শ্রোতাদের মতামত
'রেডিও তেহরান আমাদের পরিবারের অংশ হয়ে গেছে'
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্রগুলো প্রায় ৬০-৬৫ বছর কিংবা তার বেশি সময় ধরে আমাদেরকে সেবা দিয়ে আসছে। আমার পূর্বপুরুষরা যেমন বেতার শুনেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন; তাঁদের থেকে শিখে আমরাও কালের পরিক্রমায় এখনো বেতার শুনে আসছি। আমাদের পাশাপাশি শুনছে আমাদের সন্তানরাও। এভাবেই বেতার আমাদের পরিবার-পরিজন সকলের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
বর্তমানে শুধু একটি আন্তর্জাতিক বেতারের প্রতি আমরা আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি। যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক একটি পরিবারের মতো। যে বেতার মাধ্যম শুধু পশ্চিমা বিশ্বকে নয়, কোনো দেশেরই মাতব্বরিকে তোয়াক্কা করে না। যে বেতারের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও তরজমা দিয়ে। তার পর বিশ্বে ঘটে চলা ঘটনাবলী, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের সংবাদ ও সংবাদের বিশ্লেষণ, আলোচনা ও নানা আঙ্গিকের অনুষ্ঠানমালার সমাহার এ বেতারকে পূর্ণতা দান করেছে।
শুধুমাত্র অনুষ্ঠানমালা নয়, এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা সম্পৃক্ত; সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, কলাকুশলী সবাই যেন আমাদের আত্মার আত্মীয়।
সবথেকে মজার বিষয় হলো শ্রোতাদের আসর। এ যেন এক মিলনমেলা, প্রিয়দের প্রিয় এবং সেরাদের সেরা অনুষ্ঠান সাজানোর চমক অনবদ্য। শিশু-কিশোর, যুব-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী সকলের জন্য আছে তাঁদের রুচিসম্মত ও মনঃপুত অনুষ্ঠানের সমাহার। ডাক্তারের পরামর্শ, শিশু-কিশোরদের আসর রংধনু, ইরান ভ্রমণ ইত্যাদি নানা স্বাদের নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে চলি নানা জগতে।
এতক্ষণ নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে, আমি কোন্ বেতারের বিষয়ে এসব কথা লিখছি। সেটি হচ্ছে আমাদের সকলের প্রিয় রেডিও তেহরান। আমি ও আমাদের পরিবারের সবাই দিন দিন এই বেতারের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠেছি।
যেহেতু ছোটবেলা থেকে বেতারের প্রতি একটা আকর্ষণ ছিল- বেতার থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি; এই পাওয়া কোনো অর্থ বা অন্যকোনো সুবিধা নয়। বেতারে সাথে যুক্ত হওয়ার সুবাদে পেয়েছি- সংবাদমাধ্যমের সাথে জড়িত সাংবাদিক এবং আমার অগ্রজ কিছু গুরুজন, আমার শিক্ষক, আমার ছাত্র, আমার বন্ধু-বান্ধব, আমার প্রিয় আদরের ছোট ভাই ও বোন। তাঁদের সকলের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এই রেডিওর সুবাদেই। আজ বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তেই যায় না কেন, সেখানেই কেউ না কেউ পরিচিতজন হাজির আছেন এই রেডিওর মাধ্যমেই। এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া। একদিকে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া যেকোনো জায়গায় আমার বেতার বন্ধু, প্রিয়জনদের খুঁজে পায়।
কালের পরিক্রমায় যদিও বেতার হারিয়ে যেতে চলেছে। তার পরেও বিশ্ব এখনো এত উন্নত হয়নি যে, বেতারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করতে পারবে।
এককথায় যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য হলো বেতার। সমাজ উন্নয়নের নীতি নিয়ম, দুর্যোগ দুর্বিপাক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংবাদ ও বিনোদনের বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক বেতারের বহু অনুষ্ঠান। তথ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আন্তর্জাতিক বেতারকে আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকি। বেতার ছিল, আছে এবং থাকবে আমাদের অহংকারের আলোকিত বাতিঘর হিসেবে। অনেকেরই ধারণা ইন্টারনেটের অগ্রযাত্রার ফলে বেতার তার গুরুত্ব হারাচ্ছে। আমার মতে ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ সময় যেমন বদলে যাচ্ছে ঠিক তেমনই সময়ের সাথে তালমিলিয়ে প্রচারণার ধরনও বদলে যাচ্ছে।
তবে এখনও মানুষ বেতার শোনে; বেতারের ওপর নির্ভর করে অগণিত মানুষ। বিশেষ করে দুর্যোগ দুর্বিপাকে যখন অন্য সব মিডিয়াগুলো স্থবির স্তব্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তখনও বেতার সেবা দিয়ে যায় নিরবচ্ছিন্নভাবে। গ্রামের, শহরের কৃষক, মজুর, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মেহনতি মানুষগুলো এখনো রেডিওকে তাদের বিনোদনের প্রধান এবং বিশেষ ভরসার মাধ্যম হিসেবে মনে করে।
বর্তমানে যখন একটার পর একটা আন্তর্জাতিক বেতার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন পশ্চিমা বিশ্বের প্রচুর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাণ-প্রিয় রেডিও তেহরান। গণমাধ্যম হিসেবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে এগিয়ে চলছে শুভ সুন্দর আগামীর পথে। আজ রেডিও তেহরান সগৌরবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে; সেই সঙ্গে আমাদের পরিবারের একটা অংশ হয়ে গেছে রেডিও তেহরান।
যুবরাজ চৌধুরী
সভাপতি,
আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।