ট্রাম্পের "সহানুভূতিমূলক" বক্তব্য; তিনি কি আদৌ ইরানের জনগণের জন্য চিন্তিত?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i155788-ট্রাম্পের_সহানুভূতিমূলক_বক্তব্য_তিনি_কি_আদৌ_ইরানের_জনগণের_জন্য_চিন্তিত
পার্সটুডে- সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে তার হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জানুয়ারি ০৫, ২০২৬ ১৭:১৫ Asia/Dhaka
  • • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে- সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে তার হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দাবিদাওয়াকে  গুরুত্ব দিয়ে যখন কথা বলছে তখন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ জানুয়ারী রবিবার সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ সম্পর্কে আবারও সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, দ্রব্য মূল্যের ওঠানামার কারণে, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইরানে বিক্ষোভ হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ কর্তৃপক্ষ জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদের দাবি শোনাকে সরকারি শাসনব্যবস্থার মূলনীতি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ট্রাম্প এর আগে তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যালে ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে সে সম্পর্কে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সাথে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের পর পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা জোরদার করার চেষ্টার অজুহাতে এবং ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করে তেহরানের উপর সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি এবং হুমকির জবাবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের মন্তব্যকে "বেপরোয়া এবং বিপজ্জনক" বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এই অবস্থানগুলো সম্ভবত কূটনীতির বিরোধিতাকারী বা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করে এমন স্রোত দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন: "মহান ইরানি জাতি অতীতের মতোই তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। একইভাবে, আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঠিক কোথায় লক্ষ্যবস্তু করতে হবে তা তারা জানে।" ইরানি জনগণের প্রতি তথাকথিত সমর্থনের ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলি এমন এক সময়ে এসেছে যখন তিনি ২০১৮ সালের মে মাসে JCPOA পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর সর্বোচ্চ চাপের নীতি গ্রহণ করে ইরানের উপর সর্বাধিক নিষেধাজ্ঞা এবং চাপ আরোপ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ অভিযানও শুরু করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে বোমা হামলা চালানোর জন্য ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে সরাসরি সমর্থন করেছিলেন। মনে হচ্ছে ইরানকে হুমকি দিয়ে সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হল অস্থিরতা উস্কে দেওয়া এবং বিক্ষোভ এবং সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখাকে উৎসাহিত করা।

একই সাথে, ইরানি জাতির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলিকে ইরানের প্রতি তার আচরণ বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। যখন তিনি তার ক্ষমতার মেয়াদে বারবার একটি জাতির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক চাপ এমনকি সামরিক হুমকি প্রয়োগ করেছেন, সেই তিনি আজ যখন সহানুভূতি দেখাচ্ছেন তখন তার এই দাবি হাস্যকর।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে "সর্বোচ্চ চাপ" নীতি অনুসরণ করেছেন। এই নীতিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা কেবল ইরানি সরকারকেই নয় বরং জনগণের দৈনন্দিন জীবনকেও লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতীয় মুদ্রার মূল্য ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে, ওষুধ এবং মৌলিক পণ্য পাওয়া সীমিত হয়ে গেছে এবং লক্ষ লক্ষ ইরানিদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।  এটা কি কেউ মেনে নিতে পারে যে এমন একজন ব্যক্তি এখন নিজেকে ইরানি জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন? প্রকৃত সহানুভূতি চাপ প্রয়োগ এবং মানুষকে তাদের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থেকে বঞ্চিত করার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, ট্রাম্প সর্বদা তার পররাষ্ট্র নীতিতে ইসরায়েলের সাথে মিল রেখে কাজ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি এবং আক্রমণসহ এই অঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতি তার নিঃশর্ত সমর্থন দেয়া থেকে বোঝা যায় যে তার প্রধান উদ্বেগ ইরানি জনগণ নয় বরং আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ। ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের উপর চাপ প্রয়োগ করে ইরানি জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রশান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অতএব, তার সহানুভূতির দাবি বাস্তবতার চেয়ে প্রচারণা এবং লোক দেখানো মাত্র।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রে হুমকির ভাষা ব্যবহার করেছেন। সামরিক আক্রমণের হুমকি দেওয়া বা নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করা কখনই করুণার লক্ষণ হতে পারে না। এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের উপর কেবল মানসিক এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে এবং দেশে অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করে। তিনি যদি সত্যিই ইরানি জনগণের প্রতি উদ্বিগ্ন হতেন, তাহলে হুমকি এবং নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে তার সংলাপ এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার পথ বেছে নেওয়া উচিত ছিল।

সামগ্রিকভাবে, ইরানি জনগণের প্রতি ট্রাম্পের সহানুভূতির দাবি তার অতীত কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত। সর্বোচ্চ চাপ নীতি, ইরানকে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়া এবং হস্তক্ষেপমূলক বিবৃতিগুলি থেকে বোঝা যায় যে তার মূল লক্ষ্য ইরানি জনগণকে সমর্থন করা নয় বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন