ক্ষুব্ধ ও দিশেহারা ইসরাইল: ইউরোপের সঙ্গে শুরু হয়েছে টানাপড়েন সম্পর্ক
https://parstoday.ir/bn/news/world-i29353-ক্ষুব্ধ_ও_দিশেহারা_ইসরাইল_ইউরোপের_সঙ্গে_শুরু_হয়েছে_টানাপড়েন_সম্পর্ক
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৬৭ সালে দখলীকৃত এলাকায় অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে ওই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল।
(last modified 2026-03-01T10:43:34+00:00 )
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ ১৮:৩৯ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৬৭ সালে দখলীকৃত এলাকায় অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে ওই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল।

অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে ২২৩৪ নম্বর প্রস্তাব পাশের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে'র সঙ্গে সাক্ষাত বাতিল করে লন্ডনের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গতকাল (সোমবার) কিয়েভে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। ইউক্রেনও ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবকে সমর্থন করায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীকে সাক্ষাত দেননি। ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাব সমর্থনকারী অন্য ১৩টি দেশের সঙ্গেও ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করেছে।

ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হওয়ায় নেতানিয়াহু ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও ইসরাইলের ওই পদক্ষেপ এতটাই বেআইনিও অমানবিক যে তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাশ্চাত্যের দেশগুলোও এখন তা শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে এবং ইসরাইল বিরোধী বিশ্ব জনমতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা। গত শুক্রবার অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ উপশহর নির্মাণের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে আনা একটি প্রস্তাব কোনো বিরোধিতা ছাড়াই পাশ হয়। ১৪টি দেশ ইসরাইল বিরোধী ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় এবং এমনকি যে আমেরিকা সবসময় ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবে ভেটো দেয় সেদেশটিও এবার ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তাবটি পাশ হয়। 

এ প্রস্তাব পাশের ফলে ইসরাইল অবিলম্বে পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাস এলাকাসহ অধিকৃত সমস্ত ভূখণ্ডে ইহুদি উপশহর নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য। প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল উপশহর নির্মাণের মাধ্যমে ওই এলাকার ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে যাতে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এদিকে, যেসব দেশ ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সেইসব দেশের অভ্যন্তরেও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। যেমন ইউক্রেনে সরকারের সমালোচকরা দাবি করেছেন, কিয়েভ ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবকে সমর্থন করায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইউক্রেনের ইহুদি সম্প্রদায়ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সেদেশের সরকারের অবস্থানকে গত ২৫ বছরে ইসরাইল-ইউক্রেন কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যে কারণেই ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবকে সমর্থন করে থাকুক না কেন এ ঘটনা নিঃসন্দেহে ইসরাইলের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে আটলান্টিকের ওপারে আমেরিকায়ও সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের ব্যাপারে জাতিসংঘের এ পদক্ষেপকে নজিরবিহীন আখ্যায়িত করে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর আগে তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার জন্য ওবামা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। # 

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৭