হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দৃষ্টিতে সৌদি, বাহরাইন ও আমিরাতে মানবাধিকার পরিস্থিতি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i67441-হিউম্যান_রাইটস_ওয়াচের_দৃষ্টিতে_সৌদি_বাহরাইন_ও_আমিরাতে_মানবাধিকার_পরিস্থিতি
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত তিনটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ' বলে উল্লেখ করেছে। এই তিনটি দেশ হলো সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ১৪:৫৭ Asia/Dhaka
  • সালমান, হামাদ আল-খলিফা ও শেখ মুহাম্মাদ বিন রাশিদ
    সালমান, হামাদ আল-খলিফা ও শেখ মুহাম্মাদ বিন রাশিদ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত তিনটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ' বলে উল্লেখ করেছে। এই তিনটি দেশ হলো সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

পিজিসিসিভুক্ত অপর তিন দেশ কাতার, কুয়েত ও ওমান সবসময় পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চায়। আর সৌদি, বাহরাইন ও আমিরাত চায় উত্তেজনা ও সহিংসতা জিইয়ে রাখতে। এই তিন দেশ ইয়েমেনের ওপর চার বছর ধরে যে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তা গত কয়েক দশকে মানবিক বিপর্যয়ের অন্যতম উদাহরণ। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগে সহযোগিতা করা, কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি দোহার ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা, সিরিয়া ও ইরাকসহ  এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ ইত্যাদি ওই তিন দেশের উত্তেজনা ও সহিংসতা সৃষ্টিকারী নীতির প্রমাণ।

এই তিন দেশের সরকার অন্যান্য দেশে বিশেষ করে সিরিয়া ও ইয়েমেনে নির্লজ্জভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। হেগে'র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য চার ধরনের অপরাধই তারা করেছে। এই চারটি অপরাধ হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং ধর্ষণ। এইসব অপরাধ তারা যে কেবল বাইরের দেশেই করছে তা নয় বরং সংস্থাটির মতে নিজ নিজ দেশেও তারা খোলাখুলি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

বাক-স্বাধীনতা হরণ, সমালোচনাকারী ও বিক্ষোভকারীদের চরম শাস্তি দেওয়া, তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন আদেশ দেওয়া, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর জেল-জুলুম চালানোসহ আরও বহু রকমের নির্যাতন চালানো সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষুদ্র চিত্র। বাহরাইনে তো জেল-জুলুমের মতো অন্যায়ের পাশাপাশি বিরোধীদের নাগরিকত্বও হরণ করা হয়।

কেনেথ রথ

বাহরাইনে ২০১১ সাল থেকে ১৭০ বিক্ষোভকারী অথবা কারাবন্দি নিহত হয়েছে। আলে-খলিফার কারাগারে বন্দি আছেন ৫ হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী। বিনা বিচারে বছরের পর বছর তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে কারাগারে। শিয়া মুসলমানদের ওপরও আলেখলিফা সরকারের জুলুমের শেষ নেই।

আলেসৌদ, আলেনাহিয়ান আর আলেখলিফাদের বিরুদ্ধে যে-ই দাঁড়াবে তাকেই প্রাণ অথবা নাগরিকত্ব হারাতে হবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের উপ নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ মনে করেন গণসচেতনতা সৃষ্টির কারণে জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন