খুব শীঘ্রই কি প্রতিশোধের আগুনে পুড়বে মার্কিন স্বার্থ ও লক্ষ্যগুলো?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i76413-খুব_শীঘ্রই_কি_প্রতিশোধের_আগুনে_পুড়বে_মার্কিন_স্বার্থ_ও_লক্ষ্যগুলো
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস্‌ ব্রিগেডের কমান্ডার লেঃ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ্ আশশাব্‌য়ি'র উপপ্রধান আবুমাহদি আলমুহানদিস মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ০৩, ২০২০ ১৫:৩৫ Asia/Dhaka

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস্‌ ব্রিগেডের কমান্ডার লেঃ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ্ আশশাব্‌য়ি'র উপপ্রধান আবুমাহদি আলমুহানদিস মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হয়েছেন।

আজ শুক্রবার ভোর বেলায় বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর মার্কিন ড্রোনের রকেট হামলায় শহীদ হন ইরাক ও ইরানের এ দুই জনপ্রিয় বীর কমান্ডার। এ হামলায় তাদের কাছে ও সঙ্গে থাকা আরও চার জন ইরানি সেনা-কর্মকর্তা  এবং চার জন ইরাকিও শহীদ হয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে! এই হত্যাকাণ্ড মার্কিন সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে এবং ইরানের জনপ্রিয় ইসলামী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও ইরাকের প্রতিরোধকামী জাতির বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের শত্রুতার এক নতুন কালো অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বর্বর অপরাধযজ্ঞ ইসলামী বিপ্লবের অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। ইরানের তেল-সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য জনপ্রিয় মোসাদ্দেক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল ইঙ্গ-মার্কিন ষড়যন্ত্রে। ইরানের জনপ্রিয় ইসলামী সরকারকে অচল করতে সাদ্দামকে দিয়ে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দিয়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাসহ হাজার হাজার ইরানি নাগরিক ও বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা, ইরানের যাত্রীবাহী বিমানের প্রায় ৩০০ যাত্রীকে হত্যা এবং অবৈধ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বহু ধরনের অন্যায় নিষেধাজ্ঞা মার্কিন অপরাধযজ্ঞের দীর্ঘ তালিকার কিছু অংশ মাত্র।

ইরাকেও অবৈধ মার্কিন হামলায় দশ লাখেরও বেশি ইরাকি নিহত হয়েছে। এ ছাড়াও মার্কিন ও তার সহযোগী সরকারগুলোর হাতে গঠিত ও সর্বাত্মক মদদপুষ্ট তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস এবং আননুসরা ইরাক ও সিরিয়ার এক বিশাল অংশ দখল করেছিল। আর এ দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রায় নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সামরিক কৌশলী ছিলেন কাসেম সোলাইমানি। তাঁরই নেপথ্য-নেতৃত্ব ও পরামর্শে জয়ী হয় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ্ আশ শাব্‌য়ি।

সিরিয়ায় সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধেরও প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় গণবাহিনীর রূপকার ছিলেন সোলাইমানি। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো সোলাইমানিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সমরবিদ বলে উল্লেখ করত। তাই মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে হত্যার চেষ্টা করত।

ইরান মার্কিন রাষ্ট্রীয় এই সন্ত্রাসের কঠোর বদলা নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি সোলাইমানিকে 'প্রতিরোধ সংগ্রামের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব' হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বের সব প্রতিরোধ-প্রেমিকই সোলাইমানির রক্তের বদলার দাবিদার।

গোটা পশ্চিম এশিয়ায় এবং বিশ্বের অন্য অনেক অঞ্চলে রয়েছে ইরানের গভীর রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রভাব। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের হাশদ আশ শাব্‌য়িসহ বেশিরভাগ জনগণ, ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলন এবং ফিলিস্তিনের হামাস ও জিহাদ আন্দোলনসহ সংগ্রামী ফিলিস্তিনি জাতি ইরানের আহ্বানে সন্ত্রাসী মার্কিন সরকারের স্বার্থগুলোতে ধ্বংসাত্মক আঘাত হানতে সক্ষম। 

ইরাক ও ইরানের জনগণসহ বিশ্বের প্রতিরোধকামীরা কখন ও কিভাবে মার্কিন অপরাধযজ্ঞের মধুর প্রতিশোধ নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।