করোনা মোকাবেলায় ইরান কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল
-
আব্বাস মুসাভি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেছেন, তার দেশে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী আমদানিতে কোনা বাধা নেই বলে মার্কিন কর্মকর্তারা যে দাবি করেছেন তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি ইরান প্রেসকে দেয়া সাক্ষাতকারে মার্কিন ওই দাবির প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেছেন, 'এ অঞ্চলের একটি দেশের ব্যাংকের সঙ্গে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অর্থ লেনদেন বিষয়ে কথাবার্তা চলছে কিন্তু আমেরিকা এই লেনদেন সুইচ চ্যানেলে যুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছে না।'
ইরান যখন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতিতে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে তখন মার্কিন সরকার দাবি করেছে, সুইচ চ্যানেল ব্যবহার করে ইরানের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী আমদানিতে কোনো বাধা নেই। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে ইরান কিছুই আমদানি করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে তারা ইরানের খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইরানকে সহায়তা দেয়ার কথা বলছেন তখন আমেরিকা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে। এমনকি করোনা ভাইরাস মোকাবেলার কঠিন মুহূর্তেও এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
ভাইরাস মোকাবেলায় ইরানকে সহযোগিতা করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শর্ত দিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত দুই মার্কিন নাগরিককে জেলখানা থেকে ছেড়ে দিতে হবে। তার এ দাবি থেকে বোঝা যায় মার্কিন সরকার করোনা ভাইরাসকে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ভাইরাস মোকাবেলায় মার্কিন সহায়তা দেয়ার দাবির প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, মুখে নয় তারা বাস্তবে সহায়তা দিয়ে আন্তরিকতার প্রমাণ দিক।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের নীতি সম্পূর্ণ অমানবিক। ওষুধের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শুধু যে মানবাধিকার লঙ্ঘন তাই নয় একইসঙ্গে তা গণহত্যাও বটে। ইরানের বিচার বিভাগের মানবাধিকার বিষয়ক সদর দফতরের সচিব আলী বাকেরি কানি বলেছেন, খাদ্য ও ওষুধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকা যে আচরণ করছে তা স্পষ্টই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞ।
বর্তমানে যে বিষয়টি সবার কাছেই স্পষ্ট হয়ে গেছে তা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইরান প্রথম সারিতে রয়েছে। ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা সত্বেও ইরান এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান এ ভাইরাস থেকে জনগণকে রক্ষার চেষ্টা করছে। অসুস্থদের সারিয়ে তুলতে ইরানের চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং দেশটির বিভিন্ন কোম্পানি ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