জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ১৩:৫১ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতাবন্ধুরা! আজ ১০ জানুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • দুই বছরে ২০টি পুকুর ভরাট-সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কী করছে -প্রথম আলো
  • ওয়াসার এমডি তাকসিমের ১৪ বাড়ি -তদন্ত হচ্ছে দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে –মানবজমিন
  • যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ির বিষয়ে যা বললেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান-যুগান্তর
  • ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারসাম্যের কূটনীতির কারণে অনেকে আমাদের দিকে নজর দিচ্ছেন’ -যুগান্তর
  • বিএনপি গণঅবস্থানের নামে ধ্বংসাত্মক কিছু করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী -কালের কণ্ঠ
  • আওয়ামী লীগ যে কথা বলে, সে কথা রাখে : প্রধানমন্ত্রী - বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত আমরা: ওবায়দুল কাদের -ইত্তেফাক

কোলকাতার শিরোনাম:

  • ‘নাগরিকের জাতি পরিচয় জিজ্ঞাসা করা আইনত অপরাধ’-সংবাদ প্রতিদিন
  • জি-২০ সম্মেলনের বৈঠকে বাংলার প্রকল্পকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী-আজকাল
  • যে কোনও মুহূর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে বাড়ি! তবুও ভিটে ছাড়তে নারাজ জোশীমঠের অনেকে –আনন্দবাজার
  • ফের পথে নামলেন চাকুরিপ্রার্থীরা-গণশক্তি
  • বাবুঘাটে বিজেপির গঙ্গা আরতির কর্মসূচি ঘিরে ধুন্ধুমার, গ্রেপ্তার সজল ঘোষ-পুবের কলম

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. ওয়াসার এমডি তাকসিমের ১৪ বাড়ি। তদন্ত হচ্ছে দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে। কী বলবেন এ খবর সম্পর্কে?

২. ইরানকে পাশ্চাত্যের গ্রাস থেকে বের করা ছিল ইসলামি বিপ্লবের উদ্দেশ্য-একথা বলেছেন সর্বোচ্চ নেতা। প্রশ্ন হচ্ছে- ইরান কতটা সফল হয়েছে সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

দুই বছরে ২০টি পুকুর ভরাট-সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কী করছে-প্রথম আলো-সম্পাদকীয়

দেশের বড় শহরগুলোতে এখন আর পুকুর দেখা যায় না বললেই চলে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অবহেলার কারণে সেগুলো হারিয়ে গেছে। পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য পুকুরের অপরিহার্যতাও ভুলতে বসেছে মানুষ। নগরায়ণ বাড়তে থাকায় জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। যেমন সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় গত দুই বছরে অন্তত ২০টি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে, যার অধিকাংশ জমিতে তৈরি করা হয়েছে ভবন।

এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল, তা যথাযথ নয় বলেই এ পুকুরগুলো হারিয়ে গেল। এর ফলে সেখানে বাকি পুকুরগুলোও অস্তিত্বহীনতার ঝুঁকির মুখে পড়ে গেল। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি আইন অমান্য করলে একই সঙ্গে অর্থ ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 

পরিবেশ সংরক্ষক আইন অনুযায়ীও যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ। কিন্তু আইনের কোনো প্রয়োগ সাতক্ষীরায় দেখা যাচ্ছে না। সেখানে জমির মালিকেরা কখনো গোপনে, কখনো প্রকাশ্যে এসব পুকুর ভরাট করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, নগরায়ণের কারণে পৌর এলাকায় জমির দাম বাড়ায় পুকুর ভরাট করে ফেলছেন মালিকেরা। রাতারাতি সেগুলো ভরাট করে চড়া দামে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন মালিকেরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম জানান, তাঁদের জনবল কম।

সব জেলায় তিনিসহ তিনজন রয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা পুকুর ভরাটের কথা জানতে পারেন না। জানতে পারলে তাঁরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। গত দেড় বছরে তাঁরা তিনটি পুকুর ভরাট বন্ধ করেছেন। এ বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জরিমানা করেননি।

ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত আমরা: ওবায়দুল কাদের-ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর তো গেলো, আওয়ামী লীগ কী মোকাবিলা করেনি? আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ, অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, যে কোনো ধরনের আন্দোলনের নামে সহিংসতার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত।

ওয়াসার এমডি তাকসিমের ১৪ বাড়ি-তদন্ত হচ্ছে দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে-মানবজমিন

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান। ২০০৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর ১৩ বছর ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আবার মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। প্রতিষ্ঠান থেকে নেন মোটা অংকের সম্মানী। নানা কারণে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই আলোচনায় তিনি। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার ১৪টি বাড়ির খবর প্রকাশিত হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অংকের অর্থে বাড়ি কেনার তথ্যসহ অভিযোগ আগেই জমা পড়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনে। পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে দুদক। বলা হয়েছে তাকসিন এ খানের বিরুদ্ধে আসা আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগেরও তদন্ত হবে।

