'রেডিও তেহরান তার লক্ষ্য- উদ্দেশ্য থেকে এক চুলও পিছপা হয়নি'
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i106934-'রেডিও_তেহরান_তার_লক্ষ্য_উদ্দেশ্য_থেকে_এক_চুলও_পিছপা_হয়নি'
ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি'র বিশ্ব পরিক্রমার অধীনে বাংলা বিভাগ (রেডিও তেহরান বাংলা) জন্ম-যাতনা (১৯৮২ সাল) থেকে শুরু করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, পরিবর্তন-পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের নিকট একটি বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২১, ২০২২ ১০:৪৮ Asia/Dhaka
  • 'রেডিও তেহরান তার লক্ষ্য- উদ্দেশ্য থেকে এক চুলও পিছপা হয়নি'

ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি'র বিশ্ব পরিক্রমার অধীনে বাংলা বিভাগ (রেডিও তেহরান বাংলা) জন্ম-যাতনা (১৯৮২ সাল) থেকে শুরু করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, পরিবর্তন-পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের নিকট একটি বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

সময় পরিবর্তনশীল। পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা চেতনা, রুচি ও মননে নানা পরিবর্তন সাধিত হয়। রেডিও তেহরান সেই পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে মানসম্মত, সময়োপযোগী, জ্ঞানগর্ভ, চিন্তার খোরাক উদ্রেককারী অনুষ্ঠান প্রচার করে আসছে জন্মদিন থেকেই। যদিও নানা পরিবর্তনের মাঝেও রেডিও তেহরান তাঁর নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে এক চুলও পিছপা হয়নি।

রেডিও তেহরান শুধুমাত্র একটি গণমাধ্যমই নয়, এটি একটি আদর্শ পরিবার। একটি বহুমুখী শিক্ষা সংস্কৃতি, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, বিনোদন ও বিচিত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান। তার ভেতরে যে বিষয়টি সবার প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো- নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ সত্যের ওপর আধারিত তরতাজা বাস্তবধর্মী বিশ্ব সংবাদ যা অন্য কোনো পশ্চিমী গণমাধ্যম থেকে প্রচারিত হয় না। তাছাড়া রেডিও তেহরানই একমাত্র গণমাধ্যম যা মুসলিম জাহানের নির্যাতিত, নিপীড়িত ভাই-বোনদের আহাজারি সবিস্তারে তুলে ধরে। এক কথায় মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে চলেছে। 

তাছাড়া ইসলামী তাহজিব-তামাদ্দুন, কুরআন-হাদিসের আলোকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের পাথেয় সংগ্রহের এক অনুপম আদর্শ প্রচার করে চলেছে প্রতিনিয়ত। যাতে একজন মানুষ খোদাভীরু ও মুক্তির সোপান লাভ করতে সক্ষম হয়।

বিশ্বে যখন শর্টওয়েভ গণমাধ্যম দারুণভাবে বাজেট কর্তন তথা বিলুপ্তির পথে ধাবমান, তখন রেডিও তেহরান ওই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ও ডিজিটাল ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রচার করে মানুষের ঘরে ঘরে প্রতিদিন সংবাদ পৌঁছে দিয়েছে। তাই শ্রোতাদের সংখ্যাও বাড়ছে আশাতীতভাবে যা রেডিও তেহরানের একটি বড় সাফল্য।

রেডিও তেহরান ইরান-ইরাক, উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে বসনিয়া, চেচনিয়া , ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ ও পশ্চিম এশিয়ায় নানা যুদ্ধসহ আফগানিস্তান প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়ে রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে জনপ্রিয়তা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে।

রেডিও তেহরান ৪০ বছর জীবনকালে শ্রোতাদেরকে ধর্মীয় জ্ঞান গরিমা, নৈতিকতা, সৎ চরিত্রবান, সুস্থ দেহের অধিকারী ও মনোরঞ্জনের বিভিন্ন পশরা সাজিয়ে শ্রোতাদেরকে উপহার দিয়ে ধন্য করেছ। রেডিও তেহরান জীবনঘনিষ্ঠ, মানবিক, বাস্তবভিত্তিক, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাস্তবজীবনে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে আমাদেরকে ঋণী করেছে। সেই সাথে ব্যক্তিগত চরিত্র, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। রেডিও তেহরান ওই একমাত্র গণমাধ্যম যে পাশ্চাত্যের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে শ্রোতাদের মনের গহনে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে চলেছে।

রেডিও তেহরানের বিষয়ে যাই বলি, যত প্রশংসাই করি না কেন- সবই কম হবে। এ বেতারের ৪০ বর্ষপূর্তিতে আমার এটাই প্রত্যাশা- রেডিও তেহরান সকল বাধাবিপত্তি ও প্রতিকূলতার পেরিয়ে আরো সাফল্যের দিকে অগ্রসর হোক- এই কামনা করে শেষ করছি। খোদা হাফেজ।

 

ধন্যবাদান্তে,

আব্দুস সালাম সিদ্দিক,

সভাপতি, সকাল-সন্ধ্যা রেডিও লিসেনার্স ক্লাব,

কান্দুলিয়া, বড়পেটা, আসাম, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।