বুশের ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধের তুলনা
মার্কিন গণমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটনের দুর্বলতা প্রকাশ
-
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা
পার্সটুডে- মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এ ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সিআইএ কর্মকর্তারা এখন সেনা সংখ্যা কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে বাধ্য হয়েছেন।
ইসনা’র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, ছয়টি সূত্র বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দপ্তরে সম্প্রতি অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সফল হয়, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় সাধারণত মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমানো হবে কি না।
সিএনএন লিখেছে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন অবকাঠামোর গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। কারণ, এমন একটি যুদ্ধে ইরান বারবার বহু মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
দুটি অবহিত সূত্রের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যেসব মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের প্রতিরক্ষা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেটিও মার্কিন সামরিক বাহিনী মূল্যায়ন করছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে আরও ভালো সুরক্ষার জন্য কিছু স্থাপনা ভূগর্ভে স্থানান্তরের বিষয়ও রয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছেন, “দুর্বলতাগুলো সবসময়ই স্পষ্ট ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই সেগুলো মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়নি।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল: ট্রাম্পের উচিত বুশের ইরাক যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়া
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের উপদেষ্টা উইলিয়াম ম্যাকগার্নের লেখা এক নিবন্ধে ইরানে ট্রাম্পের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইরাকে বুশের পরিস্থিতির তুলনা করেছে।
নিবন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরস্পরবিরোধী হুমকি এবং শেষ মুহূর্তে পিছু হটার নীতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধ্বংস করতে পারে এবং কয়েক দশকের জন্য ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ম্যাকগার্ন লিখেছেন, ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প আজ ঠিক সেই অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর আগে অবস্থান করছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “ইরান আত্মসমর্পণ করার মতো দেশ নয়।”
বুশের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ট্রাম্প ইরাকের বিরুদ্ধে বুশের সেই যুদ্ধের অনুকরণ করছেন, যে যুদ্ধটি ভিত্তিহীন ও ভুল মূল্যায়নের ওপর শুরু হয়েছিল। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পরও ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি।
তার মতে, ট্রাম্প একদিকে “সম্পূর্ণ ধ্বংসের” প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিচ্ছেন এবং বারবার শেষ মুহূর্তে নিজের হুমকি থেকে সরে আসছেন। এ ধরনের আচরণ বন্ধু ও শত্রু—উভয় পক্ষকেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারে যে তাঁর হুমকিগুলো ফাঁপা এবং সাময়িক।
ম্যাকগার্ন আরও লিখেছেন, ট্রাম্প যে সামরিক অভিযানকে মাত্র চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি এখন সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আবার শেষ মুহূর্তে পিছু হটার ফলে এমন বার্তা যাচ্ছে যে এসব হুমকি আসলে ফাঁপা এবং ক্ষণস্থায়ী ঝড়ের মতো—যাকে প্রতিপক্ষ ভয় পাওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শুরু করে বিজয় অর্জন করতে পারেননি, তাদের ঐতিহাসিক পরিণতি অত্যন্ত তিক্ত। আর এই সংঘাত যদি পরাজয়ে পর্যবসিত হয়, তাহলে তা মার্কিন জনগণের মধ্যে এমন গভীর সংশয় তৈরি করতে পারে যে ভবিষ্যতে তারা আর কখনো এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সাহস নাও করতে পারে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।