সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির অবসান: নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে আমেরিকা
সিরিয়ায় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সরকারি সেনারা অভিযোগ করেছে, কথিত মধ্যপন্থি গেরিলা গোষ্ঠীগুলো চুক্তি মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকাও দাবি করেছে, রাশিয়া যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়াও সিরিয়া সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ক্যাস্তিলো মহাসড়ক মুক্ত করে দেয়া, আসাদ বিরোধী কথিত মধ্যপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকার প্রভাব খাটানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল আমেরিকা এ চুক্তি মানবে না। বরং তারা যুদ্ধবিরতির নামে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও রুশ বিমানের আক্রমণের মুখে প্রচণ্ড চাপে থাকা সন্ত্রাসীদেরকে বিশ্রাম নেয়ার বা আরো সুসংগঠিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই আমেরিকা ও রাশিয়া একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানার বিষয়ে আমেরিকার কোনো আগ্রহ নেই বরং তাদের গোপন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।
অন্যদিকে সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো স্বীকার করেছে, তাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছে এবং তাদের অনেকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে আগ্রহী নয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে খোদ আমেরিকা চুক্তি লঙ্ঘন করে বিমান হামলা চালিয়ে সিরিয়ার ৮০ সেনাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আরো বহু সেনা আহত হয়েছে। যদিও মার্কিন সেনারা দাবি করেছে দায়েশের অবস্থান ভেবে ভুল করে তারা সিরিয়ার সেনা অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন এ ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে আবারো প্রমাণিত হয়েছে, প্রচণ্ড চাপ থেকে সন্ত্রাসীদেরকে কিছুটা বিরতি বা স্বস্তি দেয়ার জন্য যুদ্ধবিরতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে আমেরিকা। এটা তাদের প্রতারণার আরেকটি দৃষ্টান্ত। এক সপ্তাহর যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোঁড়া শুরু করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সিরিয়া সরকার যুদ্ধবিরতি অবসানের ঘোষণা দিয়েছে এবং দামেস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে মস্কো তার প্রভাব খাটায়নি।
সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সর্বোচ্চ কাউন্সিলের প্রধান রিয়াজ হাজ্জাব নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের অবকাশে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে তাদের কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্রোহীদের সর্বোচ্চ কাউন্সিল সিরিয়ার ভবিষ্যতের ব্যাপারে যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছে তাতে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তবে একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিও ওই পরিকল্পনায় আছে। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সর্বোচ্চ কাউন্সিলের প্রধান আরো বলেছেন, চলতি মাসেই লন্ডনে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে কেবল যুদ্ধবিরতি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এটির বাস্তবায়ন সম্ভব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা ও সিরিয়ার কথিত বিদ্রোহীদের কাছে মানবতার কোনো মূল্য নেই। বরং তারা যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের অবস্থানকে আরো শাক্তিশালী করার জন্যই যুদ্ধবিরতির কথা বলেছিল। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২০