সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭ ১১:৫৯ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • এখনও আগুন জ্বলছে রাখাইন রাজ্যে- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম
  • রোহিঙ্গা সংকট: বৈশ্বিক চাপেও থামেনি মিয়ানমার- দৈনিক প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনাম
  • মিয়ানমারের হেলিকপ্টারের আকাশসীমা লঙ্ঘন, তীব্র প্রতিবাদ ঢাকার-দৈনিক ইত্তেফাক
  • কাদামাটির সংসারে ক্ষুধার থাবা- দৈনিক সমকাল
  • সু চির বিচার ও শাস্তির দাবিতে উত্তাল ঢাকা- দৈনিক যায়যায়দিন
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া- দৈনিক মানবজমিন
  • রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ৫০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন খালেদা জিয়া- দৈনিক ইনকিলাব
  • দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে ছাড় দেয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • চালের কেজি ৭০ টাকা- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • ১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের মানুষ- দৈনিক ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • উন্নয়নে ১২ হাজার কোটি: মমতা- দৈনিক আজকাল
  • সহ-সভাপতির পদ খুইয়ে দলে কার্যত একঘরে মুকুল রায়
  • বিশ্ব বাজারে কমলেও দেশে ব্যাপক বাড়ছে তেলের দাম- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

এখনও আগুন জ্বলছে রাখাইন রাজ্যে- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে এখনও আগুন জ্বলছে। শুক্রবারও রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন দিয়েছে দেশটির সেনা সদস্যরা। কমপক্ষে দুটি গ্রাম থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং  ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এদিন কক্সবাজারের টেকনাফে ঢল নেমেছিল নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের। নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপসহ পাঁচটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায় সারা দিনই দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকেছেন তারা।   

এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম বিরানভূমিতে পরিণত করেছে বলে ‘অকাট্য প্রমাণ’ পেয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একে ‘স্কর্চড আর্থ’ (পোড়ামাটি) কৌশল বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি বলছে, মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনী জাতিগত নিধন চালাচ্ছে- যা মানবতাবিরোধী অপরাধ।

শুক্রবার ব্যাংককে এক অনুষ্ঠানে অ্যামনেস্টি এসব মন্তব্য করেছে বলে জানায় এএফপি। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, নতুন করে তারা যেসব স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রাখাইনের অন্তত ২৬টি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যেসব স্থানে এক সময় ঘরবাড়ি ছিল সেগুলোতে ধূসর ভস্ম দেখা যাচ্ছে। অ্যামনেস্টি বলেছে, স্যাটেলাইটে ফায়ার সেন্সর বসিয়ে তারা দেখতে পেয়েছে ২৫ আগস্ট থেকে উত্তর রাখাইনে ৮০ বার বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড দেখা গেছে। সেদিন থেকেই সেনাবাহিনীর ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন্স’ শুরু হয়।

রোহিঙ্গা সংকট: বৈশ্বিক চাপেও থামেনি মিয়ানমার- দৈনিক প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনাম

নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও থামছে না মিয়ানমার। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বীভৎস হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সিএনএন গত বৃহস্পতিবার জানায়, রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা দেখতে গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাখাইন রাজ্য সরকারের সচিব টিম মং সুয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গতকাল জানান, মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মার্ফিকে রাখাইনের সহিংসতাকবলিত এলাকাগুলোতে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি শুধু ইয়াঙ্গুন গিয়ে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিসহ অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। রাখাইনের রাজধানী সিত্তে গিয়ে গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

ওয়াশিংটনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং লিনকে বৃহস্পতিবার তলব করেন প্যাট্রিক মার্ফি। এ সময় অং লিনকে জানানো হয়, রাখাইনের গ্রামগুলোতে হামলাসহ সেখানকার সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ সময় প্যাট্রিক মার্ফি বলেন, মিয়ানমারের প্রকাশ্যে স্বীকার করা উচিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে।

মিয়ানমারের হেলিকপ্টারের আকাশসীমা লঙ্ঘন, তীব্র প্রতিবাদ ঢাকার-দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারের সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার গত ১০, ১২ ও ১৪ সেপ্টেম্বর আবারো বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এ ঘটনায় ঢাকায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে  শুক্রবার তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমারের সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টারের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র ধরিয়ে দেয়া হয় তার হাতে।  

বাংলাদেশ মিয়ানমারের এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলেছে।  

এর আগে আগস্টের ২৭ ও ২৮ এবং ১ সেপ্টেম্বর কয়েক দফা বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল মিয়ানমারের হেলিকপ্টার। ওই সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মিয়ানমার দূতাবাসে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নোটে প্রতিবাদ জানানো হয়।

