ফরেন অ্যাফেয়ার্স: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সমীকরণ বদলে দিয়েছে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163450-ফরেন_অ্যাফেয়ার্স_ইরানের_সঙ্গে_যুদ্ধ_যুক্তরাষ্ট্রের_সামরিক_শক্তির_সমীকরণ_বদলে_দিয়েছে
পার্সটুডে: একটি মার্কিন সাময়িকী লিখেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ই বাড়ায়নি; বরং মার্কিন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রচলিত সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একই সময়ে একাধিক সংকট ও যুদ্ধ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
(last modified 2026-09-27T12:53:16+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৮:৪৪ Asia/Dhaka
  • মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

পার্সটুডে: একটি মার্কিন সাময়িকী লিখেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ই বাড়ায়নি; বরং মার্কিন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রচলিত সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একই সময়ে একাধিক সংকট ও যুদ্ধ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরনা-এর বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স এক নিবন্ধে লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে হামলা শুরু করেছিল, তখন তারা আশা করেছিল অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের সরকারকে ভেঙে ফেলতে পারবে। কিন্তু ছয় মাসেরও বেশি সময় পর দেখা যাচ্ছে, ইরানের সরকার শুধু টিকে নেই, বরং সম্ভবত আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তেহরান দ্রুত সাবেক কর্মকর্তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছে। একইসঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং তেহরানের হাতে নতুন একটি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার আসে—যা মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স আরও লিখেছে, প্রত্যাশার চেয়ে ইরানের ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তেহরান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। ফলে নিজেদের শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্যও তারা প্রস্তুত ছিল।

এছাড়া,  মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি ছিল ইরানের বিপুল সংখ্যক তুলনামূলক সস্তা ও নির্ভুল ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র। এসব অস্ত্র ইরানের পাল্টা হামলাকে কার্যকর করে তোলে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা দেয়, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে একটি বাধা তৈরি হয়।

মার্কিন সাময়িকীটি জোর দিয়ে বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে—কম খরচের, নির্ভুল ও বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ব্যবহারের যুগ এসে গেছে।

এখন আর ধরে নেওয়া যায় না যে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো সামরিক শক্তি কেবল সীমিত সংখ্যক অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে। তুলনামূলক দুর্বল দেশগুলোও বিপুলসংখ্যক নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বড় সামরিক শক্তির সক্ষমতাকে কিছুটা হলেও নিষ্ক্রিয় করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রমণের খরচ প্রতিরক্ষার চেয়ে কম—কারণ কার্যকর প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের দাম এখনো হামলাকারী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের দামের পর্যায়ে নামেনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রায় ৩৫ হাজার ডলার মূল্যের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনকে ৪ মিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চিরকাল প্রতিহত করা সম্ভব নয়।#
 

পার্সটুডে/এমবিএ /২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।