মস্কো-কিয়েভ শান্তি আলোচনায় মার্কিন বাধা: মস্কোর সমালোচনা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i105452-মস্কো_কিয়েভ_শান্তি_আলোচনায়_মার্কিন_বাধা_মস্কোর_সমালোচনা
ইউক্রেনের ব্যাপারে মার্কিন নীতির সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, কিয়েভকে মস্কোর দেওয়া সহজ শর্তগুলো মেনে নিতে আমেরিকা বাধা দিচ্ছে। মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনার সময় লক্ষ্য করা গেছে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান এবং ইচ্ছেগুলো ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২০, ২০২২ ১৩:১১ Asia/Dhaka

ইউক্রেনের ব্যাপারে মার্কিন নীতির সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, কিয়েভকে মস্কোর দেওয়া সহজ শর্তগুলো মেনে নিতে আমেরিকা বাধা দিচ্ছে। মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনার সময় লক্ষ্য করা গেছে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান এবং ইচ্ছেগুলো ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ

রুশ-ইউক্রেন আলোচনা সমঝোতায় উপনীত হোক এবং যুদ্ধের অবসান ঘটুক-সেই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার মানে হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে ওয়াশিংটন চায় না যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটুক। কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক যাতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় দেশের সামরিক শক্তি ও সামর্থ্য ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয়। এদিক থেকে বিশ্লেষণ করলে সহজেই বোঝা যায়, রাশিয়ার দেওয়া শর্ত মেনে না নিতে উস্কানি দিয়ে মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালতেই সাহায্য করেছে আমেরিকা। মস্কো চেয়েছে ইউক্রেন যাতে ন্যাটোতে যোগ না দেয়, ওই বাহিনীর সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে ন্যাটোকে যেন সহযোগিতা না করে কিংবা তাদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ না করে। বাইডেন সরকার পক্ষান্তরে পাশ্চাত্যপন্থি কিয়েভ সরকারকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সামরিক সাহায্য বৃদ্ধি করে এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ লাভের আশ্বাস দেয়। এ কাজ করে কার্যত আমেরিকা রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের উস্কানি দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দুই দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে আমেরিকা পশ্চিমা ব্লকের নেতা হিসাবে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের অজুহাতে মস্কোর বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এভাবে আমেরিকা রাশিয়াকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দুর্বল করে দেওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে পূরণ করার পাঁয়তারা করছে। এ কারণেই আমেরিকা মস্কো-কিয়েভ যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় উপনীত হবার পথে বাধা দিচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তাই রাশিয়ার দেওয়া সহজ শর্তগুলোও মেনে নিতে দিচ্ছে না। ল্যাভরভ বলেন: আমরা লক্ষ্য করেছি মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে আলোচনা চলাকালে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের ওপর তাদের দাবি চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় আমেরিকা ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় না।

দিমিত্রি মেদভেদেফ

আমেরিকা ভাবছে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে মস্কোর অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিনের বৈধতা ও জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে। যদিও রুশ নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। রুশ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-সচিব দিমিত্রি মেদভেদেফ যেমনটি বলেছেন: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অর্থনীতির কোনো ক্ষতি হবে না। নিষেধাজ্ঞার ভেতর কীভাবে কাজ করতে হয় রাশিয়ার সেটা জানা আছে। সোভিয়েত-পরবর্তী পরিবেশে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার মতো নির্ভরযোগ্য বন্ধু রাশিয়ার রয়েছে। উল্টো বরং যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ইউক্রেনই অর্থনৈতিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে দেশের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও বাড়বে। এমনিতেই ইউক্রেনিয় শরণার্থীর সংখ্যা ত্রিশ লাখ ছেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশও শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হবে যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও। আর লাভবান হবে আমেরিকা। কারণ এরইমধ্যে ইউরোপের দেশগুলো তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়েছে এবং জার্মানি ও পোল্যান্ডের মতো দেশ এরইমধ্যে আমেরিকার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার অনুরোধ করেছে। সুতরাং যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আমেরিকাই লাভবান হবে। সে কারণেই তারা যুদ্ধের অবসান চায় না।#

পার্সটুডে/এনএম/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।