সরেজমিন: কাদামাটির সংসারে ক্ষুধার থাবা- দৈনিক সমকাল

অঙ্গে মাখা কাদামাটি। মাটিতেই তারা সাজিয়েছেন সংসার। এমনই এক সংসার, যেখানে রান্নার হাঁড়িটি নেই, নেই ভাত খাওয়ার থালাবাটি; শৌচকর্মে ব্যবহৃত বদনা দিয়েই চলছে পানি পানও। কাদামাটির সংসারেও যে ক্ষুধা থাবা বাড়ায়, পিপাসাও মিটাতে হয়।

বলা বাহুল্য, তারা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা রোহিঙ্গা। ওখানে কোনো যুদ্ধ নেই, তবু নিজ দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আসা এই রোহিঙ্গারা বলছে, 'যুদ্ধত আঁরার ঘরতর ছানখার ঘরি দিইয়ে, আর অইন দিই ঘর পোড়াত দিই ফিললে।' এর অর্থ দাঁড়ায়- যুদ্ধ আমাদের ঘর তছনছ করে দিয়েছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছিলেন, পেছনে স্বজনের লাশ ফেলে এসেছেন, সংসারের খড়কুটোও সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেননি। নিষ্ঠুরতা সয়ে তাদের চোখ-মুখ এখন অভিব্যক্তিহীন। গত ১০ দিন ধরে এই স্বজনহারানোদের গল্প শুনতে শুনতে আমরাও যেন অনুভূতিহীন হয়ে পড়ছি। মনে হচ্ছে- সেই একই গল্প শুনছি, যেমনটা শুনেছিলাম শৈশবে, মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার দিনগুলোয়।

সু চির বিচার ও শাস্তির দাবিতে উত্তাল ঢাকা- দৈনিক যায়যায়দিন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার জন্য দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিচার চেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন। সু চির গণহত্যা বন্ধ করার দাবিতে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে একাধিক সংগঠন এ দাবি জানায়।

বিক্ষোভে নাগরিক পরিষদ ও ভূমিহীন আন্দোলনের নেতারা বলেন, চলমান সংকটে চীন-ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে হবে। এ ছাড়াও গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও সু চির আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের এখনই আরাকান (রাখাইন) রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এবং রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতে হবে। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক দান-অনুদান বরাদ্দ সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগিয়ে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রেসক্লাবে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ গারো সমঅধিকার সংস্থার (গেরাব) নেতারা বলেন, রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন এখনই বন্ধ করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া- দৈনিক মানবজমিন

মিয়ানমারে চলা সামপ্রতিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে প্রায় ৪ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এই সহিংসতা অঞ্চলজুড়ে সামপ্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি করার হুমকিও দিচ্ছে। রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের প্রস্থান উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশে ভারতের মতো দেশগুলোর রাজনীতিকরা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে জনগণের ক্ষোভকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারেন। সামপ্রতিক দিনগুলোতে উল্লিখিত দেশগুলোর কোনো  কোনোটিতে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে সমাবেশও করা হয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদা  

 মুসলিমদের, বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের মুসলিমদেরকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক, সামরিক ও শারীরিকভাবে সাহায্য করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তারা মিয়ানমার সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেছে, মিয়ানমার তাদের অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ৫০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন খালেদা জিয়া- দৈনিক ইনকিলাব

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ৫০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ ও অস্থায়ী ১০টি দেশ এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোকে এই চিঠি দিবেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই এটি করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। চিঠিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ৫দফার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দু’এক দিনের মধ্যে বিশ্বের অর্ধ শতাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে একযোগে এ চিঠি পাঠানো হবে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সামরিক বাহিনীর অভিযান ও উগ্রপন্থী রাখাইনদের নির্মম নির্যাতন ও ব্যাহত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে তাদের প্রবেশে বাধা দেয়া হলে বিএনপি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার দাবি জানিয়েছিল। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ব্যাপক ভিত্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে সরকারকে পরামর্শও দিয়েছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক দল হিসেবে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে বিএনপি।

দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে ছাড় দেয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার- দৈনিক নয়াদিগন্ত

দুর্গাপূজাকে দেশব্যপী উৎসবমুখর ও নিরাপদ করার স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে আমরা সচেষ্ট। কেউ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। কাউকে এক বিন্দু ছাড় দেয়া হবে না।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দুর্গোৎসব-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। কমিশনার বলেন, আপনাদের দায়িত্ব উৎসব উদযাপন করা, ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করা। নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার দায়িত্ব আপনাদের না, নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। পূজায় নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকবে।

