বিয়ের জন্য কেমন পাত্রী পছন্দ?
অবশেষে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতাবন্ধুরা! আজ ২৯ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ১২টায় বন্ধ হলো মেট্রোরেলের চলাচল, উঠতে না পেরে যাত্রীদের বিক্ষোভ -মানবজমিন
- মতামত আওয়ামী লীগের স্মার্ট বাংলাদেশ ও বিএনপির রাষ্ট্র মেরামত নিয়ে কিছু প্রশ্ন-প্রথম আলো
- সেখানে কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব: কাদের -যুগান্তর
- বিশৃঙ্খলা করলে হাত ভেঙে ফেলা হবে, বিএনপিকে ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি -কালের কণ্ঠ
- জনস্রোতে আওয়ামী সরকার পালানোর পথ পাবে না : এ জেড এম জাহিদ - বাংলাদেশ প্রতিদিন
- কোটার ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রুল -ইত্তেফাক
- ১ বছর পেছাতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন -ডেইলি স্টার
কোলকাতার শিরোনাম:
- বিয়ের জন্য কেমন পাত্রী পছন্দ? অবশেষে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী-আজকাল
- খাবার জলের ট্যাঙ্কে মানুষের মল, অসুস্থ অনেকে, দলিত নির্যাতনের ঘৃণ্য রূপ তামিলনাড়ুতে-সংবাদ প্রতিদিন
- দু’বছরে ১১৩ বার নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন রাহুলই, কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা বিবৃতি সিআরপিএফের-আনন্দবাাজর পত্রিকা
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেলের উদ্বোধন হয়েছে। এতে বেশিরভাগ মানুষ উচ্ছ্বসিত কিন্তু পুরোপুরি সার্ভিস চালু না হয় কিছুটা ক্ষুব্ধ। আবার অনেক অভিযোগ করছেন ভাড়াও বেশি। এছাড়া গতকাল প্রথম দিনেই আগারগাও স্টেশনে টিকিট বিক্রির মেশিন বিকল হয়েছে। বিষয়গুলোকে কিভাবে দেখছেন?
২. রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যয়: রাশিয়া ইউক্রেনে তার লক্ষ্য অর্জন করবেই। এটি কি রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর
বিশৃঙ্খলা করলে হাত ভেঙে ফেলা হবে, বিএনপিকে ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি-কালের কণ্ঠ
যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার গণমিছিল করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এই গণমিছিল থেকে ঢাকা শহরে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ও গণহয়রানি করা হলে এর দাঁত ভাঙা জবাব দেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মেট্রোরেল চালু করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এমন হুঁশিয়ারি দেয় ছাত্রলীগ।
মতামত-আওয়ামী লীগের স্মার্ট বাংলাদেশ ও বিএনপির রাষ্ট্র মেরামত নিয়ে কিছু প্রশ্ন-প্রথম আলো
এ শিরোনামে সাংবাদিক কামাল আহমেদ লিখেছেন, বছর শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন। কাগজগুলোয় সালতামামি বেরোলে বাংলাদেশের জন্য করোনা–উত্তর বছরটা কেমন গেল, তার একটা মোটামুটি স্মৃতিচারণা পাওয়া যাবে। তবে আমার যতটা মনে পড়ছে, তাতে পুরো বছরের মধ্যে রাজনীতির জন্য সবচেয়ে আলোচিত মাস নিশ্চিতভাবেই ডিসেম্বর।
এ মাসেই দুটো বড় দলের কাছ থেকে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানা গেল। একই সঙ্গে কার কী সাংগঠনিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কেমন হতে যাচ্ছে, তারও একটা চেহারা পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে আমরা পেলাম বিরোধী দল বিএনপির রাষ্ট্র মেরামত কর্মসূচি এবং যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা।
আর ২৪ ডিসেম্বর পেলাম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয়। দুটো বিষয় নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ প্রয়োজন, কিন্তু সংবাদপত্রের সীমিত পরিসরে তা সম্ভব নয়। তবে প্রধান প্রধান উপাদানের ওপর সংক্ষেপে হলেও কিছুটা আলোকপাত করা যায়।
২. যাঁরা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার দেখেননি, তাঁদের পক্ষে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে কী ছিল, তা নজরে না–ও পড়তে পারে। কেননা সংবাদমাধ্যম কয়েক দিন ধরে রাজনীতির চেয়ে নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনাতেই মেতে ছিল। গত ১৪ বছরে সরকারের এবং দলের এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে আমরা মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের মুখে শুনিনি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা সভানেত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন।
সুতরাং, সম্মেলনে দলের নেতৃত্ব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এত মাতামাতি কেন, তা বোঝা মুশকিল। আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে এ রাজনৈতিক ঘোষণার একটা বিবরণ আছে ‘লক্ষ্য এখন ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ’ শিরোনামের রাজনৈতিক নিবন্ধে।
নিবন্ধটিতে হীরেন পণ্ডিত লিখেছেন, ২২তম জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চারটি ভিত্তির কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হলো স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি। সরকার আগামীর বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রতিটি জনশক্তি স্মার্ট হবে।
সবাই প্রতিটি কাজ অনলাইনে করতে শিখবে, ইকোনমি হবে ই-ইকোনমি, যাতে সম্পূর্ণ অর্থ ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল ডিভাইসে করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মযোগ্যতা’ সবকিছুই ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে হবে। ই-এডুকেশন, ই-হেলথসহ সবকিছুতেই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। ২০৪১ সাল নাগাদ আমরা তা করতে সক্ষম হব এবং সেটা মাথায় রেখেই কাজ চলছে।
সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, তার ভিত্তি ছিল রাজনৈতিক সমঝোতা। রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে তখন সংবিধান কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০০৬ সালে এক–এগারোর সরকারেও সংবিধানের বিধান আক্ষরিকভাবে অনুসৃত হয়নি; কিন্তু তাদের কার্যক্রম বৈধতা পেয়েছে। নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক অথবা অন্য যেকোনো নামের সরকারই হোক, তার জন্য প্রয়োজন জাতীয় সমঝোতা। সেটা কখনোই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে বাদ দিয়ে হয় না। রাজনীতিতে সেই সমঝোতার লক্ষ্যে কখন, কে, কীভাবে উদ্যোগী হয়, সেটারই এখন অপেক্ষা।
২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০২১’–এর মূল ভিত্তি হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেন, স্মরণ করিয়ে দিয়ে এতে দাবি করা হয়েছে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে বাংলাদেশ বিপ্লব সাধন করেছে। দলের এই রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণাকে যে সরকারের প্রচারকাজেরও মূল বাণী বা মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, তা সরকারের বিভিন্ন আয়োজনেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
তবে নির্বাচনমুখী এ ঘোষণাপত্রে নির্বাচন নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে যে একটা সংকট আছে, তার কোনো স্বীকৃতি নেই এবং সমাধানের আগ্রহ অথবা উদ্যোগের কোনো আভাসও নেই।
আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র জোটসঙ্গী দলগুলো এবং অনুগত বিরোধী দল ছাড়া দেশের অন্য সব রাজনৈতিক দল যে বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে, সেই পটভূমিতে আগামী নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সে প্রশ্নের কোনো জবাব দলটির সম্মেলনে মেলেনি। আনস্মার্ট জনগোষ্ঠীকে স্মার্ট বানাতে জনগণের মতামত আবশ্যক বিবেচিত না হওয়াই কি এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা?
ভোটের অধিকার অবাধে প্রয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়া যে রাজনীতির মূল সংকট দূর হবে না, সেটা স্বীকার করতে সময়ক্ষেপণের ফলে অযথা বিরোধকে বৈরিতা এবং সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় বলার পরও ২০১৮ সালে তাদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। তখন নির্বাচনের ১০ মাস আগে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ‘বিরোধী দলের কাছে আমার প্রস্তাব, নির্বাচনকালীন আমরা সব দলের সমন্বয়ে সরকার গঠন করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য অবাধ, নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।’ (‘সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর’, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, প্রথম আলো)। চার বছর পর অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ ও প্রস্তাব কেন নেই, সে প্রশ্ন তাই মোটেও উপেক্ষণীয় নয়।
৩. আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও ঘোষণাপত্র প্রকাশের পাঁচ দিন আগে ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’র ২৭ দফা ঘোষণা করা হয়। বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত হতে থাকার পটভূমিতে বিএনপি সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে তার সাংগঠনিক পুনরুজ্জীবনের কাজে গতির সঞ্চার করে।
গত ২২ অক্টোবর থেকে বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি দিয়ে ক্ষমতাসীন দল, প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন বাধার মুখেও বড় বড় সমাবেশ ঘটিয়ে তারা প্রমাণ দেয় যে দলটি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এরপর ঘোষিত হলো রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচি। ‘রাষ্ট্র মেরামত’ কথাটি আমরা প্রথমবার বেশ জোরালো উচ্চারণে শুনি স্কুল–কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে।
এ ছাড়া ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনও সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের আলোচনায় শব্দগুচ্ছটি প্রয়োগ করতে থাকে। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির মুখে এটি উচ্চারিত হওয়ায় তাদের কর্মসূচিতে কী আছে, সেদিকে এখন অনেকের নজর পড়েছে।
কর্মসূচির পটভূমিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোকে ভাঙিয়া চুরমার করিয়া ফেলিয়াছে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করিতে হইবে। দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরাইয়া দেওয়ার লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয়লাভের পর বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের সমন্বয়ে একটি “জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার” প্রতিষ্ঠা করা হইবে।’
রাষ্ট্র মেরামতের সংস্কারগুলো করবে সেই জাতীয় ঐকমত্যের সরকার। দলটির ২৭ দফায় সংবিধান সংশোধন, বিচার বিভাগের সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সংস্কার, গণমাধ্যমের সংস্কারসহ কতগুলো যে কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার খেই রাখা মুশকিল।
সংস্কারের অগ্রাধিকারের ক্রমবিন্যাস না থাকায় সবকিছু করার তাড়ায় কোনো কিছুই না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এটিকে তাই সবাইকে তুষ্ট করার অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী চেষ্টার প্রতিফলন বললে খুব একটা ভুল হবে না।
বিএনপির ২৭ দফার মূল সমস্যা হচ্ছে জাতীয় সরকার গঠনের আগে যে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’–এর কথা তারা বলছে, সেই নির্বাচন কীভাবে সম্ভব হবে, তার সমাধান এতে নেই।
বর্তমানে জেলে থাকা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল অবশ্য এর আগে বলেছিলেন, ‘আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমাদের এই আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আন্দোলন নয়, আমাদের এই আন্দোলন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য নয়, আমাদের এই আন্দোলন তারেক রহমান সাহেবকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য নয়।
আমাদের এই আন্দোলন মানুষের অধিকারকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলন, আমাদের মানুষের ভোটের অধিকার পাওয়ার আন্দোলন, আমাদের এই আন্দোলন দেশে একটা সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করার আন্দোলন...।’(‘১০ ডিসেম্বর নিয়ে ভয় পেয়েছে সরকার: ফখরুল’, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, বিডিনিউজ২৪)। সেই ভোটের অধিকার ফেরানোর বাস্তবসম্মত পথ দেখানো ছাড়া এসব কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ কিছু অর্জন কি সম্ভব? আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কি সরকারের সম্মতি ও সহায়তা ছাড়া সম্ভব?
নির্বাচন–গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ নিতে কতটা প্রস্তুত আওয়ামী লীগ
২২তম কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
৪. আওয়ামী লীগের ভিশন (রূপকল্প) ২০২১–এর কথা আমরা স্মরণ করতে পারি। সেই ভিশনের আগে কিন্তু নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সারা দেশে নাগরিক সংলাপের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছিল রূপকল্প ২০২১। আওয়ামী লীগের ভিশন ২০২১–এ নাগরিক সমাজের আশা–আকাঙ্ক্ষার অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন ভোটাধিকার ফিরে পাওয়াই সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, তার ভিত্তি ছিল রাজনৈতিক সমঝোতা। রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে তখন সংবিধান কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০০৬ সালে এক–এগারোর সরকারেও সংবিধানের বিধান আক্ষরিকভাবে অনুসৃত হয়নি; কিন্তু তাদের কার্যক্রম বৈধতা পেয়েছে। নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক অথবা অন্য যেকোনো নামের সরকারই হোক, তার জন্য প্রয়োজন জাতীয় সমঝোতা। সেটা কখনোই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে বাদ দিয়ে হয় না। রাজনীতিতে সেই সমঝোতার লক্ষ্যে কখন, কে, কীভাবে উদ্যোগী হয়, সেটারই এখন অপেক্ষা।
ফখরুল-মোশাররফ-রিজভী ময়না পাখির মতো কথা বলেন: তথ্যমন্ত্রী-প্রথম আলো/যুগান্তর/কালের কণ্ঠ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ আরও যাঁরা নেতৃবৃন্দ আছেন, তাঁদের সবাই ময়না পাখির মতো কথা বলেন। ১৪ বছর ধরে একই ঢোল বাজাচ্ছেন। এগুলোর মধ্যে কোনো নতুনত্ব নেই।
মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে-প্রথম আলো
বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল–ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের গণপরিবহন চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের যোগাযোগকে সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করা। এতে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিও বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়। এসব দিক বিবেচনায় রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হওয়া একটা বৈপ্লবিক ব্যাপার।
মেট্রোরেল যানজট এড়িয়ে আমাদের গণমানুষের যাতায়াতের সময় বাঁচাবে। এর ফলে অনেক কর্মঘণ্টা আমরা পাব। যে কর্মঘণ্টাগুলো মানুষ কোনো না কোনো কাজে লাগাতে পারবে। এমনকি মানুষ যদি বিশ্রামও নেয়, তাতে তাদের অন্য কাজের গতিশীলতাও বাড়বে। অর্থাৎ মেট্রোরেলের মাধ্যমে শুধু যে তাৎক্ষণিক যাতায়াতের সময় বাঁচবে তা নয়, গণমানুষের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
মেট্রোরেলের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, অসুস্থ মানুষসহ সবাই উপকৃত হবেন। যেহেতু অর্থনীতিকে চালায় মানুষ। আর এই মানুষ যত বেশি দক্ষ ও কর্মক্ষম হবে, তত বেশি সে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। পাশাপাশি মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। এসব দিক থেকে মেট্রোরেল অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।
এবারে কোলকাতার কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:
খাবার জলের ট্যাঙ্কে মানুষের মল, অসুস্থ অনেকে, দলিত নির্যাতনের ঘৃণ্য রূপ তামিলনাড়ুতে-সংবাদ প্রতিদিনের এ খবরে লেখা হয়েছে, দলিত নির্যাতনের ঘৃণ্য রূপ দেখল তামিলনাড়ুর একটি গ্রাম। সেখানে সম্প্রতি দলিতদের জন্য নির্ধারিত জলের ট্যাঙ্কে ব্যাপক পরিমাণে মানুষের মল পাওয়া গিয়েছে। সেই জল খেয়ে বেশ কয়েক জন শিশু-সহ গ্রামের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর পরেই ওভারহেড ট্যাঙ্কটিকে পরীক্ষা করা হয়। তখনই জেলা প্রশাসন দেখে, কেউ বা কারা মানুষের মলে বোঝাই করেছে ওই ট্যাঙ্কটিতে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর পুদুক্কোটাই গ্রামের ১০ হাজার লিটারের ওই জলের ট্যাঙ্কটি ব্যাবহার করেন ১০০ জনেরও বেশি মানুষ।
উনিশের ভোটে দখল করা আসনের অর্ধেকও থাকবে না! বাংলা নিয়ে প্রবল চিন্তায় বিজেপি-সংবাদ প্রতিদিন
