একনজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে, ফেরতের দায় জনগণের
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ২ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। বাংলাদেশের শিরোনাম:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- চালের রুটি খাওয়ার চাল কোথা থেকে আসবে-প্রথম আলো
- লেভেলক্রসিংয়ে কমছে না মৃত্যু, দায় নিতে প্রস্তুত নয় রেল-কালের কণ্ঠ
- তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে, ফেরতের দায় জনগণের'-মানবজমিন
- সরকারি কর্মকর্তাদের ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিদেশ ভ্রমণ বন্ধে রিট’- যুগান্তর
- এই সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না: ফখরুল- প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- সিবিআই, ইডি প্রধানের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে মহুয়াদের মামলা নিয়ে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের আনন্দবাজার পত্রিকা
- তৃণমূলের ১০০ জন নেতা নেত্রীর নাম জমা দিয়েছেন, শাহি-বৈঠক শেষে জানালেন শুভেন্দু –আজকাল
- রাগ ছিল, জুতো মেরে শান্তি পেয়েছি’, ESI হাসপাতালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপর হামলা মহিলার-সংবাদ প্রতিদিন
জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার বিশ্লেষণে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। জনাব সিরাজুল ইসলাম,
কথাবার্তার প্রশ্ন (০২ আগস্ট)
১. 'তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে, ফেরতের দায় জনগণের'। দৈনিক মানবজমিনের এ শিরোনাম সম্পর্কে কী বলবেন আপনি?
২. একটি ভুল পদক্ষেপ হলেই পরমাণু যুদ্ধে নিশ্চিহ্ন হবে সব- কথাটি বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তার এ আশংকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
চালের রুটি খাওয়ার চাল কোথা থেকে আসবে-প্রথম আলো
দেশে কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বা জোগানে সংকট দেখা দিলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা নতুন নতুন পরামর্শ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান গমের আটার বদলে চালের আটার রুটি খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।মন্ত্রীর এই পরামর্শ শুনে বাজারে গেলে কিছুটা হোঁচট খেতে হবে। কারণ, দেশে এখন আটা আর মোটা চালের দাম প্রায় সমান। প্রতি কেজি মোটা চাল আর প্যাকেট আটা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে দেশে বছরে ৩ কোটি ৬০ লাখ টনের ওপর চালের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর হিসাবে এই পরিমাণ আরও বেশি। ইউএসডিএ বলছে, চালের প্রয়োজন এর চেয়ে আট লাখ টন বেশি। ইউএসডিএর হিসাবে চালের প্রয়োজন ৩ কোটি ৬৮ লাখ টন। এত চাল দেশে নেই। গত বছরের মতো এবারও বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হবে। সরকার এরই মধ্যে চাল আমদানি বাড়াতে শুল্ক ৬৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সেই চালও আনতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ, ডলারের দাম ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিশ্ববাজারে চালের দামও বাড়ছে।
অন্যদিকে দেশে বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৮৫ লাখ টন। এর ৭৫ লাখ টন বিদেশ থেকে আনতে হয়। দাম বেড়ে যাওয়ায় গত অর্থবছরে ৪০ লাখ টন গম আনতে পেরেছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে আটার দাম বাড়ায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শ দেওয়ার আগেই মানুষ ভাত খাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী অবশ্য ভাত না, চালের রুটি খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর হয়তো জানা নেই দেশে আটার রুটির বদলে চালের রুটি খাওয়া বাড়লে সামগ্রিকভাবে চালের চাহিদা বেড়ে যাবে। এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে এ বছর পূর্বাভাসের তুলনায় সাড়ে তিন লাখ টন চাল কম উৎপাদিত হবে। তার মানে সাধারণভাবে দুই বেলা ভাতের জোগান দিতেই বিদেশ থেকে এ বছর আরও বেশি চাল আমদানি করতে হবে। আর মানুষ যদি প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চালের রুটি খাওয়া শুরু করে তাহলে দেশে ন্যূনতম ৪০ লাখ টন চালের বাড়তি চাহিদা তৈরি হবে।
লেভেলক্রসিংয়ে কমছে না মৃত্যু, দায় নিতে প্রস্তুত নয় রেল-কালের কণ্ঠ
