ট্রাম্পের বাড়াবাড়ি আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পৌঁছেছে
-
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পার্সটুডে-হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা এবং ট্রাম্পসহ পেন্টাগনের ওপর চাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং বিশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাড়াবাড়ির লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। নূরনিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে প্রচারণা যে আকারে চলছে, তা সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধের বাইরেও একাডেমিক স্বাধীনতা ও গবেষণার স্বাধীনতার ওপর একটি পদ্ধতিগত আক্রমণ হিসাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের সম্পর্ক ছিন্ন এবং নজিরবিহীন আর্থিক চাপ
এই চাপের সর্বশেষ উদাহরণ হল মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেটের নেতৃত্বে পেন্টাগন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ, বৃত্তি এবং চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হেগসেট হার্ভার্ডকে "আমেরিকা বিরোধী কার্যকলাপের কেন্দ্র" বলে অভিহিত করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন: এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সামরিক উপস্থিতি ব্যয়যোগ্য নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতে, হোয়াইট হাউসের সংস্কারের দাবি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের এই পদক্ষেপটি একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির লক্ষণ। ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে-এমন একটি বিস্তৃত প্রচারণার পর এই
শিক্ষাগত স্বাধীনতার হুমকি ও দমনের আদর্শ
বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই দমন-পীড়ন কেবল হার্ভার্ডের জন্যই সীমিত নয়। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে তার তহবিল পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারকে অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করা হয়েছে, এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ও কর্মী উন্নয়ন কর্মসূচি পালনে বাধ্য হয়। আরও বিস্তৃতভাবে, মার্কিন বিচার বিভাগ কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বিভাগের সাক্ষীরা প্রকাশ করেছেন যে তাদের কেবল ডেমোক্র্যাটিক রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করার এবং রিপাবলিকান রাজ্যগুলোতে মামলা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন অসংখ্য ক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনী (বাকস্বাধীনতা) "লঙ্ঘন করেছে বা লঙ্ঘনের হুমকি দিয়েছে"। প্রতিবেদন অনুসারে, আদালত সতর্ক করে দিয়েছে যে মার্কিন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বামপন্থী এবং সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মূল করছে এবং একটি কর্তৃত্ববাদী সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বুদ্ধিজীবীদের পলায়ন এবং শিক্ষাগত স্থবিরতা: স্পষ্ট পরিণতি
ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি মার্কিন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য তাৎক্ষণিক এবং ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে এনেছে। ফেডারেল গবেষণা তহবিল হ্রাসের ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের পিএইচডি-তে ভর্তি কমাতে বাধ্য করেছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড, ইয়েল এবং কলম্বিয়া তাদের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি দ্রুত হ্রাস করেছে। ফেডারেল নীতির কারণে বাজেটের ঘাটতি পূরণের জন্য ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ছাঁটাই করতে এবং গবেষণা ভবন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।#
পার্সটুডে/এনএম/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।