আল-আকসা তুফন অভিযানের বার্ষিকীতে গাজাবাসীর সমর্থনে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163792-আল_আকসা_তুফন_অভিযানের_বার্ষিকীতে_গাজাবাসীর_সমর্থনে_বিশ্বব্যাপী_প্রতিবাদ_সমাবেশ
পার্সটুডে- আল-আকসা তুফান অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে গাজার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ইসরাইলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।
(last modified 2026-10-08T11:18:10+00:00 )
অক্টোবর ০৮, ২০২৬ ১৬:১৮ Asia/Dhaka
  • গাজাবাসীর সমর্থনে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ
    গাজাবাসীর সমর্থনে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ

পার্সটুডে- আল-আকসা তুফান অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে গাজার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ইসরাইলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আল-আকসা তুফান অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ এবং দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখার বিরোধিতা জানানো হয়।

এ উপলক্ষে নিউইয়র্কে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে পদযাত্রায় অংশ নেন। তারা আরব পোশাক পরিধান করে ফিলিস্তিনি পতাকা ও গাজা অবরোধের নিন্দা জানানো বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অংশগ্রহণকারীরা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় বিক্ষোভ

ইউরোপে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা ও শিশুদের প্রতীকী কাফনের কাপড় তুলে ধরে যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের স্মরণ করেন এবং গাজার সমর্থনে স্লোগান দেন।

নেদারল্যান্ডসের রটারডামের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। ডাচ ও ফিলিস্তিনি সংহতি সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের আহ্বানে গাজা যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্টেশনের সামনে একটি বড় কাপড়ে নিহত কয়েক হাজার মানুষের নাম লেখা হয়।

নরওয়ের রাজধানী অসলোতেও ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে নাগরিক সমাজের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা পতাকা ও প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। নরওয়ের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে অনুষ্ঠিত অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে এই বিক্ষোভও সমন্বিত ছিল। ইসরাইলি সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘অ্যাকশন ফর প্যালেস্টাইন’ নামের একটি সংগঠন এসব কর্মসূচির আহ্বান জানায়।

লন্ডনেও গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা উত্তর আয়ারল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়ে। বেলফাস্টে সিটি হলের কাছে কর্মীরা ফিলিস্তিনি ও কালো পতাকা তুলে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার নিন্দা জানান।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধের শিকারদের, বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব-এর ঘটনা প্রতীকীভাবে তুলে ধরেন। হিন্দের মরদেহ যে গাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল, তার অনুরূপ একটি প্রতীকী গাড়ি স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে তার ফোনালাপের অডিও বাজানো হয়। নিহতদের নাম পাঠ করার সময় অংশগ্রহণকারীরা দখলদারিত্ববিরোধী স্লোগান দেন।

জাপানে বিক্ষোভ

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি জাপানেও ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। টোকিও ও ওসাকায় এসব পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি জানান এবং গাজায় ইসরাইলি সরকারের সামরিক অভিযানের নিন্দা করেন।

করাচিতে ব্যাপক পদযাত্রা

পাকিস্তানের করাচি শহরেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশাল পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জামায়াতে ইসলামী’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান।

মরক্কো ও তিউনিসিয়া

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে বিক্ষোভকারীরা গাজায় অব্যাহত হামলার প্রতিবাদ করেন এবং ইসরাইলি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

তিউনিসিয়ায়ও তিউনিসিয়ার জেনারেল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউট অব হায়ার স্টাডিজ ইন অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সেসে ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেন। তারা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন এবং ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা করেন। এভাবেই তারা আল-আকসা তুফানের বার্ষিকী পালন করেন।

ফিলিস্তিনের প্রতি তুরস্কের জনগণের সমর্থন

তুরস্কের আঙ্কারা, ইস্তাম্বুল, বুরসা ও দিয়ারবাকিরসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব শহরে গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত রাখার নিন্দায় বড় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সরকারের গণহত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ইস্তাম্বুলের অন্যতম প্রতীক গালাতা টাওয়ারকে ফিলিস্তিনি পতাকার রঙে আলোকিত করা হয়। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের শিকার মানুষের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।