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বাংলায় ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। বর্তমানে দলের সংগঠনের যা অবস্থা, সেই আসনের অর্ধেকও ২০২৪-এ ধরে রাখা যাবে না। দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি। চিন্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা সকলেই। আর সে কারণে আগামী বছরেই রাজ্যে ২৪টি লোকসভা কেন্দ্রে ২৪টি জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহ-নাড্ডারা। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। নতুন বছর থেকেই এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন তাঁরা।
বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও ভারত জোড়ো যাত্রার শরিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর আরজি জানিয়েছিল কংগ্রেস (Congress)। বৃহস্পতিবার সিআরপিএফের (CRPF) তরফে দাবি করা হল, নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন রাহুলই। ২০২০ সাল থেকে মোট ১১৩ বার নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন কংগ্রেস নেতা, এমনই অভিযোগ কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও ভারত জোড়ো যাত্রার শরিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর আরজি জানিয়েছিল কংগ্রেস (Congress)। বৃহস্পতিবার সিআরপিএফের (CRPF) তরফে দাবি করা হল, নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন রাহুলই। ২০২০ সাল থেকে মোট ১১৩ বার নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন কংগ্রেস নেতা, এমনই অভিযোগ কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর। কিন্তু এই অভিযোগের উত্তরে সিআরপিএফের দাবি, রাহুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল না। কিন্তু রাহুলই নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন। এই মুহূর্তে যাত্রা স্থগিত রয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ফের যাত্রা শুরু হবে। সেই সময় যেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ থাকে। এমনই আরজি জানানো হয়েছিল চিঠিতে।
দু’বছরে ১১৩ বার নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন রাহুলই, কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা বিবৃতি সিআরপিএফের-আনন্দবাজার পত্রিকা
রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে গত বুধবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছিল কংগ্রেস। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এ বিষয়ে এখনও মুখ না খোলা হলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযোগের জবাব দিল সিআরপিএফ। কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, রাহুলই নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন। রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাদের দাবি, ২০২০ সাল থেকে মোট ১১৩ বার নিরাপত্তাবিধি ভেঙেছেন কংগ্রেস নেতা।
বিয়ের জন্য কেমন পাত্রী পছন্দ? অবশেষে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী-আজকাল
এই মুহূর্তে দেশের দু'জন মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর হলেন বলিউড অভিনেতা সলমন খান ও ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। দু'জনেরই বিয়ের খবর নিয়ে সর্বদাই কৌতুহলী দেশি ও বিদেশি সংবাদমাধ্যম। কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন? বা কেমন জীবনসঙ্গিনী পচ্ছন্দ? প্রায় দু’দশকের রাজনৈতিক জীবনে বহুবার দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন রাহুল গান্ধী। অবশেষে বুধবার মুখ খুললেন তিনি। এদিন ‘ভারত জোড়ো যাত্রায়’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল জানান, ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী তাঁর জীবনের সবচেয়ে পছন্দের নারী। তিনি বলেন, 'আমার জীবনের ভালবাসা বলতে ইন্দিরা গান্ধী। উনি আমার দ্বিতীয় মা।' সাংবাদিকরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে প্রশ্ন করেন, তবে কি বিয়ে করার জন্য ইন্দিরার মতো নারীই তাঁর পছন্দ? এমন প্রশ্নের উত্তরে ৫২ বছর বয়সি রাহুল জানান, ঠিক তা নয়। তিনি বলেন, 'এটি বেশ মজার প্রশ্ন। আমি এমন একজন নারীকে বেছে নেব, যাঁর মধ্যে আমার মা (সোনিয়া গান্ধী) এবং ঠাকুমা (ইন্দিরা) দু’জনের গুণই রয়েছে।'
শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এখানেই গুটিয়ে নিচ্ছি। আবারও কথা হবে আগামী আসরে ততক্ষণ সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