উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া'র বৈঠক: কেরির প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i20779-উত্তেজনার_মধ্য_দিয়ে_অনুষ্ঠিত_হল_'ফ্রেন্ডস_অব_সিরিয়া'র_বৈঠক_কেরির_প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম সম্মেলনের অবকাশে সিরিয়ায় সরকার বিরোধী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া'র বৈঠক বিবাদ ও উত্তেজনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিরিয়ায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬ ১৪:১৭ Asia/Dhaka

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম সম্মেলনের অবকাশে সিরিয়ায় সরকার বিরোধী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া'র বৈঠক বিবাদ ও উত্তেজনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিরিয়ায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।

নিউইয়র্কে 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া' গ্রুপের বৈঠক থেকে বের হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সাংবাদিকদের সামনে 'যুদ্ধবিরতি এখনও মারা যায়নি' কেবল এতটুকু বলেই কথা শেষ করেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন মার্ক বলেছেন, 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া' গ্রুপের বৈঠক ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধি স্টিফেন ডি মিস্তোরাও বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো মারা যায়নি।

নিউইয়র্কে 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া' গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠানের আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর রুশ-মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ওই বৈঠকে তারা কেবল সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছাড়া সিরিয়ার বাদবাকি এলাকায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যদিয়ে এক সপ্তাহের ব্যর্থ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত 'ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া' গ্রুপের বৈঠকেও তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সিরিয়ায় সহিংসতা বজায় থাকলেও নিউইয়র্ক বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা কেরি-ল্যাভরভ সমঝোতা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ছয় বছর ধরে সিরিয়া সংকট অব্যাহত থাকায় বোঝা যায়, এ সংকট নিরসনে মার্কিন চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমেরিকার একক ও সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি নেই। এ অবস্থায় সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রুশ-মার্কিন যত সমঝোতাই হোক না কেন তাতে কোনো লাভ হবে না। সিরিয়া সংকট সমাধানে আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য আমেরিকা এ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমেরিকার আচরণ ও কর্মকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা আসলে কখনই চায়নি সিরিয়া সমস্যার সমাধান হোক। এ জন্যই জেনেভায় ১৪ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক আলোচনার পর  কেরি ও ল্যাভরভ এক সপ্তাহের জন্য সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হলেও তাতে কিছুই অর্জিত হয়নি। বরং পারস্পরিক অবিশ্বাস বেড়েছে এবং সবাই যুদ্ধবিরতির পূর্ব অবস্থায় ফিরে গেছে।

পাশ্চাত্যের সমর্থনপুষ্ট দায়েশ সন্ত্রাসীরা যুদ্ধবিরতির সুযোগে আলেপ্পোয় সিরিয়ার সেনা অবস্থান ও স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি তারা মানবিক ত্রাণ বহরেও হামলা চালিয়েছে। রুশ-মার্কিন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফতেহ আশ্ শাম গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করা হলেও তাদের অনুগত অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মধ্যপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা সিরিয়ার সরকার বিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে মধ্যপন্থী আখ্যায়িত করে তাদের পেছনে প্রচুর পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। অথচ এসব গ্রুপ সিরিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। বিদেশি মদদপুষ্ট এসব সন্ত্রাসী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে বহু দিন ধরে।

যাইহোক, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায় সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিউইয়র্কে বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি অনেকটা হতাশা প্রকাশ করেই বলেছেন, 'যুদ্ধবিরতি এখনো মারা যায়নি।' #  

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২১