ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া পাঁচ দিনের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i123216-ফিলিস্তিনিদের_বিরুদ্ধে_ইসরাইলের_চাপিয়ে_দেয়া_পাঁচ_দিনের_যুদ্ধের_ক্ষয়ক্ষতি
ফিলিস্তিনিদের মহাবিপর্যয় বা নাকবা দিবস পালনের প্রাক্কালে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় পাঁচ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে এমন সময় যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হলো যখন ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেলআবিব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ১৫, ২০২৩ ১২:২৬ Asia/Dhaka

ফিলিস্তিনিদের মহাবিপর্যয় বা নাকবা দিবস পালনের প্রাক্কালে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় পাঁচ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে এমন সময় যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হলো যখন ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেলআবিব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

গত মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে। এরপর যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে পাল্টা আঘাত হানা শুরু করে। এরপর মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় শনিবার গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি হয়। পাঁচ দিনের এই যুদ্ধকে দু'দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। এই যুদ্ধে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এ পর্যন্ত ৩৩ জন শহীদ এবং ১৯০ জন আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের সামরিক শাখা জানিয়েছে, পাঁচ দিনের ইসরাইলি হামলায় তাদের কমান্ডারসহ ১১জন শহীদ হয়েছে।

যুদ্ধের দ্বিতীয় দিকটি হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলায় ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি। ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাঁচ দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলে ১৪৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছুঁড়েছে। এর মধ্যে ১১৩৯টি ইসরাইলে আঘাত হেনেছে এবং ৪৩৯টি আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ঠেকানো হয়েছে। এ ছাড়া, ফিলিস্তিনিদের হামলায় দুজন ইসরাইলি নিহত এবং ৭৫ জন আহত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় ফিলিস্তিনিরা দৈনিক ২৯৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট দিয়ে  ইসরাইলে আঘাত হেনেছে যা থেকে ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্রের চার ভাগের এক ভাগ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। এ থেকে ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঘোষিত পরিমাণের চাইতেও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ ইসরাইল এখন আর আগের মতো নিরাপদ তো নয় বরং তাদের যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতেই সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভা যদিও এই যুদ্ধে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে পাঁচ দিন পর তারা ঠিকই যুদ্ধবিরতি করতে বাধ্য হয়েছে যা থেকে তাদের দুর্বলতাই ফুটে উঠেছে। কারণ ফিলিস্তিনিদের মুহূর্মূহু রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জর্জরিত হয়ে ইসরাইলের জনগণ নেতানিয়াহু সরকারের উপর ক্ষুব্ধ হচ্ছিল। # 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।