এপ্রিল ২৪, ২০২২ ১৩:৩২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪। এপ্রিল রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • মতামত মারল ছাত্রলীগ, রিমান্ডে বিএনপি!-প্রথম আলো
  • মকবুলের কাছে থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে: পুলিশ-যুগান্তর
  • রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: খুনিদের ফাঁসি চান নিহত ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন-মানবজমিন
  • যুদ্ধে ইউক্রেন জিতবে 'বিশ্বাস' মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের -ইত্তেফাক
  • অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর-বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘ভূস্বর্গের তরুণদের আর কষ্ট পেতে দেব না’, ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রথম কাশ্মীর সফরে দাবি মোদির–সংবাদ প্রতিদিন
  • জম্মু-কাশ্মীরে মোদির সমাবেশ স্থল থেকে কিছু দূরেই বিস্ফোরণ! কারণ নিয়ে ধন্ধ -আজকাল 
  • ‘যোগীর হাতে রক্তের দাগ’, প্রয়াগরাজে ‘সত্য সন্ধানে’ প্রতিনিধি দল পৌঁছতেই বলল তৃণমূল-আনন্দবাজার পত্রিকা

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. ‘মারামারি করলো ছাত্রলীগ, মামলা দিলো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে’। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমান উল্লাহ আমানের এ বক্তব্য সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?

২. যুদ্ধ অবসানের জন্য পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার এই অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন?

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

মতামত মারল ছাত্রলীগ, রিমান্ডে বিএনপি!-প্রথম আলো

গত মঙ্গলবার নিউমার্কেটে ছাত্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যকার সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় স্থানীয় বিএনপির নেতা মকবুল হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। 

অন্যদিকে সেদিনের সংঘর্ষে কারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, কারা হেলমেট পরে চাপাতি, রামদা ইত্যাদি নিয়ে নাহিদ ও মুরসালিন নামের দুই নিরীহ তরুণকে খুন করেছে, সেই তথ্য ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। এতে দেখা যায়, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের বিবদমান চার গ্রুপের নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন। তাহলে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কি স্থানীয় বিএনপি নেতার হুকুমে এসব সন্ত্রাসী কাজ করেছেন?

বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক সমঝোতার কথা আমরা জানি, ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে কিংবা ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির কোনো নেতার হুকুমে মারপিট, ভাঙচুর করেছে, পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে, এমন উদাহরণ কেউ দেখাতে পারবেন না। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেদিন নিউমার্কেট এলাকার সংঘর্ষ থামাতে পারেনি, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আড়াই ঘণ্টা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে তারা। পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ করলে হয়তো নাহিদ ও মুরসালিনকে এভাবে জীবন দিতে হতো না। নাহিদ একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী আর মুরসালিন একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, সেদিন দোকান কর্মচারী ও ছাত্রলীগের কর্মীরা উভয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। হতে পারে এ কারণে পুলিশ কোন পক্ষে যাবে ঠিক করতে পারছিল না। কেননা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এখন জাতীয় স্লোগান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপির নেতাকে রিমান্ডে নিয়ে কী সত্য বের করতে চায়?

বিএনপি বা অন্য যেকোনো দলের নেতা-কর্মী সংঘর্ষ করলে, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করলে, পুলিশের কাজে বাধা দিলে অবশ্যই পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সেদিনের ঘটনাটি ঘটেছে দিনের বেলায় শত শত লোকের সামনে। টিভিতে ছবি দেখানো হয়েছে। পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। গত শুক্রবার ডেইলি স্টারের ছবিতে দেখা যায়, একজন হেলমেটধারী তরুণ লম্বা ছড়ি দিয়ে নাহিদকে কোপাচ্ছেন। তাঁর পেছনে আরও ছয় হেলমেটধারী তরুণ দাঁড়িয়ে আছেন।

রোববার প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, ‘নিউমার্কেট এলাকায় গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের সময় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। দুজনই ঢাকা কলেজের ছাত্র। থাকেন কলেজের উত্তর ছাত্রাবাসে। একজনের নাম কাইয়ুম, অন্যজনের নাম বলতে চায়নি পুলিশ। দুজনেই ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির একজন নেতার অনুসারী। 

মকবুলের কাছে থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে: পুলিশ-যুগান্তর

রাজধানীর নিউমার্কেটে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের সংঘর্ষকালে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন সরদারের কাছ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ মিলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার থেকে রিমান্ডে রয়েছেন বিএনপির এ সাবেক নেতা। রিমান্ডের প্রথম দিনেই জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্ব তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউমার্কেট জোনের পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শাহেনশাহ। তিনি বলেন, ‘তার (মকবুল) কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছি।’

