এতো বেশি সেনা নিহতের ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন তুরস্কের জনগণ ও রাজনীতিবিদরা?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i77875-এতো_বেশি_সেনা_নিহতের_ঘটনাকে_কিভাবে_দেখছেন_তুরস্কের_জনগণ_ও_রাজনীতিবিদরা
পশ্চিম এশিয়ার গণমাধ্যমগুলো যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার ইদলিবে বহু সংখ্যক তুর্কি সেনার হতাহতের খবর দিয়েছে। দক্ষিণ তুরস্কের গভর্নর হাতাই জানিয়েছেন, সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে তুর্কি সেনা অবস্থানে সিরিয়ার বিমান হামলায় ৩৪ তুর্কি সেনা নিহত এবং বহু সংখ্যক সেনা আহত হয়েছে। এদিকে, সিরিয়ার বিমান হামলায় তুর্কি সেনা হতাহতের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দফতরের প্রধান ফখরুদ্দিন অলতুন হুমকি দিয়েছেন, সিরিয়ার ওই হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া হবে না।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ০১, ২০২০ ১১:৩৮ Asia/Dhaka
  • এতো বেশি সেনা নিহতের ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন তুরস্কের জনগণ ও রাজনীতিবিদরা?

পশ্চিম এশিয়ার গণমাধ্যমগুলো যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার ইদলিবে বহু সংখ্যক তুর্কি সেনার হতাহতের খবর দিয়েছে। দক্ষিণ তুরস্কের গভর্নর হাতাই জানিয়েছেন, সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে তুর্কি সেনা অবস্থানে সিরিয়ার বিমান হামলায় ৩৪ তুর্কি সেনা নিহত এবং বহু সংখ্যক সেনা আহত হয়েছে। এদিকে, সিরিয়ার বিমান হামলায় তুর্কি সেনা হতাহতের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দফতরের প্রধান ফখরুদ্দিন অলতুন হুমকি দিয়েছেন, সিরিয়ার ওই হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া হবে না।

সিরিয়ার বিমান বাহিনী সম্প্রতি ইদলিবে অবস্থিত আইএস সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু ওই হামলায় সেখানে অবস্থিত বহুসংখ্যক তুর্কি সেনা হতাহত হয়। এদিকে তুরস্ক  সরকারের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হতাহত তুর্কি সেনারা আইএস সন্ত্রাসীদের সাহায্যের জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, নিজেদের ঘাঁটি থেকে বাইরে আসা তুর্কি সেনাদের উচিত হয়নি। তিনি মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইদলিবে মোতায়েন তুর্কি সেনাদের দায়িত্ব ছিল তারা সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু তারা তা না করে মধ্য এশিয়া থেকে আগত সন্ত্রাসীদের মধ্যে মিশে গিয়েছিল।

এদিকে, সিরিয়ার সাধারণ একটি হামলায় তুরস্কের এতো বিশাল সংখ্যক সেনা নিহত হওয়ার পর তুরস্কের জনগণকে টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্ট্রাগ্রাম প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সেনা নিহত হওয়ার পর তুরস্ক সরকার প্রথমেই যে কাজটি করেছে তা হচ্ছে সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে যাতে জনগণ সেনা নিহত হওয়ার ব্যাপারে সঠিক তথ্য না পায়। এ থেকে বোঝা যায় আঙ্কারা কর্তৃপক্ষ তুর্কি জনগণের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার আতঙ্কে আছে।

এরই মধ্যে তুরস্কের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সরকার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা ইদলিব পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার জন্য রাজধানী আঙ্কারায় জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। পিপলস রিপাবলিক দল সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় সংসদেও জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে তুরস্কের অন্যান্য রাজনৈতিক দল সিরিয়ার ব্যাপারে এরদোগান সরকারের নীতির সমালোচনা করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কের কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতিকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছেন।

তুরস্কের পিপলস রিপাবলিক দলের নেতা কামাল কালিচদার ওগ্লু প্রথম থেকেই সিরিয়ায় তুর্কি সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তিনি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আঙ্কারায় দলীয় কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে যত দ্রুত সম্ভব সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে, তুরস্কের কোনো কোনো রাজনীতিবিদ আমেরিকার সঙ্গে এরদোগানের মাত্রাতিরিক্ত সখ্যতা এবং সিরিয়ার কোনো কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপকে সমর্থন দেয়ার জন্য এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।       

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তুরস্কের সরকার বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং সিরিয়ার একটি অংশ স্থায়ীভাবে দখল করে নেয়ার প্রচেষ্টা চালালেও তুরস্কের জনগণ এর তীব্র বিরোধী। কেননা সরকারের এ পদক্ষেপ দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১