প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা
মজলুম জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে প্রিয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে ইরান
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই ইরান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জনপদের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইরানের এ ভূমিকার সাথে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে পরিচিতি করার লক্ষ্যে ‘আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব, কিশোরগঞ্জ’ বিশেষ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। ওই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি মানসম্মত লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ প্রকাশিত হলো প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত খন্দকার রাবিবা ইয়াসমিনের লেখা।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ও আফ্রিকার আরব দেশসমূহ এবং বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে ব্যাপক সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের মজলুম জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো। ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, গাম্বিয়া, লেবানন ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের সাথে ইরানের রয়েছে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতামূলক বন্ধুত্ব। এই সমস্ত দেশ ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী, যেমন রোহিঙ্গা, কুর্দি ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে সবসময় শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংকট সামরিক দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে। এরফলে ইরাক, ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইয়েমেনে বহুসংখ্যক মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হয়ে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে। এছাড়া আফগানিস্তানেও চার দশকব্যাপী চলা যুদ্ধে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন। এই সকল দেশের শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান করে মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ স্থাপন করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সমস্যা ও ইরাক থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ শরণার্থী বহু বছর ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে অবস্থান করেছে। শরণার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাদের বন্দীত্বের পরিবর্তে প্রকৃত মুক্তির স্বাদ পাইয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র আফগানিস্তান থেকে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২৩ লক্ষাধিক শরণার্থীকে ইরান আশ্রয় দিয়েছে। শরণার্থীদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থানের পাশাপাশি ইরানে মুক্তভাবে বিচরণ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে, যা পৃথিবীর অন্য কোন রাষ্ট্রের কাছে আশাও করা যায় না। বিভিন্ন দেশ থেকে পলাতক মুক্তিকামী জনগণ ও নেতাগণ ইরানের রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মজলুম জনগোষ্ঠীর পাশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত থাকে।
পবিত্রভূমি হিসেবে খ্যাত বায়তুল মোকাদ্দস দখলদার জায়োনিস্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে বিপ্লবী চেতনা নিয়ে রুখে দাঁড়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের জনগণ নিজের দেশেই বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। প্রতিবেশী দেশগুলো অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে নীরবতা পালননীতি অনুসরণ করায় বলা যায় তারা অন্যায়কারীকেই যেন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে নীরবে। এক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তারা সবসময় মজলুম ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সোচ্চার থেকেছে। তাদের নানাভাবে সাহায্য করেছে। আন্তর্জাতিক ভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি এবং জনমত গঠনে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। গাজা উপত্যকায় অবরুদ্ধ সাধারণ মানুষের কাছে ইরান মানেই একজন বিশ্বস্ত সহযোগী ও বন্ধু। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী ফিলিস্তিনের মানুষ। তাদের সহযোগিতা করে ইরান প্রকৃত ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে বললে অত্যুক্তি হয় না। মহাপবিত্র আল-কুদস ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে ইরানের ভূমিকা বরাবরের মতোই প্রশংসনীয়। ইরানের নেতৃবৃন্দ সবচেয়ে যে ঘটনা নিয়ে বেশি তৎপরতা দেখিয়েছেন তা হলো ফিলিস্তিন ও ইসরাইলে ন্যায়ভিত্তিক সমাধান অর্জন করতে। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রাণের সংগঠন হামাসকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে ইরান। ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যপ্রাপ্তির দ্বারা শক্তিশালী হচ্ছে মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ।
ইয়েমেনে আগ্রাসন মুসলিমবিশ্বের অপর একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। অকারণে সেখানে প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ। অবিরত বোমা হামলায় মাটিতে মিশে যাচ্ছে তাদের সভ্যতা। ইয়েমেনের সাধারণ জনগণ জানেও না- কেন তাদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র চুপ হয়ে দেখছে তাদের দুর্গতি। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বদা তাদের পাশে ছিলো। ইয়েমেন বাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে ইরান। এছাড়া লেবাননেও ইরানের সহযোগিতা মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশে বিগত কয়েক দশক ধরে আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়লাভ করেছে। বহুদূরের দেশ হয়েও ইরান সর্বদা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেয়া, তাদের সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বলা ইত্যাদি যেন ইরানের প্রাত্যহিক কাজের মধ্যে পড়ে। অথচ মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো কথিত সভ্য রাষ্ট্রগুলো চুপ করে দেখে যাচ্ছে তাদের নিপীড়নের শত-সহস্র চিত্র। তাদের কথার সাথে কাজের মিল খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নীরবে নিশ্চুপে সহযোগিতা করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সারাবিশ্বকে যেন গিলে খেতে চায়। তাদের কালো ছায়ায় পর্যদুস্ত নানা রাষ্ট্র ও জাতি। একটা সময় ইরানেও ছিলো তাদের শক্ত অবস্থান। ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের ইরান থেকে উৎখাত করা হয়েছে সফলভাবে। তাদের পরাজয়ের গ্লানির উপর সুরম্য প্রাসাদ গড়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। তাই তারা শুধু ইরান থেকে নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব থেকে বিপথগামীদের অশুভ প্রভাব দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে নিরলস। কাসেম সোলায়মানির মতো শত শত ইরানি নাগরিক প্রাণ দিচ্ছে অকাতরে। মানুষের জন্য প্রাণ দিতে তাদের যেন কোনই কার্পণ্য নেই।
পৃথিবীর সমস্ত মজলুম জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইসলামের মহান শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ইরানের মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় সহজেই। তাই মানবিকতা চর্চার সফলতায় ইরান সারাবিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মজলুম জনগোষ্ঠীর কাছে প্রিয় একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
খন্দকার রাবিবা ইয়াসমিন
শ্রেণি: মাস্টার্স
বিভাগ: ভূগোল ও পরিবেশ
রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী, বাংলাদেশ
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।