সব ক্ষেত্রে আইআরজিসি'র বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার গুরুত্বারোপ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি এক ফরমান বলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র নতুন কমান্ডার হিসেবে হোসেইন সালামিকে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছে। সালামিকে কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জাফ'রির স্থলাভিষিক্ত করা হল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ফরমানে আইআরজিসি'র নতুন কমান্ডারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, আশা করি তিনি সব ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরে আধ্যাত্মিক শক্তির বিস্তার তথা তাকওয়া বা খোদাভীতির পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে আইআরজিসির নতুন প্রধান হিসেবে তিনি পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নেবেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনি (র.) ১৯৭৯ সালের ২২ এপ্রিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি গড়ে তোলেন যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা।
আইআরজিসি মূলত ইরানের বিপ্লবী জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে এবং শত্রুর যেকোনো হুমকির মোকাবেলায় এই বাহিনী নিজেদের শক্তি সামর্থ্য ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময়ও অন্যান্য সব বাহিনীর পাশে থেকে আইআরজিসি শত্রুর মোকাবেলা করেছে। তারা শাহাদাত পিয়াসি ও বিপ্লবী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বিপ্লব বিজয়ের শুরু থেকেই ইরানের জনগণকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। এই বাহিনী ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশসহ অন্যান্য উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিরাট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমেরিকা মারাত্মক অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে এবং সেই কারণে সৃষ্ট ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ওয়াশিংটন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তালিকাভুক্ত করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে আইআরজিসি আমেরিকার নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং ইরানসহ পশ্চিম এশিয়ায় বাইরের হস্তক্ষেপ, প্রক্সিযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কাজ করার সুযোগ কাউকে দেবে না। খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ নওম চমস্কি আমেরিকার ইরান বিরোধী অভিযোগের সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে অথচ তারাই সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন ও পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য তেহরানকে অভিযুক্ত করছে।
পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসীদের দমনে আইআরজিসি অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু তারপরও এই বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে আমেরিকা। যদিও ইরানের জনগণের কাছে আমেরিকার এ পদক্ষেপের কোনো মূল্য নেই বরং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আইআরজিসি'র অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২