বিশ্লেষণ | আমেরিকাতেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করছেন ট্রাম্প?
-
ট্রাম্প
পার্সটুডে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ সেপ্টেম্বর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন- সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকো-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। এসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেন।
এই সিদ্ধান্তকে শুধু ট্রাম্প ও গণমাধ্যমের আরেকটি বিরোধ হিসেবে দেখছেন না সমালোচকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তাদের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা সেই সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি'র সাংবাদিকদেরও হোয়াইট হাউসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনায় আদালতে আইনি লড়াই হয়।
নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে এবং হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার একটি ‘সুবিধা’, সাংবিধানিক অধিকার নয়। অন্যদিকে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বেছে নিয়ে নিষিদ্ধ করা হলে তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করতে পারে।
এই বিরোধ এখন আদালতে গড়িয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।#
পার্সটুডে/এসএ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।