তিনি অর্থ পাচার করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার সহায়তা চাওয়া হবে। 

ওদিকে সূত্রের দাবি- যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি করার বিষয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার চোখেও আছেন তাকসিম এ খান। তিনি কীভাবে সেখানে সম্পদ করেছেন, অর্থের উৎস কী তা খোঁজা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছে। পত্রিকার খবরের সূত্র ধরে উচ্চ আদালতের নজরে আনা হয়েছে ওয়াসা এমডি’র যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ির বিষয়টি। উচ্চ আদালত এ বিষয়ে অনুসন্ধান হতে পারে বলে বক্তব্য দিয়েছে।

দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকসিম যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে হাজার কোটি টাকা খরচ করে কিনেছেন ১৪টি বাড়ি। বলা হচ্ছে দেশ থেকে অর্থ পাচার করেই তিনি বাড়িগুলো কিনেছেন। তার এসব বাড়ি কেনার অর্থের উৎস ও লেনদেন প্রক্রিয়া নিয়ে মাঠে নেমেছে একাধিক দেশি-বিদেশি তদন্ত সংস্থা। বড় অংকের টাকা খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসব বাড়ি কেনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দেশটির গোয়েন্দারা তার নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।  

সূত্রগুলো জানায়, তাকসিম সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেই তিনি ওয়াসার দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বছরের কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সময় কাটাতেন। ছুটিতে গিয়েই তিনি মূলত এসব বাড়ি কিনেছেন। অভিযোগ আছে বিদেশি সহায়তা নিয়ে ওয়াসার করা বড় বড় প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিয়েই তাকসিম বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। যদিও দেশে তার তেমন কোনো সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি বাসভবন ছেড়ে তিনি পল্টনের শ্বশুরবাড়িতে থেকে অফিস করেন। তবে এখন পর্যন্ত খবরে প্রকাশিত ১৪টি বাড়ির সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্গালিদের অনেকেই তাকসিমের বাড়ি কেনার বিষয়ে জানেন। 

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন তাকসিম এ খান। তিনি বলেছেন, প্রতিবেদনের তথ্য শতভাগ মিথ্যা। এর বিন্দুমাত্র ভিত্তি নেই। আমেরিকাতে আমার কোনো সম্পদ নেই। নরমালি মানুষের যেটা থাকে থাকা-খাওয়া জন্য, সেটাই আছে। এর তথ্য আমার ট্যাক্স ডিক্লারেশনেই আছে। নিজ নামে না থাকলে আত্মীয়দের নামে আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আত্মীয়দের নামেও নেই। ওখানে তো আমার ইনকাম ট্যাক্সের হিসাবে সবই দেয়া আছে। আমার যা আছে তার সবকিছুর হিসাব তো ওখানেই আছে। 

দুদকের তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, দুদকের তদন্তের বিষয়টি নিয়োগ নিয়ে। সেটার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। আর দুদকের তদন্ত আমার বিরুদ্ধে না, সেটা হচ্ছে বোর্ডের বিষয়ে। বোর্ডের পরিচালক নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে দুদকের প্রশ্ন আছে, সেটা থাকতেই পারে। প্রশ্নের উত্তর তারা পাবে।

দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ থাকার বিষয়ে জানতে দুদকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেয় হবে। বিএফআইইউ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া দুদকের কাছে এমডি’র বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি অভিযোগের তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগ যোগ হবে। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন, যেকোনো দেশেই ১৪টি বাড়ির মালিকানা অর্জনের তথ্য শুধু ওয়াসার এমডি নয়, বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনীর ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক। প্রকাশিত এই তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে ওয়াসার এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদে একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বাস্তবায়িত অনেক প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং তার সংশ্লিষ্টতার বহুবিধ অভিযোগ নির্ভরযোগ্য গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদন ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও আলোচিত হয়েছে। কিন্তু জবাবদিহি নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ বা অগ্রগতি কোনো অজানা কারণে হয়নি। উক্ত অভাবনীয় তথ্যের প্রেক্ষিতে আদালতের যে পর্যবেক্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার গুরুত্ব অনুধাবন করে দুদক কোনো প্রকার ভয় বা করুণার ঊর্ধ্বে থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিতে সক্রিয় হবে বলে জনগণ আশা করবে।