বিএনপি করার কারণে’ পুলিশ তাকে এ মামলার আসামি বানিয়েছে বলে প্রথমে দাবি করেছিলেন মুকবুল।তবে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল মধ্যরাত ও পরদিন দিনভর সংঘর্ষের সময় মকবুলসহ বাকিরা ঘটনাস্থলে ছিলেন।এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার শাহেনশাহ বলেন, ‘এখনও স্বীকার করেছেন না। তবে পুলিশের তথ্য রয়েছে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং উসকানি দাতা হিসেবে কাজ করেছেন।’

অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর-বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুতদার এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেখানে যারা হোল্ডিং করবে বা যারা মানুষের এই প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে কোনো রকমের খেলা খেলতে যাবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আজ রবিবার (২৪ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নতুন ৪০টি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধনকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও করোনাভাইরাসের জন্য সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। তার ওপর ইউক্রেন ও রাশিয়ার যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধ এর ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলছে। তারপরও আমি বলবো অনেক উন্নত দেশে এখন খাদ্যের জন্য হাহাকার। ইনফ্লেশন রেট কোথাও ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ইউরোপিয়ান দেশে ৭, ৮, ৯ শতাংশ ইনফ্লেশন (মূল্যস্ফীতি) রেট। তারপরও আমরা কিন্তু আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে।’

দেশের মানুষকে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সঙ্গে দেশের মানুষকেও বলবো, এই যুদ্ধের কারণে আপনারা জানেন যে বিদেশ থেকে যে সব জিনিস আমরা আমদানি করি সেগুলো আনা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে, পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দেশ তাদের উৎপাদিত পণ্য আর রফতানি করছে না বা তারাও বিপদে আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে- আমাদের যে মাটি, মানুষ আছে এটা ব্যবহার করে আমাদের নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।’

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

‘যোগীর হাতে রক্তের দাগ’, প্রয়াগরাজে ‘সত্য সন্ধানে’ প্রতিনিধি দল পৌঁছতেই বলল তৃণমূল-আনন্দবাজার পত্রিকা

উত্তরপ্রদেশের ইলাহাবাদ বা প্রয়াগরাজে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে খুন করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় শনিবারই সরব হয়েছিল বাংলার শাসক দল তৃণমূল। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বগটুই কাণ্ড এব নদিয়ার হাঁসখালির ঘটনায় রাজ্যে সত্য অনুসন্ধান দল পাঠিয়েছিল রাজ্যে বিরোধী এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি। এমনকি ওই দুই ঘটনার জেরে বাংলায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল বিজেপি। শনিবার তৃণমূলের মহিলা শাখার সভাপতি এবং রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, ‘‘যাঁরা বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে অবান্তর কথা বলেন, তাঁদের কেউ কি এই ঘটনার পর যোগী রাজ্যে ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা জারি করার কথা বলেছেন?’’ বাংলায় ভোটের আগে বিজেপি কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একই দলকে ক্ষমতায় আনার কথা বলে ডবল ইঞ্জিন সরকরের প্রচার করেছিল। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার সেই অর্থে জোড়া ইঞ্জিন সরকারের তকমা দিয়ে তৃণমূল প্রয়াগরাজের ঘটনা প্রসঙ্গে বলে, এই ঘটনা ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কলঙ্ক। উত্তরপ্রদেশের তৃণমূল কংগ্রেসের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে তৃণমূল প্রতিনিধি দলের রওনা হওয়ার খবর দিয়ে লেখা হল  ‘তোমার হাতে রক্তের দাগ যোগী আদিত্যনাথ’।

জম্মু-কাশ্মীরে মোদির সমাবেশ স্থল থেকে কিছু দূরেই বিস্ফোরণ! কারণ নিয়ে ধন্ধ-আজকাল

আজ, রোববার জম্মু-কাশ্মীরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একগুচ্ছ সমাবেশ হয়েছে। তবে সেই সমাবেশের জায়গা থেকে মাত্র ১২ কিমি দূরে শোনা গেল বিস্ফোরণের আওয়াজ। বিস্ফোরণ হয়েছে জম্মু জেলার লালিয়ানা গ্রামে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী। পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘এটা সন্ত্রাসের উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ বলে মনে হচ্ছে না। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’

তবে কাশ্মিরে গিয়ে মোদির দাবি, ‘ভূস্বর্গের তরুণদের আর কষ্ট পেতে দেব না’,২০১৯ সালে  ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এই প্রথম কাশ্মীর সফরে  গিয়ে এ দাবি মোদির। প্রধানমন্ত্রী বলেন,উন্নয়নের বার্তা নিয়েই তিনি এসেছেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী এদিন ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”উপত্যকার তরুণরা আমার কথায় ভরসা রাখুন। আপনাদের পূর্বপুরুষদের যে সমস্যার মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছিল, আপনাদের জীবনকে তেমন হতে দেব না।”#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৩