তালেবান প্রতিনিধিদের আসন্ন পাকিস্তান সফরের বিরুদ্ধে কাবুলের প্রতিবাদ
-
আমেরিকা ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও কাবুলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে এখন পর্যন্ত অনীহা প্রকাশ করেছে তালেবান (ফাইল ছবি)
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তালেবান প্রতিনিধিদের আসন্ন পাকিস্তান সফরের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে নালিশ জানিয়েছে কাবুল। আফগান সরকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক কমিটির কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেছে, পাকিস্তান সরকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তালেবান প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপারে কাবুলের সঙ্গে পরামর্শ করেনি।
আগামীকাল সোমবার এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, তালেবান প্রতিনিধিদেরকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের সঙ্গে পাক কর্মকর্তাদের সাক্ষাতের অর্থ হবে তালেবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া। আফগান সরকারের চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব তালেবান প্রতিনিধিকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের নয় জনের নাম জাতিসংঘের কালো তালিকায় রয়েছে।
এর আগে সম্প্রতি তালেবান প্রতিনিধিদের রাশিয়া সফরের ব্যাপারেও কাবুল জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল। তিনদিন আগে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, আসন্ন ইসলামাবাদ সফরের সময় তালেবান প্রতিনিধিরা পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কয়েকটি কারণে তালেবান প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে কাবুল উদ্বিগ্ন। প্রথমত, আফগান সরকার দেশটির শান্তি প্রক্রিয়ায় যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী। কাবুল মনে করে, পাকিস্তান সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আফগান শান্তি প্রক্রিয়াকে তাদের স্বার্থে এগিয়ে নিতে চায়; অথচ আফগান শান্তি প্রক্রিয়া হতে হবে কাবুল সরকারের তত্ত্বাবধানে।
কাবুলের দ্বিতীয় উদ্বেগের স্থান হচ্ছে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার কৃতিত্ব আফগান সরকারের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া। কাবুল মনে করে, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ উদ্যোগে যেখানে শুধু আফগান পক্ষগুলো অংশগ্রহণ করবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইমরান খানের সম্ভাব্য সাক্ষাৎকে আফগান সরকার সেদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে।
আফগানিস্তানের আশরাফ গনি সরকারের তৃতীয় উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, আফগানিস্তানের চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় কাবুল সরকারের ভূমিকাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে সমসাময়িক বিশ্বের ইতেহাসে যার দৃষ্টান্ত বিরল।
কাবুলের বক্তব্য হচ্ছে, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেদেশের সরকারের সঙ্গে তালেবানকে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে। তা না করে রাশিয়া, পাকিস্তান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তালেবানের সঙ্গে বিদেশি প্রতিনিধিরা সংলাপ করছেন এবং সেখানে আফগান সরকারকে আমন্ত্রণ জানানো তো দূরের কথা কাবুলের মতামতও জানতে চাওয়া হচ্ছে না।
কাজেই আফগান সরকার বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে এই কারণে যে, এই বিশ্ব সংস্থা যেন আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৭