সম্প্রতি ওয়াসার এমডি’র যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি কেনা এবং অর্থ পাচারের জন্য দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম থাকার বিষয়ে দুদকে অভিযোগ পড়েছে। অভিযোগ দেয়া ব্যক্তি হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি ওয়াসার ঠিকাদার হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দুদকে দেয়া অভিযোগে তিনি তাকসিমের কেনা বাড়ির ঠিকানা, ছবি, কতো টাকা দিয়ে কবে বাড়িগুলো কেনা হয়েছে সেটিও উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া তাকসিম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’র (সিআইএ) ‘গভর্নমেন্ট ওয়াচ নোটিশ’-এর একটি কপি অভিযোগের সঙ্গে দেয়া হয়েছে। দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদেশি ঋণে করা ওয়াসার বড় বড় প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে তা হুন্ডিসহ বিভিন্ন উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন তাকসিম। পাচারের অর্থে দেশটির লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরের অভিজাত এলাকায় নগদ ডলারে ১৪টি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। 

বিএনপি গণঅবস্থানের নামে ধ্বংসাত্মক কিছু করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-কালের কণ্ঠ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, গণঅবস্থান কর্মসূচির নামে বিএনপি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে তা সহ্য করা হবে না। তারা যদি কোনো ধংসাত্মক কাজ করে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আজ মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে মুজিব কর্নারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে সরকার কখনো বাধা দেয়নি। কিন্তু তাদের বিগত সব কর্মসূচিতে সহিংসতা হয়েছে। এবার গণঅবস্থানের নামে রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর কিংবা ধংসাত্মক কোনো কাজ করলে নিরাপত্তা বাহিনী তা প্রতিহত করবে।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

এবারে কোলকাতার কয়েকটি খবরের বিস্তারিত: 

আইন ভঙ্গ করে একের পর এক পুকুর ভরাট করা হচ্ছে অথচ পরিবেশ অধিদপ্তর আইন প্রয়োগ করছে না, এটি হতাশাজনক। এ ছাড়া পৌর এলাকার পুকুরগুলো রক্ষায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মানা যায় না। পৌর মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলররা চাইলে পুকুর ভরাট ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। 

কিন্তু তাঁরা সেটি করছেন না। পুকুর ও জলাধার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। এরপরও সাতক্ষীরা পৌরসভা থেকে এভাবে পুকুর হারিয়ে যাবে, তা মানা যায় না। পুকুর রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকায় আমরা দেখতে চাই।

‘নাগরিকের জাতি পরিচয় জিজ্ঞাসা করা আইনত অপরাধ’-সংবাদ প্রতিদিন

জাতের ভিত্তিতে জনগণনা শুরু করেছে বিহারের মহাজোট সরকার। অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত সাধারণ মানুষের উন্নতির স্বার্থেই এই জনগণনা হচ্ছে বলে দাবি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের। তাঁর মতে, সমাধান যাত্রা নামে এই উদ্যোগের ফলে সরকারি চাকরিতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সমানাধিকার পাবেন। সরকারের এহেন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন বিহারের (Bihar) রূপান্তরকামী নেত্রী রেশমা প্রসাদ। মানুষের জাতি পরিচয় জিজ্ঞাসা করা আসলে অপরাধ। জাতির ভিত্তিতে জনগণনার অধিকার নেই সরকারের।

যে কোনও মুহূর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে বাড়ি! তবুও ভিটে ছাড়তে নারাজ জোশীমঠের অনেকে-আনন্দবাজার পত্রিকার এ খবরে লেখা হয়েছে, জোশীমঠের বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মরতে হলে মরবেন তা-ও ভাল। কিন্তু ভিটেমাটি ছেড়ে তাঁরা কোথাও যাবেন না।গাড়োয়াল হিমালয়ের ‘ডুবন্ত’ জনপদ জোশীমঠের ২০০টিরও বেশি বাড়িতে ইতিমধ্যেই ‘রেড ক্রস’ করে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ এই বাড়িগুলি বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এখন জোশীমঠের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৮।তড়িঘড়ি দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর। তৈরি করা হয়েছে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি। শহরবাসীকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মোদী স্বয়ং। নিয়মিত টেলিফোনে খোঁজ নিচ্ছেন তিনি। যদিও তাতে প্রশ্ন থামছে না। কাঠগড়ায় খোদ প্রধানমন্ত্রীই।১৯৭৬ সালেই জোশীমঠ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।কিন্তু যাবতীয় সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে এত দিন।বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের ডঙ্কা বাজাতে গিয়ে পরিবেশগত সমস্ত আপত্তি উড়িয়ে দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে জোশীমঠকে। অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত একাধিক জাতীয় প্রকল্প ঘিরে।

‘রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করবেন না’, ধর্মান্তকরণ ইস্যুতে সুপ্রিম তোপে তামিলনাড়ু সরকার-সংবাদ প্রতিদিন

জোর করে ধর্মান্তকরণ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তোপে তামিলনাড়ু সরকার। বিচারপতিদের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, ধর্মান্তকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করেছে স্ট্যালিন সরকার। যা দেখে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের মত, “বিষয়টা জাতীয় স্বার্থের। গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মানুষকে নিয়ে চিন্তিত। তাই রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১০