পাকিস্তানে অবস্থান ধর্মঘটকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ: সেনা তলব
https://parstoday.ir/bn/news/world-i48911-পাকিস্তানে_অবস্থান_ধর্মঘটকারীদের_সঙ্গে_পুলিশের_সংঘর্ষ_সেনা_তলব
পাকিস্তানে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একটি ইসলামপন্থি সংগঠনের অবস্থান ধর্মঘট তীব্র সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার অবস্থান ধর্মঘটকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২০০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে ধর্মঘটকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। আহতদের মধ্যে বহু সংখ্যক পুলিশ রয়েছেন।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
নভেম্বর ২৬, ২০১৭ ০৩:৪৩ Asia/Dhaka
  • পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা
    পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা

পাকিস্তানে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একটি ইসলামপন্থি সংগঠনের অবস্থান ধর্মঘট তীব্র সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার অবস্থান ধর্মঘটকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২০০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে ধর্মঘটকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। আহতদের মধ্যে বহু সংখ্যক পুলিশ রয়েছেন।

অবস্থান ধর্মঘটকারীরা পাকিস্তানের আইন ও বিচারমন্ত্রী জাহিদ হামিদকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্তের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)’র উপাধি ‘খতামুল আম্বিয়া’ বা ‘শেষ নবী’ কথাটি বাদ দিয়ে মন্ত্রী ইসলাম অবমাননা করেছেন।

মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পাকিস্তানে উগ্র ইসলামপন্থিরা ‘তেহরিকে লাব্বাইক ইয়া রাসূলুল্লাহ’ পার্টি গঠন করে গত ৮ নভেম্বর থেকে ইসলামাবাদে অবস্থান ধর্মঘট করে আসছিলেন। তারা ওই দিন থেকে নগরীর ফয়েজাবাদ মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাতে থাকেন।

এক পর্যায়ে মন্ত্রী জাহিদ হামিদ 'অনিচ্ছাকৃত ভুলের' কারণে শপথবাক্য থেকে ‘খতামুল আম্বিয়া’ কথাটি বাদ পড়েছে বলে দাবি করে এজন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু অবস্থান ধর্মঘটকারীরা মন্ত্রীর পদত্যাগ বা বরখাস্তের দাবিতে অটল থাকেন।

গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাবু খাটিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন ধর্মঘটকারীরা

এ অবস্থায় শনিবার অবস্থান ধর্মঘটকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ৮,৫০০ পুলিশ নামানো হয়। শনিবার দিনব্যাপী দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে পাকিস্তান সরকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সরাসরি সম্প্রচার  এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়। এরপরেও সংঘর্ষ বন্ধ না হলে এক পর্যায়ে পুলিশি অভিযান বন্ধ করে সেনাবাহিনী তলব করা হয়।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবস্থান ধর্মঘটকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর নগর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে শনিবার সন্ধ্যায় সেনা তলব করা হয়েছে।  এ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার পাকিস্তানের অন্যান্য ইসলামপন্থি সংগঠন ‘তেহরিকে লাব্বাইক ইয়া রাসূলুল্লাহ’ পার্টির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দেশটির অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। লাহোর ও করাচিসহ পাকিস্তানের আরো কিছু শহর থেকেও সংঘর্সের খবর পাওয়া গেছে। পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে শনিবার মন্ত্রী জাহিদ হামিদের বাসভবনে হামলা হয়েছে, তবে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য এ সময় সেখানে ছিলেন না। #

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৫