এক ট্রেনের ধাক্কায় নিমিষেই ঝরে যায় ১১ প্রাণ। মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়ার পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের ঝরনা থেকে কিছুটা দূরেই রেলের লেভেলক্রসিং। ট্রেন আসছিল কি না তা জানা ছিল না তাদের কারোই। তবে এই লেভেলক্রসিংটি ছিল বৈধ এবং রক্ষিত।
২০১৯ সালের ১৫ জুলাইয়ের কথা। সেদিনও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস দুমড়েমুচড়ে নিহত হন বর-কনেসহ ১১ জন। তবে সেই ক্রসিংটি ছিল অরক্ষিত। যদিও এই দুই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই রেলের গেটম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যাচ্ছে।
লেভেলক্রসিংয়ে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর প্রায় প্রতিবারই তদন্ত কমিটি করা হয়। তারপর গেটম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েই সমাধান টানা হয়। এসব দুর্ঘটনা রোধে রেলের নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
এক হিসাবে দেখা যায়, শুধু চলতি মাসেই লেভেলক্রসিংয়ে ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অরক্ষিত রেলপথ, অবৈধ লেভেলক্রসিং, বৈধ লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের অভাব এবং চলাচলকারীদের অসচেতনতাকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান না করায় দুর্ঘটনা ঘটছে।
লেভেলক্রসিংয়ে মৃত্যু কমছে না
রেলওয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে রেললাইনে দুই হাজার ৬০১টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের চলার পথে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় দুর্ঘটনা হয়েছে ২৫৮ বার। এসব দুর্ঘটনায় ৩৪৩ জন মারা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ট্রেনের যাত্রী ৩২ জন এবং রেলের কর্মরত ৪৩ জন। অথচ রেল দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনের বাইরে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ২৬৮ জনের। অর্থাৎ রেল দুর্ঘটনায় ট্রেনে যত মানুষ মারা যায় তার থেকে অন্তত সাড়ে তিন গুণ বেশি মানুষ মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে রেলপথে ৯৭৪টি দুর্ঘটনায় এক হাজার ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১১৬টি হয়েছে লেভেলক্রসিংয়ে। এই ১১৬ দুর্ঘটনায় ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে এক হাজার তিনজন। লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কারণে ৩১৪ জন আহত হয়েছে।
মৃত্যুর দায় নিতে প্রস্তুত নয় রেল
রেল কর্তৃপক্ষের ভাবনা, রেলপথে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য রেল সরাসরি দায়ী নয়। রেল নিজস্ব পথে চলে, সড়কে নয়। আর অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর দায় রেল আর নেবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, অবৈধ লেভেলক্রসিং দেখার দায়িত্ব রেলের নয়। রেল শুধু বৈধ লেভেলক্রসিং পরিচালনা করে থাকে।
জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিচালন) সরদার শাহাদাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ লেভেলক্রসিং তৈরি করেছে তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। সেগুলো বৈধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেসব লেভেলক্রসিং রেলের নজরদারিতে চলে এলে দুর্ঘটনা কমবে। ’
তিনি বলেন, ‘আজকে (গতকাল) যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটা বৈধ গেট ছিল। শোনা যাচ্ছে, সেখানে দায়িত্বরত গেটম্যান ও সিগন্যালও ছিল। মাইক্রোবাসটি সিগন্যালের পাশ দিয়ে রেললাইনের ওপর উঠে যায়। ঘটনার সত্য-মিথ্যা তদন্তের পর বোঝা যাবে। ’
ট্রেন দুর্ঘটনায় এমন মৃত্যুর দায় মূলত কার—এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তাদের দায়ই বেশি। তাদের দেখেশুনে রেললাইন পার হওয়া উচিত। আমরা সড়কপথ পার হওয়ার সময় বারবার রাস্তার দুই পাশে তাকাই। কিন্তু রেলের বেলায় কেন সেটা মানব না। ট্রেন চাইলেই থামানো যায় না। আমাদের বাস্তবতায় পুরো রেলপথ বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখাও সম্ভব না। মানুষ সচেতন হলেই দুর্ঘটনা কমবে। ’
অরক্ষিত লেভেলক্রসিং বেশি
রেলওয়ের তথ্য বলছে, সারা দেশে তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। পুরো পথে আছে তিন হাজার ৩৯৮টি লেভেলক্রসিং। এর মধ্যে এক হাজার ৩৬১টি অবৈধ। আর বৈধ-অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ের মধ্যে অরক্ষিত দুই হাজার ৫৪টি। অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ের বেশির ভাগেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) রাস্তা।
