মার্কিন সহযোগিতার কথা স্বীকার করলো সিরিয়ার দায়েশ
-
আটক তিন সন্ত্রাসী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিচ্ছে
সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের আত-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ। সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক দায়েশের কয়েকজন সন্ত্রাসী একথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, আত-তানফ ঘাঁটি ব্যবহার করে তারা বহু সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেছে।
দায়েশের আটক তিন সন্ত্রাসীর এই স্বীকারোক্তি গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। আটক ওই তিন সন্ত্রাসীর নাম সালাহ জাবের আল-জাহের, আলি সালিম ইয়াহিয়া এবং আমের আব্দুল গাফের নেমাহ।
তারা জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা তাদেরকে সিরিয়ার প্রাচীন শহর পালমিরার আশপাশে সরকারি সেনাদের অবস্থানে হামলা চালাতে নির্দেশনা দিত। টি-ফোর সামরিক ঘাঁটি, শায়ের গ্যাসক্ষেত্র এবং আশপাশের তেল ক্ষেত্রে হামলা চালানোর দিক নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিত মার্কিন সেনারা।
একজন সন্ত্রাসী জানায়, “আমাদের কমান্ডার হাসান আলকাম জাজরাবির একজন ঘনিষ্ঠ সহচর একদিন আমাদেরকে এসে বলল, আত-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। হাসান আল-ওয়ালি নামের ওই ব্যক্তি জানায় যে, পালমিরা শহর এবং টি-ফোর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে হবে। এ কাজে মার্কিন সেনারা রকেট, মেশিনগান এবং প্রয়োজনীয় অর্থসহ সব রসদ সরবরাহ করবে।”
অন্য এক সন্ত্রাসীর জানায়, “মার্কিন সেনারা তাদের গোয়েন্দা ড্রোনের মাধ্যমে সিরিয়ার সেনাদের তৎপরতা নজরদারি করত এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর জন্য আমাদের সমস্ত তথ্য জানিয়ে দিত।”
এসব সন্ত্রাসী সম্প্রতি সিরিয়ায় সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় আটক হয়। তারা জানিয়েছে, দায়েশের কমান্ডারদের সঙ্গে কথিত বিপ্লবী কমান্ডো আর্মির যোগাযোগ ছিল। আটক সন্ত্রাসীরা আরো জানিয়েছে, দায়েশের কথিত রাজধানী রাকার পতনের আগে থেকে কুর্দি গেরিলাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলেছে। সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে, তাদের অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর পরিপূর্ণ সমর্থন থাকতো, তাদেরকে সুরক্ষা দিত কয়েকটি মার্কিন হেমার গাড়ি এবং তাদের মাথার উপরে হেলিকপ্টার-গানশিপ টহল দিতো। দায়েশ সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে, রাকা থেকে দেইর আজ-যোরে যাওয়ার সময় আমেরিকার সেনাদেরকে জানিয়ে তারা সেখানে গেছে এবং রাকা থেকে দেইর আজ-যোর পর্যন্ত পৌঁছানোর সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদেরকে পরিপূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছে।
অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য রসদ সহযোগিতার ব্যাপারে সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে, সিরিয়ার আত-তানফ সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে সবকিছু হতো। সন্ত্রাসীদের কমান্ডার প্রতিমাসে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে যেত এবং সেখান থেকে খাদ্য, অর্থ, গোলা-বারুদ এবং মার্কিন নির্মিত অস্ত্র আনতো।
সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে, আত-তানফ সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে তারা সমস্ত রসদ পেত এবং সন্ত্রাসীদের কেউ যদি কখনো আহত হতো তাহলে তাকে চিকিৎসার জন্য আত-তানফ ঘাঁটিতে নেয়া হতো।#
পার্সটুডে/এসআইবি/১৫