তেহরানে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা
-
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত
যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আজ (বুধবার) মহান বিজয় দিবস পালন করেছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। রাষ্ট্রদূত এএফএম গওসোল আযম সরকার পতাকা উত্তোলন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীপাঠ করা হয়। বিকেলে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ইরানে প্রথমবারের মত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ইরান ডেইলিতে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রকাশিত হয়।
রাষ্ট্রদূত এএফএম গাউসুল আযম সরকারের সভাপতিত্বে এবং দূতালয় প্রধান মোঃ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক আহমদ সাদেগি, ফার্সি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর প্রকাশক মো. সাদেগ সামি, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ এজাজ হোসেন, রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক ড. সোহেল আহম্মেদ, দূতাবাসের কমার্সিয়াল কাউন্সেলর মো. সবুর হোসেনসহ তেহরান, শিরাজ, ইস্পাহান ও কোমে অধ্যয়নরত ছাত্ররা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য এবং স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর অবদান ও স্বপ্নের ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মূসা রেজা স্বরচিত ছড়া এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও আবৃত্তিকার নাসির মাহমুদ কবিতা পাঠ করেন।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের শহীদগণ, সম্ভ্রমহারা মা-বোন এবং ত্যাগস্বীকারকারী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে এবং স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলনের পরিক্রমায় ’৭১ এর সশস্ত্র সংগ্রামে নেমে অনেক ত্যাগ ও মূল্যের বিনিময়ে বিজয় অর্জন করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের সাথে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্কে সংযুক্ত হয় এবং অবকাঠামো ও সমাজ বিনির্মাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে তার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ এর আওতায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ সেই লক্ষ্যে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। তিনি উপস্থিত সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশ জাতির পিতার প্রদত্ত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে পৌঁছাবে।
ইরানে মহামারির প্রেক্ষাপটে এ বছর ভার্চুয়ালি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত বাণী ও প্রবন্ধসমূহ প্রকাশ এবং মুজিব কর্ণারে তা সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য দূতাবাস উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দূতালয় প্রধান হুমায়ুন কবির।#
পার্সটুডে/পিরি/এসএ/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।