ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়:
শহীদ নাসরুল্লাহ ছিলেন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সাহস ও দূরদর্শিতার অনন্য দৃষ্টান্ত
-
লেবাননে হিজবুল্লাহর শহীদ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ
পার্সটুডে- লেবাননের হিজবুল্লাহর শহীদ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিরোধের শহীদদের স্মরণ করেছে, তাঁর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের এই মহান ব্যক্তি এবং ইসলামী বিশ্বের অক্লান্ত যোদ্ধা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী এমন একজন ব্যক্তিকে স্মরণ করার সুযোগ, যিনি তাঁর জীবনের মূল্যবান সময় ইসলাম, লেবাননের মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষা এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও সম্প্রসারণবাদের মোকাবিলায় ব্যয় করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং প্রতিরোধের পথে নিহত অন্যান্য শহীদদের স্মরণ- কাসেম সোলাইমানি, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস, ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও মোহাম্মদ আল-ঘামারিসহ সেই সব নারী, পুরুষ ও নিরপরাধ শিশুকে স্মরণ করা- এমন একটি আদর্শ ও চিন্তাধারার প্রতি শ্রদ্ধা, যা অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ মেনে নেয় না এবং দখলদারিত্ব, বর্ণবৈষম্য ও ইসরায়েলি-আমেরিকান আধিপত্যের কাছে মানবিক মর্যাদা বিসর্জন দিতে রাজি নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নাসরুল্লাহ তিন দশক ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাহস, দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যার প্রভাব লেবানন ও এ অঞ্চলের মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, লেবানন ও এ অঞ্চলের মানুষ আজ তাঁর জীবদ্দশার তুলনায় তাঁর সংগ্রামের মূল্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, দখলদারিত্ব ও যুদ্ধ উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা জরুরি।
বিবৃতির অন্য অংশে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননে হামলা এবং সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের হত্যার ঘটনাকে কঠোরভাবে নিন্দা করে। নিহতদের মধ্যে শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস নীলফোরুশানও ছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নির্দেশদাতাদের বিচার ও শাস্তির জন্য সব দেশের নৈতিক ও আন্তর্জাতিক-আইনি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষে বলেছে, দখলদার রাষ্ট্রের পাশে থাকা দেশ হিসেবে লেবাননের বিশেষ ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে ইরান লেবাননের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি সমর্থনের নীতিতে অটল রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, শক্তিশালী, স্বাধীন এবং নিজ জনগণ ও ভূখণ্ডকে রক্ষা করার সক্ষমতাসম্পন্ন লেবানন পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।