কেনগোরো - ‘ঘেমে’ ঠাণ্ডা থাকে যে রোবট!
ভারি কাজ করতে গেলে রোবটের শরীর যেন ‘ঘেমে’ শীতল থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবট বিষয়ক গবেষকরা ‘ঘামতে’ সক্ষম এমন রোবট তৈরিতে সফল হয়েছেন।
মানুষ এবং রোবট উভয়ই যখন ভারি বা দৈহিক পরিশ্রমের কাজ করে তখন তাদের দেহ গরম হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতি বায়ু সঞ্চালনের মাধ্যমে রোবট দেহ শীতল রাখা হয়। যদিও ঘামই মানুষের দেহকে শীতল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু এই প্রথম ‘ঘামের’ মাধ্যম রোবটের দেহ শীতল রাখার কার্যকর ব্যবস্থা বের করলেন জাপানি গবেষকরা।
কেনগোরো নামের এই জাপানি রোবটের উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৬৬ কেজি। কেনগোরো রোবটের দেহে বসানো আছে ১৮০টি মোটর। রোবটটির ‘কংকাল’ বা দেহ কাঠামো তৈরি হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একে শীতল রাখার ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছিলেন। কারণ নানা ব্যবস্থায় পরিপূর্ণ রোবটের দেহ কাঠামোয় নতুন কোনো ব্যবস্থা বসানোর মতো স্থান সংকুলান করা পুরোপুরি দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল।
অবশ্য, ত্বক যেভাবে ঘেমে মানব দেহকে শীতল রাখে কেনগোরোর দেহ কাঠামোতে পানিভিত্তিক সে রকম ব্যবস্থা বসানো সম্ভব বলে দেখতে পান গবেষকরা। কঠোর পরিশ্রম করার সময় পানি বের হয়ে আসবে এবং তা বাষ্পীভূত হয়ে কেনগোরোর শরীর শীতল রাখবে। এ ব্যবস্থা বসানোর পর এক নাগাড়ে ১১ মিনিট বুকডন দেয়ার পরও কেনগোরোর দেহের কোনো মোটর জ্বলে যায় নি। এক কাপ পানিতে কেনগোরোর দেহ প্রায় ১২ ঘণ্টা শীতল রাখা যাবে।
মানুষের মতোই এবারে দেহ শীতল রাখার প্রয়োজনে নিয়মিত পানি ‘খেতে’ হবে রোবটকে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, বায়ু দিয়ে শীতল রাখার ব্যবস্থায় রোবট যতটা কাজ করতে পারে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি কাজ করতে পারে পানিভিত্তিক শীতল রাখায় ব্যবস্থায়।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/১৭