এআরআইয়ের গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের মোট অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির রাস্তা রয়েছে ৪২৭টি করে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২৪টি, পৌরসভার ১১০টি, সিটি করপোরেশনের ৩২টি, একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ২৭টি, জেলা পরিষদের ১৩টি এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি। এ ছাড়া ১২৭টি লেভেলক্রসিং কার আওতায় আছে, তা জানা যায়নি।
এআরআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবু রেল কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যেসব অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের। রেলের উচিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া। রেলের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, কিন্তু গোড়াতে ঠিক নেই।
লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের অভাব
একটি লেভেলক্রসিংয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বরত গেটম্যান থাকা জরুরি। সে হিসাবে প্রতি লেভেলক্রসিংয়ে তিনজন গেটম্যান থাকার কথা। রেলের গেটম্যানদের চাকরি স্থায়ী করা নিয়ে আন্দোলন করা সংগঠন বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৮৮৯০ গেটকিপার রাজস্ব বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ পূর্ব পশ্চিম অঞ্চলের সমন্বয়কারী আল মামুন শেখ জানান, বর্তমানে সারা দেশে পাঁচ হাজার ২৫ জন গেটকিপার কর্মরত রয়েছেন। অথচ তিন হাজার ৩৯৮টি লেভেলক্রসিংয়ের জন্য ১০ হাজার ১৯৪ জন গেটম্যান প্রয়োজন।
গেটম্যান না থাকা প্রসঙ্গে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আবকাঠামো) কামরুল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই-আড়াই হাজারের মতো লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই। এসব গেটের বেশির ভাগই অবৈধ। অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে আমরা গেটম্যান নিয়োগ দেব না। এটা আমাদের দায়িত্ব নয়। আবার যেসব বৈধ গেটে দিয়ে ২-৫টা ট্রেন যায়, সেখানেও গেটম্যান নিয়োগ দিয়ে জনবল বাড়ানো ঠিক হবে না। তবে এসব গেটে আমরা সংকেত পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা নিচ্ছি। এতে ট্রেন এক কিলোমিটার দূরে থাকতেই সংকেত বেজে উঠবে। ’
তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে, ফেরতের দায় জনগণের'-মানবজমিন
বাংলাদেশের চাওয়া সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের 'বেইল আউট' নিয়ে আইএমএফ'-এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় নয় দিন ধরে আলোচনার পর এই অগ্রগতির ফলে এখন দ্বিতীয় প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে। ইতিমধ্যেই আইএমএফ-এর শর্তগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে যা বলা হচ্ছে সেগুলো নতুন কিছু নয় এই অর্থে যে এগুলো নিয়ে দেশের ভেতরে গত কয়েক বছর ধরেই বলা হচ্ছিলো। যারা বলছিলেন তাদের কথা সরকার শোনেন নি, সরকার সমর্থকরা এই বক্তব্যগুলোকে 'দেশ বিরোধী' 'উন্নয়ন বিরোধী', এমন কি 'রাষ্ট্র বিরোধী' বলেও অভিহিত করেছেন। দুর্ভাগ্যজনক যে, যাদের এই প্রশ্নগুলো করা দরকার ছিল সেই অর্থনীতিবিদদের এক বড় অংশ এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেছেন।
আইএমএফ-এর প্রাথমিক শর্তগুলোর মোদ্দা কথা হচ্ছে দুর্নীতি, বেহিসেবি ব্যয় এবং অবাধ লুন্ঠনের যে মহোৎসব চলেছে তা বন্ধ করতে হবে। ঠিক এই ভাষায় আইএমএফ বলতে পারেনা, তাদের সেই এখতিয়ার নেই; ফলে তাদের ভাষায় এখন হিসেব চাওয়া হয়েছে জ্বালানি খাতে দেয়া ভর্তুকি কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোভিড মোকাবেলায় প্রণোদনার নামে যে টাকা দেয়া হয়েছে তার হিসেব কোথায়, আর মেগা প্রকল্পে 'অতি-মুল্যায়ন' - সহজ ভাষায় অতিরিক্ত ব্যয় -কেনো হয়েছে। এগুলোতে স্বচ্ছতার কথাও বলা হয়েছে। এই সব শর্ত আলোচনার প্রথম ধাপেই এসেছে, সামনে আর কী কী তাতে যুক্ত হবে আমরা তা জানিনা।
শর্তগুলোর যৌক্তিকতা আছে কীনা সেটা বিবেচনা করুন। আইএমএফ-এর কাছে অর্থ নেয়ার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে কেনো সেটা ভাবুন। আর এটাও মনে রাখুন সরকার কেবল যে আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংকের কাছেই টাকা চেয়েছে তা নয়, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারদের কাছেও বাংলাদেশ অর্থ চেয়েছে। তার পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি। গত বছরগুলোতেও বাংলাদেশ এই ধরণের ঋণ নিয়েছে। অথচ বলা হয়েছে উন্নয়নের রেলগাড়ী বুলেট গতিতে এগুচ্ছে।
