ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
উন্নতি নেই খালেদা জিয়ার, পরীক্ষা করা হচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৯ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম :
- দেশ এখন নিরাপদে আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- ইউনানি-আয়ুর্বেদিকে অনুমতি ছাড়া ওষুধ খাওয়ার পরামর্শে জেল-জরিমানা-প্রথম আলো
- বিজয় র্যালির মাধ্যমে জেগে উঠবে মানুষ: মির্জা ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন
- সব খরচ নিয়োগকর্তার, মালয়েশিয়ায় যেসব সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা: যুগান্তর
- উন্নতি নেই খালেদা জিয়ার, পরীক্ষা করা হচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- ভোট অশান্তিতে তৃণমূল জড়িত প্রমাণ দিলে ২৪ ঘণ্টায় ব্যবস্থা, আশ্বাস দিলেন অভিষেক-আনন্দবাজার পত্রিকা
- শান্তিতে ভোট দিয়েছে মানুষ, আমি খুশি’, ভোট দিতে গিয়ে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- প্রতিদিন
- হাসপাতালের ছাদে চলছে বিরিয়ানি রান্না! বিজেপি–র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল তৃণমূল’ আজকাল
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি-
কথাবার্তার প্রশ্ন (১৯ ডিসেম্বর)
১. মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথ খুলল, সমঝোতা স্মারক সই। এটি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার শিরোনাম। কীভাবে দেখছেন খবরটিকে?
২. তালেবানের অজান্তে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে তালেবান। কী বলবেন আপনি?
ইউনানি-আয়ুর্বেদিকে অনুমতি ছাড়া ওষুধ খাওয়ার পরামর্শে জেল-জরিমানা-প্রথম আলো
বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে অনুমতি ছাড়া ওষুধ সেবনের পরামর্শ (প্রেসক্রিপশন) দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেন। আর মন্ত্রীরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষ থেকে সভায় যুক্ত হন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুসারে স্বীকৃতি ছাড়া কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মিথ্যা উপাধি ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিব আরও বলেন, এখানে একটি বোর্ড থাকবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মতো এখানেও একটি কাউন্সিল থাকবে। এ কাউন্সিল একাডেমিক বিষয়গুলো দেখভাল করবে।
বাংলাদেশ চিকিৎসা অ্যাক্রেডিটেশন আইনের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া মালদ্বীপের কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বন্দীদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সইয়ের জন্য চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালদ্বীপ সফরের সময় এ চুক্তি হবে বলে আশা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি জানান, মালদ্বীপে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আছেন ৪৩ জন। আর ৪০ জন বিচারাধীন। তবে মালদ্বীপের কোনো নাগরিক বাংলাদেশে বন্দী নেই।
দেশ এখন নিরাপদে আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সঠিক সময়ে টিকা দেবার ফলে দেশ এখন নিরাপদে আছে। মৃত্যুর সংখ্যা এক ডিজিটেই আছে। গতকাল এক শতাংশেরও নিচে এসেছে। এটি এত জনবহুল দেশে খুবই বিরল একটি বিষয়। সবার সহযোগিতায় আমরা কাজটি করে যাচ্ছি। প্রতিটি মানুষকেই যারা প্রাপ্য টিকা দেওয়া হবে। কেউই টিকার আওতার বাইরে থাকবে না।

আজ রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মহাখালী বিসিপিএস মিলনায়তনে বুস্টার ডোজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে টিকার কোনো সংকট নেই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেবার যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে- সে লক্ষ্য পূরণে আমাদের কাজ সঠিকভাবেই চলছে। দেশের সত্তর শতাংশ মানুষের জন্য হিসেব করলে ১২ কোটির কাছাকাছি মানুষকে আসছে বছরের এপ্রিলের মধ্যে টিকার আওতায় আনতে হবে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এরই মধ্যে দুই ডোজ মিলে প্রায় ১১ কোটির বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন হাতে ভ্যাকসিন আছে ৪ কোটি ৬৩ লাখের মতো ডোজ। এ মাসে আরো ২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আসবে।
সব খরচ নিয়োগকর্তার, মালয়েশিয়ায় যেসব সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা: যুগান্তর
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম বাজার নিয়ে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সম্পন্ন হয়েছে। মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান এবং বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ চুক্তিতে সই করেন।
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুরে এ চুক্তি সই হয়। এ সময় উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন।
যেমন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া, তাদের আবাসন, কর্মে নিয়োজিত করা এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ বহন করবেন। নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন।
এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় আসার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্স–সংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন–সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং প্রত্যাবাসনে আদর্শ কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান একটি অন্যতম সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী বলে উভয় দেশ বিশ্বাস করে।
দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া। সব সেক্টরে কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয় দেশটির মন্ত্রী পরিষদ।
বিশেষ করে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে দেশটি। চুক্তি সই সম্পন্ন হওয়ায় এসব খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা দেশটিতে যেতে পারবে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা বারবার ব্যাহত করেছে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি। তাদের তৈরি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে এ বাজার দখলের চেষ্টায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
ওই সময় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কমিটির বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দেয় দেশটি।
জানা গেছে, আগের চেয়ে এবারের সমঝোতা স্মারকে বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- জিটুজি প্লাস পদ্ধতি উল্লেখ থাকছে না; যুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সি; থাকছে কর্মীদের বাধ্যতামূলক বিমা; কর্মীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা ও খরচ বহন করবে নিয়োগদাতা; চুক্তি মেয়াদে কর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সিকেও; বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত।
