ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত: সিএনএন রিপোর্ট
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159058-ইরানি_হামলায়_মধ্যপ্রাচ্যে_১৬_মার্কিন_ঘাঁটি_ক্ষতিগ্রস্ত_সিএনএন_রিপোর্ট
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটি সামরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় এসব স্থাপনা তছনছ হয়ে যায়।  
(last modified 2026-05-02T12:26:49+00:00 )
মে ০২, ২০২৬ ১৭:২৭ Asia/Dhaka
  • ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বংস্ত
    ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বংস্ত

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটি সামরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় এসব স্থাপনা তছনছ হয়ে যায়।  

স্যাটেলাইট চিত্র, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং মার্কিন ও উপসাগরীয় সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র সিএনএন-কে জানান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে বন্ধ করার মতো অবস্থায়, আবার কিছু কৌশলগত কারণে মেরামতের উপযোগী।

রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি হামলাগুলো প্রধানত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

জর্ডানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার থাড (THAAD)-এর সঙ্গে যুক্ত রাডার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটির রাডার স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলায় একটি মার্কিন বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

সিএনএনের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের ঘোষিত ব্যয়ের তুলনায় যুদ্ধের প্রকৃত খরচ অনেক বেশি হতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট তৃতীয় আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সূত্রগুলো বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন যোগ করলে মোট ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

কংগ্রেসের একজন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

পেন্টাগনের মূল্যায়ন এখনও অসম্পূর্ণ

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে শুনানির সময় স্পষ্ট করেননি যে অবকাঠামো মেরামতের খরচ সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না। পরে হার্স্ট স্বীকার করেন, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয় ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও জ্বালানি সংকট

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এই সংঘাত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং ইরানের বন্দর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২