের মুহূর্ত, যখন তাদের চরিত্র পরীক্ষা ও বিচারের মুখোমুখি হয়েছে-দারিদ্র্য ও অবরোধ থেকে শুরু করে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ও আগ্রাসন পর্যন্ত।
তিনি বলেন, নিপীড়িত জাতিগুলোকে সেই নির্ণায়ক মুহূর্তে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে-তারা কি আত্মসমর্পণ করে অত্যাচারের জোয়ালের নিচে জীবনযাপন করবে, নাকি নিজেদের মূল্যবোধ ও আদর্শের জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে দাঁড়িয়ে থাকবে?
আরাকচি বলেন, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে নিজের দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়; বরং সেই মূল্যবোধগুলোর প্রতি আনুগত্য, যা একটি ভূখণ্ডকে অর্থবহ করে তোলে-স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন নিজেদের ভূখণ্ডে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে ও নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে-এই নিশ্চয়তা।
আত্মসমর্পণের পর হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভবও হতে পারে। এই বিশ্বাসগত ও কৌশলগত উপলব্ধি থেকেই ইরান সব ধরনের চাপ সত্ত্বেও তার প্রতিরোধের অঙ্গীকারে অটল রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ অটল থাকবে।#
পার্সটুডে/এনএম/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।