ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
-
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোরগ্যান আর্থাগোস
ইরানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবেলা করা যখন জরুরি হয়ে পড়েছে তখন ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য আমেরিকার ওপর আন্তর্জাতিক সমাজের চাপ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। ওয়াশিংটন বাহ্যিকভাবে লোক দেখানো কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বহাল রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোরগ্যান আর্থাগোস গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইরান যখন আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে, দায়িত্বশীল দেশের মতো আচরণ করবে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর সঙ্গে সংলাপে বসবে তখনই দ্রুত দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।’
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সহায়তার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা সাহায্যের প্রস্তাব দিলেও একইসঙ্গে তারা এটাও মনে করছেন যে, করোনা প্রাদুর্ভাবের সুযোগে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে আমেরিকার উত্থাপিত ১২টি অন্যায্য দাবি মেনে নিত তেহরানকে বাধ্য করা যাবে। এমনকি ওয়াশিংটন এ আবদারও জানিয়েছে যে, ইরানের কাছে আটক বেশ ক’জন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হলে বিভিন্ন দেশ থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর চালান পাঠানোর অনুমতি দেয়া হবে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়েব সাইট ভিত্তিক আমেরিকার একটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ‘ইরান করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খেলেও বিভিন্ন দেশে আটক ইরানের পাওনা অর্থ ফিরিয়ে আনার পথ আটকে রেখেছে আমেরিকা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের বিপুল অর্থ আটকে আছে।’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বহু দেশ এর সমালোচনা করার পরও তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এমনকি নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা। আটটি দেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে লেখা চিঠিতে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার স্বার্থে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়। ইরানের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর সংকটে ভুগছে। কিন্তু তারপরও নিষেধাজ্ঞা না তুলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানকে সহায়তা করতে চান বলে দাবি করেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে সহায়তার দাবি ইরানের ব্যাপারে আমেরিকার দ্বিমুখী চরিত্রের বহি:প্রকাশ। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মারা কার্লিন বলেছেন, চিকিৎসা খাতে ইরানকে সহায়তার জন্য কোনো কোনো দেশকে সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও বাস্তবতা হচ্ছে ইরানকে সাহায্য করার পরিণতির ব্যাপারে ওইসব দেশ এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
ইরান প্রথম থেকেই বলে আসছে করোনা মোকাবেলায় সাহায্য করতে হলে আমেরিকাকে অবশ্যই তেহরানে ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আমেরিকার কথিত সাহায্যের ইচ্ছাকে এক গ্লাস ময়লা ঘোলা পানির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এসব অনর্থক কথাবার্তার পরিবর্তে ওয়াশিংটনের উচিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় করোনা মোকাবেলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