বিজয় র্যালির মাধ্যমে জেগে উঠবে মানুষ: মির্জা ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরে আমরা গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম। অথচ ক্ষমতাসীনরা আমাদের ভোটাধিকার ও বলার-লেখার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় র্যালির উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশ রক্ষার জন্য বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে সূচনা করেছিলেন সেসবই ধ্বংস করেছে এই সরকার। এই র্যালি দেশের মানুষের নতুনভাবে জেগে ওঠবার র্যালি। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ৭১ এর প্রথম মুক্তিযোদ্ধা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে। আমরা এমন একটি সময় এই বিজয় র্যালি করছি। তাই এই র্যালি আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র অর্জন করেছিলাম তার লক্ষ্য ছিল আমরা একটি নিরাপদ রাষ্ট্র পাবো। আমরা কথা বলার অধিকার পাবো, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার পাবো। কিন্তু এই সরকার একটি বাকশালী রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে এদেশের জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতায় চেপে বসে আছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার আমাদের সকল অধিকার গুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে মানুষের সকল অধিকার গুলোকে কেড়ে নিয়েছে।র্যালি শুরুর আগে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে। দুপুর দেড়টার মধ্যেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একদিকে নাইটেঙ্গেল মোড় অন্যদিকে ফকিলাপুল মোড় পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মী দিয়ে ভরে যায়। বিএনপির বিজয় র্যালিতে আসা নেতাকর্মীরা ‘স্বাধীনতার অপর নাম, জিয়াউর রহমান’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সলাম’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’- স্লোগানে পুরো নয়া পল্টন ও এর আশেপাশের এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে।এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ টুকু, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, মহানগর উত্তরের সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উন্নতি নেই খালেদা জিয়ার, পরীক্ষা করা হচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই। গতকাল শরীরের অনেকগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। আজ রিপোর্ট পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। এখন প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় দুবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বৈঠকে বসছেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করে প্রতিদিনই ওষুধ দিচ্ছেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটার নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সেগুলো ওপরে উঠানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কয়েক দিন ধরেই কমে যাচ্ছে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা। রক্ত কিংবা ওষুধ দিয়ে তার মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তও আর দেওয়া যাচ্ছে না তাকে। এতে পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাচ্ছে। ডা. জাহিদ বলেন, বর্তমান চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। বরং তাঁর শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।
যত দিন যাচ্ছে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি ততই বেড়ে যাচ্ছে। এখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরকার তাকে বিদেশে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না।
গত ১৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান। এই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন।
ভোট অশান্তিতে তৃণমূল জড়িত প্রমাণ দিলে ২৪ ঘণ্টায় ব্যবস্থা, আশ্বাস দিলেন অভিষেক-আনন্দবাজার পত্রিকা
কলকাতা পুরভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন করে জিততে ভাবে। কোনও অবস্থাতেই ভোটে জেতার জন্য ‘প্রভাব’ খাটানো চলবে না। রবিবার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি এবং বিরোধীদের তোলা অনিয়ম প্রসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘‘অশান্তিতে তৃণমূল জড়িত আছে প্রমাণ দিতে পারলে দল ব্যবস্থা নেবে।’’
রবিবার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিউশনের বুথে ভোট দিয়ে পুর নির্বাচনে অশান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘অশান্তির ভিডিয়ো ফুটেজ থাকলে আনুন। তৃণমূলের কেউ, কোথাও, কোনও জড়িত আছে প্রমাণ দিতে পারলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দল ব্যবস্থা নেবে।’’ পাশাপাশি, প্রশাসনিক স্তরেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের ছাদে চলছে বিরিয়ানি রান্না! বিজেপি–র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল তৃণমূল’ আজকাল
কলকাতা পুরভোটের দিন উত্তর কলকাতার একটি হাসপাতালের ছাদে চলছে বিরিয়ানি রান্না।
সেই বিরিয়ানি এজেন্টদের পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে বিলি করে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। রবিবার সকালে বিজেপি–র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলল তৃণমূল। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই হাসপাতালের এক কর্মী। এদিকে, বিরিয়ানি বানিয়ে বিলি করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে ওই হাসপাতালের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কর্মীরা। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী অয়ন চক্রবর্তীও পৌঁছন সেখানে। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই হাসপাতালে বহিরাগতদের এনে রেখেছে বিজেপি। সেখান থেকে একটি বিরিয়ানির হাঁড়িও তাঁরা বেরতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। তবে শাসকদলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাইরের কারও জন্য বিরিয়ানি তৈরি হচ্ছে না বলে দাবি ওই হাসপাতাল কর্মীর। তবে এত বিরিয়ানি কার জন্য তৈরি হচ্ছে তার জবাব তিনি দেননি। এ ব্যাপারে বিজেপি–র কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শান্তিতে ভোট দিয়েছে মানুষ, আমি খুশি’, ভোট দিতে গিয়ে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভোট দিতে মিত্র ইন্সটিটিউশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে ভ্রাতৃবধূ তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ভোট দিতে যান তিনি। তাঁর কথা, সকলে শান্তিতে ভোট দিয়েছেন, তাতে খুশি তিনি।
কলকাতা পুরসভার ৭৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বিকেল ৪ টে নাগাদ ভ্রাতৃবধূ তথা নিজের ওয়ার্ডের প্রার্থী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মিত্র ইন্সটিটিউশনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। মানুষ শান্তিতে ভোট দিচ্ছে, আমি খুশি।” পুরভোটের সকাল থেকে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। সেই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ ভোটে প্রার্থী দিতে পারছে না, ভোট হচ্ছে না, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পরিকল্পনামাফিক নানারকম অভিযোগ করা হচ্ছে।” সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরই ভোট দিতে কেন্দ্রের ভিতরে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। #
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।