বিশ্বে অন্ধদের প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা: কৃতিত্ব ইরানের
তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৩ তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অন্ধ হাফিজদের অংশগ্রহণ ছিল আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার ইতিহাসের এক অনন্য ঘটনা। কারণ, বিশ্বে অন্ধ হাফিজদের নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজনের কৃতিত্বটি অর্জন করল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। গতকাল (বুধবার, ১৭ মে) শেষ হয় এক সপ্তা'র এই প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতার এই গ্রুপে প্রথম হয়েছেন ইরানের প্রতিযোগী আবদুল গাফুর জওহারচি। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন যথাক্রমে তুরস্ক (আহমাদ সারিকায়া) ও তিউনিসিয়ার প্রতিযোগী। অন্ধদের বিভাগে অংশ নেন মোট ১৬ জন প্রতিযোগী।
বাংলাদেশের ১৮ বছর বয়স্ক এক অন্ধ হাফেজ প্রতিযোগীও এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তার নাম তানভীর হোসাইন। বিচারকরা তার তিলাওয়াতের প্রশংসা করেছেন। তিনিও অন্ধদের জন্য আলাদা প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, ইরান প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এটা খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।
জন্মান্ধ হাফেজ তানভির হোসাইন ২০১২ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৭৩ দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।

অন্ধদের নিয়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজনে জড়িত ইরানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামীতে কুরআন বিষয়ক প্রতিযোগিতার অন্ধদের গ্রুপে তিলাওয়াতের বিভাগও থাকবে। এ ছাড়াও যারা অন্যান্য শারীরিক প্রতিবন্ধী তাদেরকেও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। এ বছর কুরআন বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অন্ধদের অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার উদ্যোগটি কিছুটা দেরিতে শুরু করার কারণে খুব বেশি দেশের প্রতিযোগী এতে অংশ নিতে পারেনি বলে তিনি জানান।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও ছিলেন অন্ধরা। ওই বিচারকদের একজন হলেন ইয়েমেনের অধিবাসী ইয়াহহিয়া মুহাম্মদ আহমদ আল হালিলি।
তিনি শুধু অন্ধদের নিয়ে এ ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য এ ধরণের প্রতিযোগিতা একটি অনন্য পদক্ষেপ। ইরানকে অনুসরণ করে অারও অনেকেই এমন আয়োজনে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্র্রহণকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় প্রায় সবাই প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন ভালো কিছু করার। তার পরও তাদের মধ্যে এক ধরণের দুর্বলতা ছিলো। আমি আশা করি, এবারের দুর্বলতাকে জয় করে আগামী প্রতিযোগিতায় সবাই আরও ভালো করবে।
ইয়াহিয়া মুহাম্মদ আহমদ আল হালিলি বলেন, আপনি একটু ভাবুন তো! অন্ধদের জীবন-যাপন। তার পরও তারা পুরো কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়টি অবশ্যই হালকা নয়!
ইসলামী ইরান পবিত্র কুরআন বিষয়ক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকেই যে কেবল গুরুত্ব দেয় তা নয়। ইসলামী ইরানে কুরআন হিফজ ও ক্বারাআত বিষয়ক এবং কুরআনের ভাষা (আরবি) ও শিক্ষা বিস্তার-বিষয়ক অনেক গবেষণা সংস্থাও সক্রিয় রয়েছে। দেশটির সরকার এ বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দেশটিতে কুরআনের শিক্ষা, তাফসির এবং কুরআন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়েও ব্যাপক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম বা আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। ইরানে যে কোনো ব্যক্তি পবিত্র কুরআন হিফজ বা মুখস্ত করতে পারলে তাকে মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের সনদ দেয়া হয়। এমনকি কুরআন শুদ্ধ ও সুন্দর করে পড়া সংক্রান্ত বিদ্যা বা তাজবিদ আয়ত্ত্ব করতে পারলে তথা ক্বারী হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাকেও দেয়া হয় একই শিক্ষাগত মর্যাদার সনদ। কোনো কারাবন্দী কুরআন হিফজ করতে পারলে বা কুরআন সংক্রান্ত শিক্ষায় পারদর্শী হতে পারলে তার শাস্তি মুওকুফ করা হয় বা কমানো হয়। #
মু. আ. হুসাইন/১৮