আকাশযান শিকারে অতুলনীয় ইরানের 'কায়েম-১১৮' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162648-আকাশযান_শিকারে_অতুলনীয়_ইরানের_'কায়েম_১১৮'_আকাশ_প্রতিরক্ষা_ব্যবস্থা
পার্সটুডে:আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘কায়েম-১১৮’ নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
(last modified 2026-08-30T13:02:36+00:00 )
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৮:৫১ Asia/Dhaka
  • ইরানের স্বল্পপাল্লার নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'কায়েম-১১৮'
    ইরানের স্বল্পপাল্লার নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'কায়েম-১১৮'

পার্সটুডে:আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘কায়েম-১১৮’ নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, কায়েম-১১৮ প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর স্থলবাহিনীর ‘পয়ামে আজম-১৯’ সামরিক মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্মোচন করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কায়েম-১১৮-কে অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে আলাদা করেছে শুধু এর ২৫ কিলোমিটার পাল্লা নয়; বরং এর নকশা, নির্দেশনা পদ্ধতি এবং মহড়া ও বাস্তব সংঘাতে প্রদর্শিত কার্যক্ষমতাও এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

কায়েম-১১৮'র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর সমন্বিত গাইডেন্স সিস্টেম। এই প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রটি রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং তাপ-অনুসন্ধানী-এই তিন পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে পারে।

এর অর্থ হলো, লক্ষ্য শনাক্ত করতে এবং ধ্বংস করতে কায়েম-১১৮ সব সময় রাডারের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি থার্মাল ও ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্যামেরা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায়-অর্থাৎ রাডার তরঙ্গ নির্গত না করেও-লক্ষ্য শনাক্ত ও আঘাত করতে পারে।

আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিবেশে এবং কম রাডার প্রতিফলনযুক্ত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই সক্ষমতা একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ এতে প্রতিপক্ষ রাডারভিত্তিক কোনো আগাম সতর্কতা না-ও পেতে পারে, ফলে পালিয়ে যাওয়া বা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

কাঠামোগত ও কৌশলগত দিক থেকে কায়েম-১১৮ একটি স্বল্পপাল্লার ও নিম্ন-উচ্চতার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা নিচু স্তরের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষাগত ঘাটতি পূরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। লঞ্চারগুলো ‘আরেস-৩’ অফ-রোড, অল-হুইল-ড্রাইভ সামরিক গাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত মোতায়েন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।

এই ‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবস্থাটির টিকে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। এর ফায়ার-কন্ট্রোল রাডারও দেশীয়ভাবে তৈরি এবং একইসঙ্গে একাধিক লঞ্চারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। এর ফলে বিস্তৃত এলাকায় কার্যকর ও ঘন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব হয়।

তবে কায়েম-১১৮-কে একটি সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিশেষভাবে আলোচিত ব্যবস্থায় পরিণত করেছে এর দাবি করা যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও প্রকাশিত ছবির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের শতাধিক বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও যুদ্ধ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের MQ-9 Reaper এবং ইসরায়েলের Hermes 900 ও Heron ড্রোনও রয়েছে।

বিদেশি কিছু গণমাধ্যম এসব সাফল্যকে ‘চমকপ্রদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম ব্যয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কায়েম-১১৮ ড্রোনযুদ্ধের খরচ-সুবিধার সমীকরণ ইরানের পক্ষে পরিবর্তন করতে পারে। কোটি ডলার মূল্যের একটি MQ-9-এর মতো ড্রোন তুলনামূলক কম খরচের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা হলে তা ব্যয়বহুল ড্রোন-যুদ্ধ কৌশলের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক স্থাপত্য। কায়েম-১১৮ শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নয়; এটি একটি বহুস্তরীয় ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘মাজিদ’ ও ‘শাহেদ-৩৫৮’-এর মতো ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে।

এই সমন্বিত কাঠামো শত্রুর ISTAR অর্থাৎ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, লক্ষ্য পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রাখে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ইরানি নকশাকাররা শুধু একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিবর্তে এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেখানে একটি ব্যবস্থা অন্যটির দুর্বলতা বা অন্ধস্থান পূরণ করবে।

সব মিলিয়ে, কায়েম-১১৮ স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিষ্ক্রিয় নির্দেশনা, উচ্চ গতিশীলতা, ব্যাপক উৎপাদনের সম্ভাবনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দাবি করা কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে এই ব্যবস্থা আধুনিক আকাশ হুমকি মোকাবিলায় ইরানের একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কায়েম-১১৮ এখন আর শুধু একটি ‘অপরিচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ নয়; বরং এটি আঞ্চলিক আকাশসীমায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধমূলক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।#

পার্সটুডে/এনএম/৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন