আইএইএর বোর্ডে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের প্রস্তাব পাস, রাশিয়া-চীনের বিরোধিতা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i162992-আইএইএর_বোর্ডে_ইরানের_বিরুদ্ধে_যুক্তরাষ্ট্র_ইউরোপের_প্রস্তাব_পাস_রাশিয়া_চীনের_বিরোধিতা
পার্সটুডে-আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তিন ইউরোপীয় দেশ-ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির প্রস্তাবিত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
(last modified 2026-09-10T12:19:18+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৭:৫৩ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের প্রস্তাব পাস
    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের প্রস্তাব পাস

পার্সটুডে-আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তিন ইউরোপীয় দেশ-ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির প্রস্তাবিত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবটির পক্ষে ২৩ ভোট, বিপক্ষে ৩ ভোট এবং ৮ দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে আইএইএর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার নজরদারির আওতায় থাকা ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পরিণতিও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

প্রস্তাবে আইএইএর মহাপরিচালককে নতুন প্রস্তাব, এর আগে গৃহীত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং ইরানবিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন আইএইএর সদস্য দেশগুলো, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সেফগার্ডস চুক্তি লঙ্ঘনের’ অভিযোগও পুনরায় উত্থাপন করে তা দূর করার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের কথা উল্লেখ করে আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসকে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়া এবং নিরাপত্তা পরিষদে প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টিও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

ইরান এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তিন ইউরোপীয় দেশের উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছে, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু আবারও নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর এই প্রচেষ্টা তাদের কথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার ব্যর্থতারই প্রমাণ।

তেহরানের দাবি, আইএইএর নতুন প্রস্তাবের পর ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত আইনি ও কারিগরি ভিত্তি নেই। ইরানের দৃষ্টিতে এটি স্বাভাবিক সেফগার্ডস প্রক্রিয়ার ফল নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ত্রয়িকার রাজনৈতিক চাপের অংশ।

ইরানের অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো-কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সেফগার্ডস সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়া এবং প্রমাণিতভাবে সেফগার্ডস চুক্তি লঙ্ঘন করা-এই দুই বিষয় এক নয়। তেহরানের দাবি, ইরানে ঘোষিত কোনো পারমাণবিক উপাদান সামরিক কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে-এমন প্রমাণ আইএইএ এখনো উপস্থাপন করেনি।

ইরান আরও বলছে, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলেই পরিদর্শকদের প্রবেশ ও কিছু যাচাই কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তেহরানের মতে, এটি সেফগার্ডস ব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নয়।

ইরানের অভিযোগ, আইএইএর প্রস্তাবে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে-একদিকে তেহরানের কাছে স্বাভাবিক পরিদর্শন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণটি উপেক্ষা করা হচ্ছে।

‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া নিয়েও ইরান, রাশিয়া ও চীন এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তেহরানের মতে, যখন স্ন্যাপব্যাকের আইনি ভিত্তিই বিতর্কিত, তখন এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে পুরোনো নিষেধাজ্ঞা ও জাতিসংঘের প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার নিশ্চিত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

ভোটের ফলাফলও ইরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ২৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও ৮টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং ৩টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ফলে তেহরানের দৃষ্টিতে এটি কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নয়।

ইরান মনে করে, এমন বিভক্ত অবস্থার একটি প্রস্তাবকে নিরাপত্তা পরিষদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সর্বসম্মত কারিগরি ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্তাবের প্রধান উদ্যোক্তারাই যখন ইরানের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।

তেহরান আরও সতর্ক করেছে যে, প্রমাণিতভাবে পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়ার তথ্য ছাড়াই এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করে আইএইএর বোর্ড যদি রাজনৈতিক চাপের পথে এগিয়ে যায়, তাহলে সংস্থাটির কারিগরি ভূমিকা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমারেখা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ইরানের অবস্থান হলো, দেশটির পারমাণবিক ইস্যু আইএইএর কারিগরি কাঠামোর মধ্যেই সংলাপ, যাচাই-বাছাই এবং স্বাভাবিক সহযোগিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তেহরানের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি পাঠানো হলে বিদ্যমান কারিগরি সমস্যার সমাধান না হয়ে সংকট আরও বেশি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সংঘাতে রূপ নিতে পারে।#

পার্সটুডে/এনএম/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।