স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলাকারী সেনা অপরাধী ও শিশুহত্যাকারী বাহিনী: তাইয়েব
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162934-স্কুল_ও_বিয়ের_অনুষ্ঠানে_হামলাকারী_সেনা_অপরাধী_ও_শিশুহত্যাকারী_বাহিনী_তাইয়েব
পার্সটুডে-ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, যে সেনাবাহিনী স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালায়, সেটি আর কোনো পরাশক্তির সেনাবাহিনী নয়; বরং সেটি একটি অপরাধী ও শিশুহত্যাকারী বাহিনী।
(last modified 2026-09-08T17:22:40+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬ ২০:৪৭ Asia/Dhaka
  • হোসেইন তাইয়েব
    হোসেইন তাইয়েব

পার্সটুডে-ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, যে সেনাবাহিনী স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালায়, সেটি আর কোনো পরাশক্তির সেনাবাহিনী নয়; বরং সেটি একটি অপরাধী ও শিশুহত্যাকারী বাহিনী।

পার্সটুডে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক বক্তব্যে তাইয়েব বলেন, অতীতে ধারণা করা হতো যে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো সেই পথেই এগিয়ে যাবে, যে পথ ২৫০ বছর আগে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ, বিশ্বের বৈজ্ঞানিক নির্ভরতা পশ্চিমের ওপর প্রতিষ্ঠা করা, বৈশ্বিক সম্পদ উৎপাদনের বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং বিশ্বে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আজ সেই প্রক্রিয়া কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে?

তাইয়েব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের গতি এবং দেশটির মধ্যে সৃষ্ট গভীর বিভাজন আমেরিকাকে তার পথ পরিবর্তন করে আরও ব্যাপকভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করেছে। অর্থায়ন থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ এবং ইসরায়েলের যুদ্ধযন্ত্রে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ স্থানান্তরের ব্যবস্থাও তারা সক্রিয় করেছে।

তাইয়েব আরও বলেন, প্রথম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে আট বছর ধরে অঞ্চলে তার সামরিক বাহিনীর দুই-তৃতীয়াংশ মোতায়েন করতে হয়েছিল। অথচ আজ দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক সেনা ও বিশেষ অপারেশন সক্ষমতাও সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনীর তথাকথিত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবমূর্তি ভেঙে পড়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে সেনাবাহিনী স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালায়, সেটি আর পরাশক্তির সেনাবাহিনী নয়; বরং একটি অপরাধী ও শিশুহত্যাকারী বাহিনী।”

ইরানের এই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব আজ দেখছে, প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটের একটি সেনাবাহিনী কীভাবে এক অঙ্কের বাজেটের একটি সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়েছে। তার মতে, এটাই প্রমাণ করে যে কেবল সামরিক শক্তি কোনো দেশের বৈশ্বিক ব্যবস্থায় শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্য নিশ্চিত করতে পারে না।

শত্রুপক্ষের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অসঙ্গতির প্রসঙ্গ টেনে তাইয়েব বলেন, তারা একদিকে দাবি করছে যে তারা নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের সব সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যদি সবকিছু ধ্বংসই করে থাকেন, তাহলে এখনো কেন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আপনাদের প্রধান উদ্বেগ কেন হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ? তার দাবি, এই স্পষ্ট স্ববিরোধিতাই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তাদের অসহায়ত্ব ও নিশ্চিত পরাজয়ের প্রমাণ।#

পার্সটুডে/এনএম/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।