হুমকির মুখে পরমাণু সমঝোতা : ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i66160-হুমকির_মুখে_পরমাণু_সমঝোতা_ইরানের_উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর_হুঁশিয়ারি
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক তৃতীয় সেমিনারে বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য এবং এ চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে তেহরান। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চুক্তিতে সইকারী অপর দেশগুলো সহযোগিতা করবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনো বাস্তবায়ন এখনো চোখে পড়ছে না।"
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ২৭, ২০১৮ ১৫:৩৬ Asia/Dhaka

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক তৃতীয় সেমিনারে বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য এবং এ চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে তেহরান। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চুক্তিতে সইকারী অপর দেশগুলো সহযোগিতা করবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনো বাস্তবায়ন এখনো চোখে পড়ছে না।"

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "বর্তমান অবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয় এবং পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।" ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত 'সাফল্য ও প্রত্যাশা' শীর্ষক ওই সেমিনার আজ (মঙ্গলবার) শেষ হয়েছে। এমন সময় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হল যখন ইরানে অর্থ প্রেরণের বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

পরমাণু সমঝোতা এমন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য দেশ সই করেছে এবং এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ফের ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যা আন্তর্জাতিক চুক্তির খেলাপ এবং পরমাণু সমঝোতা থেকে ইরানের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন চুক্তিতে সইকারী অন্য দেশকেও ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমেরিকার চাপ মোকাবেলায় শক্ত অবস্থান নেয়া ছাড়া ইউরোপের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তবে তাদের চেষ্টা কতটুকু সফল হবে তা ভিন্ন বিষয়। রিড স্মিথ কোম্পানির কর্মকর্তা ব্রায়াট হিলিস বলেছেন, " মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইরানে তৎপর ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে রক্ষার কোনো কর্মপরিকল্পনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেই।"

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইরান যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য ইউরোপের প্রচেষ্টা মোটেই যথেষ্ট নয়। এ কারণে ব্রাসেলস বৈঠকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে হলে ইউরোপকে অবশ্যই ইরানের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং চুক্তিতে আরো কয়েকটি বিষয় সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে আড়াই কোটি ইউরো পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে বুশেহের পরমাণু কেন্দ্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো এবং ইরানের পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হামিদ আবু তালেবি টুইট বার্তায় বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ইউরোপ যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তাতে অবশ্যই ইরানের আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ইউরোপের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যদিও এখনো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে কিন্তু এটা স্পষ্ট যে শেষ পর্যন্ত ইউরোপ যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের প্রতি ইরানের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে এবং পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইরানও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