চালের কেজি ৭০ টাকা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

রাজধানীর খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়তে বাড়তে ৭০ টাকায় উঠেছে। ভালো মানের নাজির শাইল ও মিনিকেট চাল গতকাল এ দামেই বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে এ দাম ছিল ৬০ টাকা। কিছুটা ভালো মানের মোটা চাল হিসেবে পরিচিত বিআর-২৮ গতকাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১০ টাকা কম। আর স্বর্ণা ও পারিজা গতকাল ৫২ থেকে ৫৩ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে এ চালের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। চালের এ দরবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা দরে। এ ছাড়া ভালো মানের মিনিকেট কেজিতে ৯ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৪ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৬০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৫৮ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, পাইজাম চাল ৫৫ টাকা, বাসমতি ৭২ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের মানুষ- দৈনিক ইত্তেফাক

অস্থির চালের বাজার। বর্তমানে রাজধানীর খুচরাবাজারে ৫০ টাকা কেজির নীচে মোটা চাল নেই বললেই চলে। আর ভালোমানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। এছাড়া বিআর-আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণির ভোক্তারা। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে।  

এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আগামীকাল রবিবার থেকে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রি শুরু করবে সরকার। প্রতি কেজি চাল ১৫ টাকা ও আটা ১৭ টাকায় বিক্রি করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে তা চালু হবে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। চালের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। সরকারের কাছে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রবিবার থেকে সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস চালু হবে। যতদিন পর্যন্ত প্রয়োজন ওএমএস চালু থাকবে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

উন্নয়নে ১২ হাজার কোটি: মমতা- দৈনিক আজকাল

রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর আরও জোর দিতে বাজেটের অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানান, অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালু করার জন্য রাজ্য সরকার একটি প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একথা ঘোষণা করে বলেন, ‘‌রাজ্যে পরিকাঠামো বাড়লে বিনিয়োগ বাড়বে। গত ছ’‌বছরে বাংলা অনেক এগিয়ে গেছে। ভারত সেরা থেকে বিশ্ব সেরা হয়েছে। আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তবু রাজ্য জুড়ে খাদ্য, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, পানীয় জল–সহ সবক্ষেত্রেই আরও উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরে এই প্রকল্পগুলি শেষ হয়ে গেলে বাংলায় স্বর্ণযুগ আসবে।’‌ তিনি বলেন, মুখ্য সচিব মলয় দে–‌‌র নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়েছে। কমিটি এই বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের আর্থিক অবস্থাকে তলানিতে পৌঁছে দিয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০১০–১১ সালে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যয়বরাদ্দ হয়েছিল মাত্র ২২২৫.‌৭৫ কোটি টাকা। এর ফলে রাস্তাঘাট–সহ অন্যান্য পরিকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

সহ-সভাপতির পদ খুইয়ে দলে কার্যত একঘরে মুকুল রায়

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদও খোয়ালেন মুকুল রায়। নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি ২১ জন পদাধিকারীর যে তালিকা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তাতে সহ-সভাপতির পদটিই নেই। ওই পদেই ছিলেন মুকুলবাবু, সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী ও সদ্য প্রয়াত সাংসদ সুলতান আহমেদ। সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ উঠে যাওয়ায় মুকুলবাবু এখন শুধু দলের ওয়ার্কিং কমিটি ও রাজ্য তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য রইলেন।

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে দীর্ঘদিন ছিলেন মুকুলবাবু। দু’বছর আগে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায় তাঁকে সরিয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে আনা হয় ওই পদে। সেই সময়েই জল্পনা ছিল মুকুল নতুন দল গড়ছেন। শেষপর্যন্ত অবশ্য তিনি দলে থেকে যান। আগের মতোই কর্মসূচিতে নেমে পড়েন।

বিশ্ব বাজারে কমলেও দেশে ব্যাপক বাড়ছে তেলের দাম- দৈনিক বর্তমান

পেট্রপণ্যের মৃল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রবল চাপে মোদি সরকার। গত একমাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে সাড়ে সাত টাকা। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ক্রমেই নিম্নগামী। আর অন্যদিকে ভারতের বাজারে ডায়নামিক প্রাইস সিস্টেমের মাধ্যমে পেট্রল ও ডিজেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বিরোধী দলগুলি তো বটেই, সদ্য এনডিএতে যোগ দেওয়া বিজেপির নতুন বন্ধু নীতীশ কুমারও পেট্রল ডিজেলে দাম কমানোর দাবি তোলায় সরকার আরও ফাঁপরে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমছে এবং ভারতে দাম বাড়ছে কেন, এই প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়ে সরকারকে চেপে ধরতে বিরোধীরা মরিয়া। আর সেই কারণে এবার কেন্দ্র নিজেদের দায় এড়াতে প্রস্তাব করছে পেট্রলিয়াম পণ্যকে জিএসটির অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সরকার থেকে বলা হচ্ছে পেট্রপণ্যকে জিএসটির আওতায় আনা হলে পেট্রল, ডিজেলের দাম একলাফে অনেকটা কমে যাবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের দাবি, রাজ্যগুলিই নাকি জিএসটির আওতায় আসতে সম্মত হচ্ছে না।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৬