বদরুদ্দিন হুথি: সব দিক থেকে ইয়েমেনকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল শত্রুরা
-
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মহাসচিব সাইয়্যেদ আবদুল মালেক বদরুদ্দিন আল-হুথি
পার্সটুডে—ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মহাসচিব সাইয়্যেদ আবদুল মালেক বদরুদ্দিন আল-হুথি বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমনের সময় ইসরাইলি শত্রুপক্ষ ইয়েমেন রাষ্ট্রকে সব দিক থেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রিয় ইয়েমেনি জনগণ টানা আগ্রাসন ও অন্যায় অবরোধের মুখোমুখি। এই অবরোধ এখন দ্বাদশ বছরে প্রবেশ করেছে। মার্কিন তত্ত্বাবধানে এবং ইসরাইলের উসকানিতে সৌদি শত্রুপক্ষ এই অবরোধ আরোপ করেছে।
ইয়েমেনের এই নেতা বলেন, সৌদি শত্রুপক্ষ পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইয়েমেনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর পরিবর্তে তারা এমন একটি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় জোর দিচ্ছে, যার ভিত্তি হবে ইয়েমেনের জনগণকে অপমান করা এবং তাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
সাইয়্যেদ আবদুল মালেক বদরুদ্দিন বলেন, সৌদি শত্রুপক্ষ মনে করে, ইয়েমেনের জনগণ দুর্বল, পরাধীন, নিপীড়িত, বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন থাকলেই তাদের শক্তি বজায় থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা আত্মরক্ষার অবস্থানে রয়েছি এবং সৌদি আগ্রাসন আমরা শুরু করিনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সূচনা হয় সৌদি শত্রুপক্ষের সানা বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে। আগ্রাসনের প্রতিটি পর্যায়েই সৌদি আরব কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই আগ্রাসন শুরু করেছে। ইয়েমেনের জনগণ সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত শুরু করেনি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অবস্থানেও ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, সৌদি আগ্রাসনকারী পক্ষ এমন ভয়াবহ অপরাধ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এসব অপরাধ পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়েছে।
আনসারুল্লাহর মহাসচিব বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে অবরোধ এখনো বিদ্যমান। কারণ, সৌদি আরব বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং আমদানি করা পণ্যের ওপর অন্যায় ও অবৈধ বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও ইয়েমেনের ওপর অবরোধের বাস্তবতা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের জনগণের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে নির্বিচারে নানা পদক্ষেপ ও বিধিনিষেধ ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে নিজেদের অপরাধের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সৌদি শত্রুপক্ষ তাদের সব ধরনের গণমাধ্যম ও প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করছে। বিভিন্ন অপবাদ ও অভিযোগের মাধ্যমে তারা অন্যদের উসকে দেওয়ার এবং নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে তাদেরও অংশীদার করার চেষ্টা করছে।
আনসারুল্লাহর মহাসচিব আরও বলেন, মুসলিম ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও অন্যায় অবরোধকে সমর্থন দিতে সৌদি সরকার মক্কা শরিফের পবিত্রতার বিষয়টিকেও অপবাদ ও অভিযোগের মাধ্যমে ব্যবহার করছে। তবে ইয়েমেনের জনগণ পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় মুসলিম বিশ্বের অন্যতম অগ্রগণ্য জাতি এবং তারা এসব পবিত্র স্থান রক্ষায় অন্যদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ /১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।