পাশ্চাত্য ১০০ প্রকার রাসায়নিক গ্যাস তৈরি করেছে: রাশিয়া
-
গত ১১ মার্চ ব্রিটিশ সেনা বিশেষজ্ঞরা স্যালিসবারিতে স্ক্রিপালের ওপর কথিত রাসায়নিক গ্যাস হামলার স্থান পর্যবেক্ষণ করেন (ফাইল ছবি)
রাশিয়া অভিযোগ করেছে, দেশটিতে এক সময় উৎপাতিত ‘নোভিচক’ রাসায়নিক গ্যাসের মতো বিষাক্ত কার্যকারিতাসম্পন্ন অন্তত ১০০ ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করেছে পাশ্চাত্য। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিমা দেশগুলো এসব গ্যাস উৎপাদন শুরু করে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ওই মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৯৯২ সালে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন গঠিত হওয়ার পরপরই ১৯৯৩ সালের ১৩ জানুয়ারি রাশিয়া ওই কনভেনশনে যোগ দেয়।
তখন থেকে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করা শুরু হয় জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশটির পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায় বলে আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা বা ওপিসিডাব্লিউ নিশ্চিত করে।
গত মার্চ মাসে ব্রিটেনে একজন রুশ দ্বৈত গুপ্তচর ও তার কন্যার ওপর ‘নোভিচক’ রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার করে হামলা চালানো হয় বলে লন্ডনসহ পশ্চিমা দেশগুলো ব্যাপকভা অভিযোগ করার পর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের গ্যাস সংরক্ষণের জন্য উল্টো পাশ্চাত্যকে দায়ী করল।
গত ৪ মার্চ ব্রিটেনের স্যালিসবারি শহরের একটি বেঞ্চের ওপর সাবেক রুশ দ্বৈত গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার ৩৩ বছরের মেয়ে ইউলিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর ব্রিটেন দাবি করে, রাশিয়ায় তৈরি নার্ভ গ্যাস- নোভিচক ব্যবহার করে ওই গুপ্তচরকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে ওই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
সের্গেই স্ক্রিপাল একসময় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠে। রাশিয়ায় তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর ২০১০ সালে এক সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি মুক্তি পান এবং ব্রিটেনে আশ্রয় নেন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৩