সিরিয়ায় অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করতে চাইছে আমিরাত
আরব আমিরাতে বাশার আসাদের সফর যেসব কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ
-
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়দ
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ গতকাল (১৮ মার্চ) আরব আমিরাত সফর করেছেন। গত ১১ বছরের মধ্যে এটা ছিল কোনো আরব দেশে তার প্রথম সফর। তার এই সফর নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত এই সফর সিরিয়ার সরকারকে উৎখাত করার সমস্ত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ করল। আরব আমিরাত ও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের অন্য পাঁচ সদস্য ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত ফিরিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেছিল। আরব আমিরাত গত এক দশকে বাশার আসাদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকার-ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করেছিল। এখন সেই আরব আমিরাতই ১১ বছর পর প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে বাশার আসাদের রাষ্ট্রীয় সফরের মিজবান হল। আরব আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়েদ আসাদকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। অথচ এই ব্যক্তিই গত ১১ বছরে আরব বিশ্বে সিরিয়া বিরোধী তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।
গত ১১ বছরে বাশার আসাদ খুব কমই সফর করেছেন। এ সময়ে তিনি কেবল সিরিয়ায় সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে প্রধান দুই মিত্র বা সহযোগী রাষ্ট্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও রাশিয়ায় সফর করেছেন।
দ্বিতীয় যে কারণে আরব আমিরাতে বাশার আসাদের এ সফর বেশ গুরুত্বের দাবি রাখে তা হল এ সফর সিরিয়ার ক্ষমতায় বাশার আসাদের নেতৃত্বের প্রতি বৈধতার স্বীকৃতির সমতুল্য। আসাদ এমন সময় আরব আমিরাত সফর করলেন যখন ১১ বছর আগে ঠিক এ মাসেই তার দেশে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহাষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। আসাদ এ সফরের মাধ্যমে বিরোধীদের ওপর নিজের বিজয় ঘোষণারই পরোক্ষ বার্তা দিলেন ও এ বার্তাও তুলে ধরলেন যে গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিরিয়ার জনগণ তাকে বিজয়ী করেছে। এখন বাইরের দেশগুলোও এ বিষয়টির স্বীকৃতি দিচ্ছে। আর তাই বাশার আসাদকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছে মার্কিন সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেছে: আমরা বাশার আসাদ সরকারকে বৈধতা দেয়ার প্রচেষ্টায় দুঃখিত।
এ সফরের গুরুত্বের তৃতীয় দিক হল যদিও সিরিয়াকে আরব লিগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়া হবে কিনা এখনও তা স্পষ্ট নয়। তবে আরব লিগের অনেক সদস্য এককভাবে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করায় এই জোটে দামেস্ককে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে এবং এ বিষয়ে মতভেদও দূর হতে পারে। আমিরাত, আলজেরিয়া ও কুয়েত দামেস্ককে আরব লীগে ফিরিয়ে আনতে বলেছে। অন্যদিকে কাতার ও সৌদি আরব এর বিরোধিতা করছে। ২০১১ সালের শেষের দিকে আরব লীগ থেকে সিরিয়াকে সরিয়ে দেয়া হয়।
এ সফরের গুরুত্বের চতুর্থ দিক হল আবুধাবি দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জাইদ আল নাহিয়ান গত নভেম্বর মাসে দামেস্কে বাশার আসাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল দেশটিতে রাজতান্ত্রিক আরব সরকারগুলোর কোনো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার প্রথম সফর। এর আগে আমিরাত ২০১৮ সালে আবারও দামেস্কে তার দূতাবাস খুলে দেয়। আমিরাত একদিকে সিরিয়ায় অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করতে চাইছে ও অন্যদিকে সন্ত্রাসের সহযোগী হিসেবে তার যে দুর্নাম হয়েছে তাও কিছুটা মেরামতের চেষ্টা করছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১৯