আস্তানা বৈঠকের আগে ইরান-তুরস্ক-রাশিয়া জরুরি শলাপরামর্শ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i31552-আস্তানা_বৈঠকের_আগে_ইরান_তুরস্ক_রাশিয়া_জরুরি_শলাপরামর্শ
আগামীকাল (সোমবার) কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় শুরু হচ্ছে সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনা। এতে যোগ দিতে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন জাবেরি আনসারি একটি শক্তিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে এরইমধ্যে আস্তানা পৌঁছেছেন।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জানুয়ারি ২২, ২০১৭ ১৫:২১ Asia/Dhaka

আগামীকাল (সোমবার) কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় শুরু হচ্ছে সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনা। এতে যোগ দিতে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন জাবেরি আনসারি একটি শক্তিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে এরইমধ্যে আস্তানা পৌঁছেছেন।

তিনি শনিবার আস্তানায় তুর্কি ও রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিরিয়া সংকট সমাধানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আস্তানা বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে গত ২০ ডিসেম্বর মস্কো ঘোষণা অনুযায়ী আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

মস্কোয় যে সমঝোতা অর্জিত হয়েছিল এবং যার ধারাবাহিকতায় এখন আস্তানায় বৈঠক হতে যাচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য এমন একটি সংকটের সমাধান করা যা সিরিয়ায় ছয় বছরের জন্য যুদ্ধ ও সহিংসতা বাধিয়ে রেখেছে।

জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে এবং রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের সহযোগিতায় সিরিয়ার সরকার ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হচ্ছে আস্তানা বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই এই বৈঠক যাতে সফল না হয় সেজন্য ষড়যন্ত্র করবে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল। কারণ, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব জানে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক মিলে যদি সিরিয়ার দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে তাহলে দেশটির গত ছয় বছরের সহিংসতা অবসানের সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে আর সিরিয়ায় সহিংসতা জিইয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

অবশ্য অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, বর্তমান স্পর্শকাতর সময়ে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক করে কোনো কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে যেটা স্পষ্ট তা হচ্ছে, সিরিয়া বিষয়ক জেনেভা সম্মেলন ও আস্তানা বৈঠকের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। জেনেভা সম্মেলনের সময় সিরিয়ার আলেপ্পো নগরী বিদ্রোহীদের দখলে ছিল। কিন্তু এখন সে শহর সিরিয়ার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া, বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর দায়েশ ও আন-নুসরা ফ্রন্ট ছাড়া সিরিয়ার সংঘর্ষ বলতে গেলে পুরোপুরি থেমে গেছে। অথচ জেনেভা সম্মেলনের সময় সিরিয়ায় তুমুল সংঘর্ষ চলছিল। ফলে আস্তানা সম্মেলনের কোনো পক্ষ এখন আর যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে না বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলমান যুদ্ধবিরতিকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় স্থায়ী রূপ দেয়ার প্রচেষ্টা চালাবে।

তুরস্কও এখন সিরিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এই দেশটির সরকার এতদিনে বুঝতে পেরেছে, যতদিন সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ হবে না।

তবে এতকিছুর পরও রাতারাতি সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এমন আশা কেউই করছেন না। আমেরিকা, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো সিরিয়ায় সংঘর্ষ চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে। নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এসব দেশের যত দ্রুত শুভবুদ্ধির উদয় হবে তত দ্রুত সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, দেশটিতে রক্তপাত বন্ধ হবে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ক্ষেত্র তৈরি হবে।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২২