ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে প্রতিবাদের ঢেউ
-
ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গণবিক্ষোভ
পার্সটুডে: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে ট্রাম্প সরকারের কঠোর অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। স্কুল, অফিস, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানুষ 'জাতীয় শাটডাউন' কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
অভিবাসীদের পক্ষে জনসমর্থন
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মিনিয়াপোলিস, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় মানুষ নেমে আসে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ- অভিবাসীদের ওপর দমন-পীড়ন বাড়ছে, পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
‘জাতীয় শাটডাউন’ কর্মসূচি
৩০ জানুয়ারি বিক্ষোভকারীরা 'জাতীয় শাটডাউন দিবস' ঘোষণা করে। মানুষকে আহ্বান জানানো হয়— কাজ বন্ধ রাখা, স্কুল বন্ধ রাখা এবং কেনাকাটা বন্ধ রেখে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে। শত শত সামাজিক, ছাত্র ও মানবাধিকার সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে। অনেক জায়গায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিক্ষোভকারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মিনেসোটা: উত্তেজনার কেন্দ্র
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়, যাকে সরকার 'বড় অভিবাসন অভিযান' বলছে। এই অভিযানে দুইজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন, যা জনরোষ আরও বাড়িয়ে দেয়। সরকার বলছে ঘটনাগুলো আত্মরক্ষার সময় ঘটেছে, কিন্তু নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠন এই দাবি মানতে নারাজ।
অভিবাসনের বাইরেও ক্ষোভ
এই বিক্ষোভ শুধু অভিবাসননীতি ঘিরে নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিগত বৈষম্য, সামাজিক অবিচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও মানুষের ক্ষোভ জমে উঠেছে। মিনেসোটার স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপকে 'স্থানীয় সমাজের ওপর আঘাত' বলে উল্লেখ করেছে এবং অভিবাসীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ
এই গণবিক্ষোভ ট্রাম্প সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপে পরিণত হয়েছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি এবং সামনে নির্বাচন— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের দাবি উপেক্ষা করলে এর রাজনৈতিক ফল ভোগ করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৫