একটি অস্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই সব ঋণ নেয়া হচ্ছে। এর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেই। এমন কি সাজানো সংসদে এই নিয়ে কোনও ধরনের আলোচনা পর্যন্ত হচ্ছে না। এইসব হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন আমরা জানি যে ইতিমধ্যে যে ঋণ আছে সেগুলোর কারণে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। এই সব অর্থ ফেরত দেয়ার দায় জনগণের। আগামীতে প্রতিটি পয়সা হিসেব করে ফেরত দিতে হবে। কিন্ত এই নিয়ে তাদের জানানোর পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেই। সংকটের মাত্রাটা বোঝা দরকার, সামনে কী ধরণের পরিস্থিতির সূচনা হতে পারে সেই বিষয়ে ভাবা দরকার।
[লেখকঃ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর, আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট। লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া
তৃণমূলের ১০০ জন নেতা নেত্রীর নাম জমা দিয়েছেন, শাহি-বৈঠক শেষে জানালেন শুভেন্দু –আজকাল
আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, তৃণমূলের নেতা নেত্রী সহ ১০০ জনের নাম জমা দিয়েছেন তিনি। বৈঠক শেষে বিজেপি বিধায়ক জানান, “ ১০০’র বেশি তৃণমূলের বিধায়ক এবং তৃণমূলের কালেক্টরের নাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়েছি, যাঁরা বাংলায় ঘুষের চক্র চালিয়েছে এবং টাকা তুলেছে।“ শাহি সাক্ষাত শেষে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৭৫ হাজার চাকরির মধ্যে ৫০-৫৫ হাজার বিক্রি করা হয়েছে। একা পার্থ, অপা যুক্ত নন। প্রচুর কালেক্টর আছে। ব্লক অনুযায়ী কালেক্টর আছে, জেলা অনুযায়ী কালেক্টর আছে।“ সঙ্গেই জানান, ৪ বিধায়কের লেটারপ্যাড সহ বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ জমা দিয়েছেন তিনি।
আজ সকাল থেকেই নজর ছিল শুভেন্দু-শাহি সাক্ষাতের দিকে। গতকাল রাতেই দিল্লি উড়ে গিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। অন্যদিকে এই সপ্তাহেই দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখানে গিয়ে তাঁর একগুচ্ছ বৈঠক রয়েছে বলেই খবর সূত্রের। জল্পনা এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারেন মমতা। তার আগেই দিল্লি গিয়ে শাহের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক নিয়ে জোর জল্পনা ছিল রাজনৈতিক মহলে।
রাজ্যের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সিএএ নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলেই নিজের টুইটে জানিয়েছেন শুভেন্দু। বৈঠকের পর সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী পৃথক ভাবে বসতে পারেন। সম্ভাবনা রয়েছে নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের।
রাগ ছিল, জুতো মেরে শান্তি পেয়েছি’, ESI হাসপাতালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপর হামলা মহিলার-সংবাদ প্রতিদিন
SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার হামলার মুখে পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। ইএসআই হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে বেরনোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে চটি ছুঁড়ে মারলেন এক মহিলা। যদিও পার্থবাবুর গায়ে তা লাগেনি বলেই খবর। এমন হাই প্রোফাইল মামলায় আচমকাই এমন ঘটনা ঘিরে শোরগোল হাসপাতাল চত্বরে। অতি দ্রুত প্রাক্তন মন্ত্রীকে সেখান থেকে সরিয়ে গাড়িতে তুলে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। মহিলার সাফ বক্তব্য, ”রাগ ছিল, জুতো মেরে শান্তি পেয়েছি।”
পার্থকে জুতো ছুঁড়ে মেরেছেন শুভ্রা ঘোড়ুই। ছবি: অরিজিৎ সাহা। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় ইডির (ED) আদালতের নির্দেশে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে ৪৮ ঘণ্টা পরপর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হচ্ছে। মঙ্গলবার ছিল সেই দিন। দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জোকার ইএসআই হাসপাতালে। সেখান থেকে বেরনোর পথেই ‘জুতো’ হামলার মুখে পড়লেন পার্থবাবু। তাঁর দিকে তাক করে এক মহিলা জুতো ছুঁড়ে মারেন। #
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন